ট্রাম্প থেকে বাইডেন- বিশ্ব ব্যবস্থা ও বাংলাদেশ- মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মাদ আলী শিকদার পিএসসি (অব.)

Social Share

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং তার রাজনীতি নিয়ে যা কিছু ঘটে তার কিছু না কিছু ভালোমন্দ বিশ্বের সব দেশের ওপর পড়ে। ফলে চার বছর পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এলে সারা বিশ্বের মিডিয়ায় ঝড় ওঠে। চিন্তক মানুষ আশা-নিরাশা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নিয়ে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করেন। দর্শক শ্রোতাদের জন্য তার অনেক কিছুই এক ধরনের বিনোদনের মাধ্যম হয়ে ওঠে। আগ্রহ ও বিনোদন, দুটোর মাত্রাই এবার একটু বেশি ছিল। এর সব কৃতিত্ব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। প্রতিবারের মতো এবারও কয়েক মাসজুড়ে পুরো পৃথিবীর মিডিয়ায় অধিকাংশ স্পেস দখল করে রাখে আমেরিকার নির্বাচনী খবর ও বিচার-বিশ্লেষণ। বাংলাদেশের মিডিয়াতেও খবর থাকে, তবে তা অন্যান্য গ্লোবাল মিডিয়ার তুলনায় খুবই সামান্য। বাংলাদেশে এখনো ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন চ্যানেল একটিও হয়নি। এ বছর ৩ নভেম্বর ছিল আমেরিকার ৪৬তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। রিপাবলিকান দলের সিটিং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী ৪৪তম প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভাইস প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। ট্রাম্পের আগ পর্যন্ত ৪৪ জন প্রেসিডেন্টের মধ্যে বেশির ভাগই একনাগাড়ে দুই মেয়াদ পূর্ণ করেছেন, ব্যতিক্রম কেবল মাত্র এক মেয়াদের জন্য ছিলেন ১১ জন, যার সঙ্গে এবার যোগ হচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। গণতন্ত্রের মাহাত্ম্য, বিশালত্ব ও অভিজ্ঞতা হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হেরে গেলে জয়ী দল ও প্রার্থীকে অভিনন্দন জানানো। কিন্তু এবারের নির্বাচনে জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগ তুলে গণতন্ত্র নিয়ে আমেরিকার এতদিনের গর্ব ও মর্যাদাকে ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্য দেশের নির্বাচন নিয়ে কথা বলার অধিকার হারালো আমেরিকা। মেয়াদের সংখ্যা বিবেচনায় সবচেয়ে বড় ব্যতিক্রম ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রপক্ষের বিজয়ী হওয়ার প্রধান কারিগর ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট, যিনি ১৯৩৩ থেকে ৪৫, তিন মেয়াদ পূর্ণ করে চতুর্থবারের জন্য নির্বাচিত হন। কিন্তু শেষবার শপথ নেওয়ার অল্প দিনের মাথায় যুদ্ধের শেষপ্রান্তে ১৯৪৫ সালের ১২ এপ্রিল কর্মরত অবস্থায় নিজ অফিসে স্ট্রোকে মারা যান। প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন থেকে শুরু করে ডোনাল্ড ট্রাম্প পর্যন্ত ২৩১ বছরের ইতিহাসে ৪৫ জন প্রেসিডেন্টের মধ্যে স্বল্পসংখ্যক যে কয়েকজন ভালো-মন্দ কাজের জন্য বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের জন্য এখনো রসদ জুগিয়ে যাচ্ছেন, তার মধ্যে একেবারে ব্যতিক্রমধর্মী ভিন্ন কারণে আগামীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পও থাকবেন। তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, শিষ্টাচারবহির্ভূত ভাষা, চাল-চলন, কথাবার্তা কৌতুক হিসেবে আগামী অনেক দিন লেখক বিশেষকদের রসাত্মক ফিলার জোগাবে। ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে অডিও-ভিডিও কৌতুক ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, হোয়াইট হাউসের অফিসে বিধ্বস্ত ট্রাম্পকে এক বাঙালি বরিশালী ভাষায় সান্ত্বনা দিচ্ছেন, স্যার আপনি বাংলাদেশে চলে আসেন, আমরা আপনাকে সারা জীবন সর্বহারা পার্টির প্রেসিডেন্ট করে রাখব। আরেক বাঙালি নারীকে দেখা যাচ্ছে বরিশালী ভাষায় ট্রাম্পকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছেন। বর্তমান স্ত্রী মেলানিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ডিভোর্স দেবেন বলে মিডিয়ায় বড় খবর বেরিয়েছে। কৌতুক, রস মানব জীবনের সর্বক্ষেত্রেই প্রয়োজন আছে। কিন্তু গত চার বছরে তিনি আমেরিকার অভ্যন্তরে এবং বিশ্ব অঙ্গনে যে জঞ্জাল তৈরি করেছেন তার ভার ৭৮ বছর বয়সী জো-বাইডেন কতখানি বহন করতে পারবেন তা নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। নির্বাচনে হেরে গেলেও ২০১৬ থেকে ট্রাম্প ২০২০ সালে পপুলার ভোট অনেক বেশি পেয়েছেন। তার অর্থ, আমেরিকান ফার্স্ট নামের সস্তা স্লোগান দ্বারা শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদ, ইভেনজেলিক্যাল খ্রিস্টীয় কট্টরবাদ এবং ব্যক্তিগত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ (গান কট্রোল) বিরোধী গোষ্ঠীসমূহকে ট্রাম্প যেভাবে উত্তেজিত ও সংঘবদ্ধ করেছেন, তার পরিণতিতে আগামী দিনে আমেরিকার অভ্যন্তরে বর্ণবাদী দাঙ্গা, যত্রতত্র শুটিংয়ের মাধ্যমে নিরীহ মানুষের জীবনাবসান এবং অভিবাসী, বিশেষ করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে হেইট ক্যাম্পেইন এবং বিদ্বেষ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত কঠিন কাজ হবে। ডেভিড স্যাঙ্গার নামের এক কলামিস্ট ১০ নভেম্বর নিউইয়র্ক টাইমসে লিখেছেন, বোগাস আমেরিকান ফার্স্ট নীতিকে কবর দেওয়াই হবে জো বাইডেনের প্রথম কাজ। কারণ, এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ স্ট্যাটেজিক পার্টনার ইউরোপসহ বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ফাঁকা মাঠের সবকিছুই দখলে নিয়েছে চীন ও রাশিয়া। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকেন্দ্রিক ট্রাম্প প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি), ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি, ২০১৬ সালে কিউবার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল এবং সর্বশেষ কভিড-১৯ এর চরম প্রাদুর্ভাবের সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আমেরিকাকে প্রত্যাহারের মাধ্যমে সুপার পাওয়ারের মর্যাদা ও বৈশ্বিক নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতার যত বড় ক্ষতি ট্রাম্প করেছেন, তা পুনরায় ফিরিয়ে আনতে জো বাইডেন প্রশাসনের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যাবে। করোনাকে বোগাস ও মিডিয়ার প্রপাগান্ডা হিসেবে দেখেছেন ট্রাম্প। তার সূত্রে প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট জো বাইডেন বলেছেন, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র শতকরা চার ভাগের বাস আমেরিকায়। অথচ বিশ্বব্যাপী করোনায় যত মৃত্যু হয়েছে তার শতকরা ২০ ভাগ ঘটেছে আমেরিকায়। আমেরিকা ফার্স্ট এ ক্ষেত্রে লাস্ট হয়েছে। খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ বাইবেলে আছে সবকিছুর জন্য সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বীজ বপন থেকে শুরু করে ফুল, ফল এবং তার থেকে ফসল ঘরে তোলার একটা ঋতু ও সময় থাকে। প্রকৃতির বিধান ভঙ্গ করলে তার সংশোধন বেশির ভাগ সময়ই নতুন করে তৈরি করার চেয়েও কঠিন কাজ হয়। ভুল সংশোধনেরও একটা উপযুক্ত সময় লাগে। পরিপক্ব হওয়ার আগে ডেলিভারি হলে বেবি বিকলাঙ্গ হতে পারে, তেমনি ওভারডিউ হয়ে গেলে বেবিকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়। একটু চোখ বোলাই জো বাইডেনের জন্য কোন কাজটি কত সহজ বা কঠিন হতে পারে। আমার বিশ্লেষণ মতে, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনা, প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে পুনরায় যোগদান এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় ফেরা খুব কঠিন কাজ হবে না। কিন্তু ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন সংকটকে চরম জটিলতার মধ্যে ফেলেছে ট্রাম্পের ইহুদি জামাতা জার্ড কুশনার। ভেবেছে সৌদি আরবের সমর্থন নিয়ে প্যালেস্টাইন ইস্যুকে এমনভাবে নিস্তেজ করা হবে যাতে ভবিষ্যতে সবাই সেটা ভুলে থাকে। জেরুজালেমকে ইসরায়েল রাষ্ট্রের রাজধানীর স্বীকৃতি এবং আমেরিকার দূতাবাস তেলআবিব থেকে সরিয়ে আনাই শুধু ইরানকে শায়েস্তা করার জন্য প্যালেস্টাইন জনগণের স্বার্থকে পদাঘাত করে আরব বিশ্বের সৌদিবলয় ট্রাম্পের পৌরোহিত্যে যেভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে কাতারবন্দী হয়েছে তার থেকে পুনরায় ইসরায়েল-প্যালেস্টাইন শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ বের করা এবং ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে ফিরে যাওয়ার কাজ প্রায় অসম্ভব কিছু বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে। ইসরায়েলের চাওয়ার বিপরীতে যায় এমন কোনো কাজ আমেরিকার কোনো প্রেসিডেন্ট এ পর্যন্ত করতে পারেনি। ২০১৫ সালে বারাক ওবামা যে প্রেক্ষাপটে ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে পেরেছিলেন, সেটি সৌদি আরব-ইসরায়েলের সম্প্রতি কাতারবন্দী হওয়ার মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। গত চার বছরে ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননে ইরানের প্রভাব ও শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিপদের সময় কাছে পাওয়ায় চীনের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। তাতে ইরানের বার্গেইনিং পাওয়ার বৃদ্ধি পেয়েছে। শুরু করি নিজ দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বড় ফ্যাক্টর চীন। হেনরি কিসিঞ্জার লিখিত, হেনরি কিসিঞ্জার অন চায়না গ্রন্থে ১৯৭১ সালে গোপন সফরের সময় চেয়ারম্যান মাও সেতুংয়ের সঙ্গে তার একান্ত অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতার চমকপ্রদ বর্ণনা দিয়েছেন। তাতে দেখা যায়, দুজনই তখন বুঝেছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নকে ভেঙে দেওয়ার কমন লক্ষ্য অর্জিত হওয়ার পর দুই-তিন দশকের মাথায় চীন-আমেরিকান সম্পর্কটা সোভিয়েত-আমেরিকান সম্পর্কের মতোই হবে। দুই নেতা তখন বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের একটা কথা নিয়ে হাস্যরস করেছিলেন। গ্লোবাল রিসার্সের পরিচালক কানাডাবাসী অর্থনীতির অধ্যাপক মাইকেল চোসুডভস্কি লিখিত, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্বরূপ গ্রন্থের আট পৃষ্ঠায় আছে আইনস্টাইন একবার বলেছিলেন, আমি জানি না তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কী রকম অস্ত্র দ্বারা সংঘটিত হবে, তবে চতুর্থ বিশ্বযুদ্ধের অস্ত্র হবে লাঠি আর পাথর। এই সূত্রে মাও সেতুং কিসিঞ্জারকে বলেন, আপনাদের পারমাণবিক বোমায় যদি চীনের ৫০-৬০ কোটি মানুষও নিহত হয়, আর এর অর্ধেক সংখ্যক আমেরিকান যদি চীনের পারমাণবিক বোমায় নিহত হয় তাহলে বেঁচে থাকা চীনের বাকি ৬০ কোটি মানুষ যখন প্রশান্ত মহাসাগর সাঁতরিয়ে আমেরিকায় পৌঁছবে তখন তাদের বাধা দিতে আমেরিকায় কেউ থাকবে না। সুতরাং গত শতকের পঞ্চাশ দশক থেকে ১০০ বছরের দীর্ঘ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তখন পাকিস্তানের সঙ্গে সিয়েটো ও সেন্টো সামরিক চুক্তি এবং তার সূত্রে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে ঘিরে আমেরিকার যে পরিকল্পনা তার কোনো পরিবর্তন এত বছরেও হয়নি।

বরং বর্তমান এতদঞ্চলের ভূরাজনীতির সমীকরণে বাংলাদেশ অন্যতম ফ্রন্টলাইন রাষ্ট্র হওয়ায় সেই গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। নব্বই দশকের শুরু থেকে আমেরিকার প্রস্তাবিত বহু রকমের সামরিক চুক্তিকে বাংলাদেশের কোনো সরকারই গ্রহণ করতে পারেনি। মিয়ানমার পুরোপুরি চীনের কব্জায়। তাই বাংলাদেশ তার ভারসাম্যমূলক নীতি পরিত্যাগে বাধ্য হয় এমন কোনো পদক্ষেপ আমেরিকার আগের প্রশাসন নেয়নি। জো বাইডেনের প্রশাসনও নেবে না সেটাই ধরে নেওয়া যায়। তবে রোহিঙ্গা সংকট জিইয়ে থাকলে চীনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য আমেরিকার হাতে একটা তুরুপের তাস থাকে, যার অন্য ব্যবহারও আমেরিকা করতে পারে। সুতরাং রোহিঙ্গা সংকটের বেলায় আমেরিকার নতুন প্রশাসনও আগের নীতি অনুসরণ করবে। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় আমেরিকার নতুন প্রশাসন আবার প্রকাশ্যে অথবা গোপনে সামনে আনতে পারে। কয়েক দিন আগে আমেরিকার একজন সাবেক কূটনীতিক নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় মন্তব্য করেছেন, বাইডেনের প্রথম চার বছর হবে বারাক ওবামা প্রশাসনের তৃতীয় টার্ম। তাতে ধরে নেওয়া যায় বাইডেন প্রশাসনের ওপর ক্লিনটন পরিবারের একটা প্রভাব থাকবে। ২০০০ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন যে উদ্দেশে বাংলাদেশে এসেছিলেন তা সফল হয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন একেবারে অরাজনৈতিক বিষয়, ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের তদবির নিয়ে ২০১২ সালে বাংলাদেশে আসেন। তারপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে রাষ্ট্রদূত ডেন মজিনার প্রকাশ্যে দৌড়ঝাঁপের কথা সবার মনে আছে। প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলের বাইরেও বাংলাদেশের সুশীল সমাজের কিছু পরিচিত ব্যক্তি, কিছু মিডিয়া ও রাজনীতিকের সংমিশ্রণে একটি পক্ষ আছে, যারা ক্লিনটন পরিবারকে ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে দেখে নেওয়ার গোপন ও প্রকাশ্যে হুমকি বিগত দিনে দিয়েছেন। তারা আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করবে। তবে বিগত দিনের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, আমেরিকার পরিপক্ব গবেষক ও নীতিনির্ধারকগণ তাদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থকে সব সময় প্রাধান্য দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও দেবেন সেটাই সংগত ধারণা। তারপর ২০১২-২০১৪ থেকে ২০২০-২০২১ এর বাংলাদেশের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। সারা বিশ্বের অর্থনীতি যখন নিম্নমুখী তখন বাংলাদেশের অর্থনীতি ঊর্ধ্বমুখী এবং রাজনীতি স্থিতিশীল।  আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নেত্রী শেখ হাসিনার মর্যাদা ও গ্রহণযোগ্যতা অন্য রকম উচ্চতায় উঠেছে।  সুতরাং জো বাইডেনের প্রশাসনও বাংলাদেশের সঙ্গে একটা ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক বজায় রাখবে এটাই প্রত্যাশিত।

►  লেখক : রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

[email protected]