ডেভিলস কেটল: যে ঝর্নার কোন শেষ নেই

78
ডেভিলস কেটল
Social Share

আস্ত একটা ঝরনা কীভাবে পাথুরে গর্তের খাঁজে গায়েব হয়ে যায়, কোথায় যায় সে ঝরনার জল? এ নিয়ে বছরের পর বছর ধরে জমাট বেঁধেছে রহস্য। যে রহস্যের সমাধান আজও অধরা।

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় একটি সরকারি পার্কের ভেতর দিয়ে বয়ে চলেছে ব্রুল নদী। সে নদীর ঝর্না পরিচিত ডেভিলস কেটল নামে। 

তবে, পার্কের ভিতর একটি পাথরের গর্তে পড়ার পর সেই ঝর্নার পানির আর খোঁজ পাওয়া যায় না কখনো। এই রহস্য সমাধানে মরিয়া অনেকে মরিয়া হলেও সমাধান মেলেনি আজো।

ডেভিলস কেটলের পানি কোথায় যায়? তা জানতে ঝর্ণায় লাঠি, পিংপং বল অথবা জিপিএস যন্ত্র ফেলে দেখেছেন কৌতূহলীরা। তবে সেগুলি আর অন্য কোথাও ভেসে ওঠেনি।

ব্রুল নদীর পূর্ব দিকের অংশটি ৫০ ফুট গভীর একটি ঝর্নায় পরিণত হয়ে আরও নিচে নেমেছে। আর পশ্চিমের অংশটি ঝর্নার আকার নিয়ে একটি পাথুরে গর্তে প্রায় ১০ ফুট তলিয়ে গেছে। 

ডেভিলস কেটল দেখতে বহু উৎসাহীই পার্কে ছুটে গিয়েছেন। ঝর্না কোথায় গিয়ে মেশে, তার ঠিকানা আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করছেন গবেষকরা। 

যেন এর কোনও শেষ নেই। অথচ ঝর্নার পানি আবার গর্ত থেকে উপচেও পড়ছে না। ডেভিলস কেটলের পানি ক্রমশ নিচের দিকে বয়ে চলে যাচ্ছে। কিন্তু কোথায় তা কেউ জানেন না।

গল্প আছে, ঝর্নার মধ্যে আস্ত একটা গাড়ি ফেলে দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু সেটি আর কোথায় ভেসে উঠতে দেখা যায়নি। এমনই সীমাহীন সেই রহস্যময় গর্ত। 

অনেকের দাবি, ওই ঝর্নার পানি নীচের স্তর থেকে বয়ে গিয়ে একটি আলাদা জায়গা দিয়ে বার হয়ে সুপিরিয়র হ্রদে মিশেছে। অথবা তা মাটির নীচে অন্য কোনও জলপথের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, ডেভিলস কেটলের উপরে ও নীচে, দুই স্তরেই একই জলধারা বইছে। ঝর্নার পানি নীচের স্তরের জলপ্রবাহের সঙ্গেই মিশেছে বলেও দাবি তাদের।

নিজেদের তত্ত্ব প্রমাণে ডেভিলস কেটলের জলে একটি পরীক্ষা করার পরিকল্পনাও করেছেন মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিশেষজ্ঞ।

ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডেভিলস কেটলের গর্তের পানিতে ফ্লোরোসেন্ট রঙের রং ফেলে দেওয়া হবে। এর পর তা কোথায় ভেসে ওঠে, সেটি দেখার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তারা। তবে এই পরীক্ষায় রহস্যভেদ হবে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নন অনেকে।