ট্রাম্পের বিদায়ে আফগান শান্তি চুক্তি ব্যাহতের শঙ্কা

6
Social Share

ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউস থেকে বিদায় নিতে যাচ্ছেন বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমতাবস্থায় তার এই প্রস্থান আফগান ও তালেবানদের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

afgan taleban leadersদোহায় আফগান ও তালেবান প্রতিনিধিরা, পুরনো ছবি

পাশাপাশি তারা এটাও আশা করছেন যে, নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ওয়াশিংটন এবং যুদ্ধরত তালেবানদের মধ্যে দোহায় শান্তিচুক্তির ‘পর্যালোচনা’ চাইতে পারেন। যার লক্ষ্য যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে ১৯ বছরের সংঘাতের অবসান ঘটানো।

পেশোয়ার ভিত্তিক আফগান বিশেষজ্ঞ রহিমুল্লাহ ইউসুফজাই বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে বলেন, দোহার শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে, বিশেষত আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা। কারণ, আফগান-তালেবান সংলাপ সত্যই অগ্রগতি করছে কি না, সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। উল্টো তাদের মধ্যে সহিংসতা আরো তীব্রতর হয়েছে।

উভয় পক্ষে শান্তির প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সহিংসতায় ওয়াশিংটন এবং তালেবানদের মধ্যে নতুন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নতুন করে সহিংসতা বৃদ্ধি বাইডেন প্রশাসনকে অঞ্চলটি থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের পরিকল্পনা পর্যালোচনা করতে বাধ্য করতে পারে।

donald trump 2020ডোনাল্ড ট্রাম্প

এর আগে গত সোমবার কাতারের দোহায় আন্তঃআফগান শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় দফার আগে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি চুক্তি লঙ্ঘনের জন্য ওয়াশিংটন এবং তালেবানরা একে অপরকে দোষ দিচ্ছে।

এ বিষয়ে তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলছেন, মার্কিন বাহিনী বেসামরিক জোনে তাদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়েছে। এ ধরনের হামলা বন্ধ না হলে প্রতিশোধ নেয়া হবে।

অবশ্য তালেবানদের এসব অভিযোগকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল সনি লেগেট।

প্রসঙ্গত, বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ ১৯ বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর শান্তি আলোচনায় বসে আফগান ও তালেবান। কাতারের রাজধানী দোহায় গত অক্টোবর থেকে এ আলোচনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ২০২১ সালের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সকল মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করারও ঘোষণা দেন তিনি।