ট্রাম্প-কিম বৈঠকের ফল কী?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের তৃতীয় বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত ছিল না। হঠাৎ আয়োজিত হলেও সেটি ছিল নাটকীয়তা আর উত্তেজনায় ভরা। তবে এই বৈঠকের আনুষ্ঠানিক ফলাফল বা ঘোষণা আসেনি। উভয় পক্ষের বক্তব্য ও বিবৃতি যা এসেছে, তা দুই পক্ষের ব্যক্তিগত ঘোষণা হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছেন পর্যবেক্ষকেরা। তাঁরা বলছেন, কিম-ট্রাম্প শেষ বৈঠকের মাধ্যমে পাঁচটি বিষয় সামনে এসেছে।

সামনে কী ঘটবে?

কিমের সঙ্গে আধা ঘণ্টার বেশি সময় বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা আবার শুরুর বিষয়ে একমত হয়েছেন তাঁরা। এই আলোচনা গত ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামের হ্যানয় সম্মেলনে ভেস্তে যায়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত বছরের জুনে সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প-কিম প্রথম বৈঠকে পরবর্তী আলোচনার সময়সূচি, একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা—সবই ছিল। কিন্তু এবারের বৈঠকে এসবের কিছুই নেই।

পরবর্তী আলোচনায় কারা থাকবেন?

কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করতে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে আলোচনা প্রক্রিয়া থেকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এরপরও ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনায় মার্কিন দলের নেতৃত্ব দেবেন পম্পেও। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে কারা নেতৃত্বে থাকবেন, সেটা অবশ্য স্পষ্ট নয়। সম্প্রতি খবর বেরিয়েছে, ট্রাম্প-কিম দ্বিতীয় বৈঠকের ‘ব্যর্থতার দায়ে’ আলোচনার মধ্যস্থতাকারীদের ছেঁটে ফেলা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে সম্মেলন হবে?

ট্রাম্প সাক্ষাৎ করার আগ্রহ প্রকাশের পর তাতে সাড়া দেন কিম। ওয়াশিংটন এটিকে ‘আকস্মিক সম্মেলন’ আর ওয়াশিংটন ‘ব্যক্তিগত আলোচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এই বৈঠক আয়োজনকে ‘অস্বাভাবিক’ মন্তব্য করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক এক কূটনীতিক। তিনি বলেন, একটি ‘অনমনীয়’ বিষয়কে অপ্রচলিত উপায়ের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কাজেই সামনে আরও বৈঠক হতে পারে।

ওয়াশিংটনে যাবেন কিম?

কিমকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম যদি এই সফরে যান, তাহলে সেটা হবে সবচেয়ে বড় চমক এবং অপ্রত্যাশিত কূটনৈতিক তৎপরতা।

ট্রাম্পের বন্ধু কারা?

কিমকে প্রায়ই বন্ধু বলে থাকেন ট্রাম্প। দুই কোরিয়ার অসামরিকায়িত অঞ্চলে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় কিমের মুখেও ছিল একই কথা। আবার ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনকেও বন্ধু বলেছেন।