ডলারে জুয়া খেলা হতো আজিজ মোহাম্মাদ ভাইয়ের ক্যাসিনোতে

বিতর্কিত ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মাদ ভাইয়ের গুলশানের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। গতকাল বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। বাড়িটিতে আজিজ মোহাম্মদের ভাই রাজার পরিবার থাকে। আজিজের পরিবার সেখানে থাকে না। ভবনটির তিনটি তলায় অবৈধ সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। সেখানে মদ জড়ো করে পাইকারি বিক্রি করা হচ্ছিল। বাড়ির ছাদে যে ক্যাসিনোটি পাওয়া যায় তাতে ডলারের মাধ্যমে খেলা হতো। সম্প্রতি রাজধানীতে যতগুলো ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, সব জায়গায় দেখা গেছে, খেলা হতো টাকা দিয়ে। কিন্তু এখানে খেলা হতো এক সেন্ট থেকে শুরু করে ১০০ ডলারের কয়েন দিয়ে।

ধারণা করা হচ্ছে, ওই বাড়িতে উচ্চবিত্তশ্রেণির জুয়াড়িরা যেতেন। বাড়ির কক্ষগুলোতে মদ, বিয়ারের সঙ্গে সিসা ও গাঁজা রাখা ছিল। সেগুলো থরে থরে সাজানো ছিল। আজিজ মোহাম্মদ ভাই নিজস্ব লোক দিয়ে এসব পরিচালনা করতেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

গতকাল রবিবার বিকেলে চালানো এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ মদ, গাঁজা, সিসা, বিয়ার ও ক্যাসিনোর সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। ডিএনসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময় সমালোচনায় আসা আজিজ মোহাম্মদ ভাই থাইল্যান্ডে থাকেন বলে তথ্য রয়েছে। গুলশানে তাঁর বাড়িতে গোপনে মাদক ও ক্যাসিনোর কারবার চলছিল। অভিযানের সময় বাসার কেয়ারটেকারসহ নবীন ও পারভেজ নামের দুজনকে আটক করা হয়েছে।

ডিএনসির ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের সহকারী পরিচালক খুরশিদ আলম সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সেখান থেকে বিদেশি ৩৮২ বোতল মদ, ২৪ ক্যান বিয়ার, দুই প্যাকেট সিসা (চার কেজি) ও ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।’ তিনি আরো বলেন, এ ছাড়া এই ভবনে অভিযান চালিয়ে ক্যাসিনো পরিচালনার বিভিন্ন সরঞ্জাম যেমন—কয়েন, কার্ড, গুটি উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া আজিজ মোহাম্মদের ভাই রাজা মোহাম্মদের বাসা থেকে আট বোতল মদ জব্দ করা হয়।

আটক হওয়ার পর নবীন দাবি করেন, সাত-আট বছর ধরে তিনি বাড়িতে কাজ করলেও কখনো আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে দেখেননি। কমপ্লেক্সের মধ্যে দুটি বাড়ির একটির চারতলা ব্যবহার করেন আজিজের স্ত্রী নওরীন। দোতলায় থাকেন আজিজের ভাইয়ের ছেলে। ওই ভবনের অন্য তলায় কেউ থাকে না। আরেক ভবনের পাঁচ ও ছয়তলায় আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের দুই বোন সখিনা মীর আলী ও নুরজাহান হুদা বসবাস করেন। দোতলায় থাকেন বোনের সন্তানরা।

পারভেজ বলেন, তিনি এক মাস আগে এই ভবনের চারতলায় ওঠেন। যে কক্ষে মদ পাওয়া গেছে সেই কক্ষের দিকে যাওয়া তাঁদের ‘নিষেধ ছিল’ বলে দাবি করেন পারভেজ।