ডলারের অস্থিরতা কমাতে মাঠে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

76
Social Share

ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। খোলাবাজারের অস্থিরতা কমাতে মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কঠোর কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অথরাইজড ডিলারসহ (এডি) ব্যাংকগুলোর জন্যও কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পণ্য আমদানির এলসি (ঋণপত্র) খোলার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের তথ্য গোপন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রতি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক সূত্র। এমনকি খোলাবাজারে কেউ কারসাজি করেছে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়াতে রেমিট্যান্স আহরণ ও ফ্রিল্যান্সারদের অর্জিত অর্থ ফরমাল চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে আনার প্রক্রিয়া আরও সহজ করার কথাও ভাবছে সরকার।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর অবস্থানের খবরে এবং নজরদারি বাড়ানোয় দুই দিনের ব্যবধানেই খোলাবাজারে ডলারের দাম কিছুটা কমেছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে দর কমতে শুরু করেছে। এটাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল ডলারসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি বৈঠক করার নির্দেশনা দিয়েছেন। একইভাবে বিলাসী পণ্য আমদানিতে নিয়ন্ত্রণারোপের নির্দেশও দিয়েছেন। দু-এক দিনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করবে এনবিআর ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

জানা গেছে, মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ডলারের দাম ৮ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এটা আরও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতি ডলার ৯৬ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কোথাও কোথাও অবশ্য ৯৭-৯৮ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে। যা সোমবার ১০২ টাকায় উঠেছিল খোলাবাজারে। সোম এবং মঙ্গলবার ব্যাংকিং চ্যানেলেও রেট ছিল ১০০ টাকা ছুঁই ছুঁই। অবশ্য গতকাল এই ফরমাল চ্যানেলেও দাম অনেকটাই কমেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারি বাড়ায় ডলারের সরবরাহও কিছুটা বেড়েছে। দাম বৃদ্ধির খবরে কেউ কেউ ডলার কিনে রেখেছিলেন তারাও এখন ছেড়ে দিচ্ছেন। এটাও বাজারের জন্য ইতিবাচক। তবে কার্ব মার্কেটের একাধিক সূত্র জানায়, অনেকেই অতি মুনাফার লোভে বাজার থেকে গত এক সপ্তাহে বিপুল পরিমাণ ডলার কিনে রেখেছিলেন। হঠাৎ করে দাম পড়ে যাওয়ায় তারা কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকিও বাড়ানো হয়েছে। এমন খবরে অনেকেই আবার কিনে রাখা ডলার ছেড়ে দিচ্ছেন। যার ফলে বাজারে সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। তবে এটাকে স্থায়ী কোনো সমাধান বলে মনে করছেন না বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, ডলারের বাজার স্বাভাবিক রাখতে হলে সরবরাহ বাড়াতে হবে। মার্কেটে স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া কার্ব মার্কেট (খোলাবাজার) এবং ব্যাংকের মধ্যকার রেটের ব্যবধান কমিয়ে আনতে হবে। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বাড়াতে হবে। রেমিট্যান্স বাড়াতে বিদেশে কর্মী পাঠানো আরও সহজ করতে হবে। আবার শ্রমিকরা যেন সহজে অর্থ পাঠাতে পারে এ জন্য তাদের অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে হবে। জানা গেছে, বেশ কিছু দিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমছে। সোমবার বড় দরপতন হয়। এক দিনেই আমেরিকান ডলারের বিপরীতে ৮০ পয়সা দর হারায় টাকা। দেশের ইতিহাসে এর আগে কখনই এক দিনে টাকার এত বড় দরপতন হয়নি। আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে সোমবার ১ ডলারের জন্য ৮৭ টাকা ৫০ পয়সা খরচ করতে হয়। বৃহস্পতিবারও এই একই দামে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজার স্বাভাবিক করতে সব মিলিয়ে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের সোমবার পর্যন্ত সাড়ে ১০ মাসে ৫৫০ কোটি (৫.৫০ বিলিয়ন) ডলারের মতো বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপরও চলতি সপ্তাহের শুরুতেই ডলারের বাজার চলে যায় নিয়ন্ত্রণের বাইরে। প্রতি ডলারের দর ওঠে ১০২ টাকায়। ব্যাংকিং চ্যানেলেও সেঞ্চুরির পথেই হাঁটছিল ডলার। কিন্তু সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি বাড়ায় সপ্তাহের শেষ দিনে ডলারের দাম কমতে শুরু করেছে।