টেকসই জ্বালানির বাজার গড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

Social Share

বাংলাদেশসহ ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই ও নিরাপদ জ্বালানির বাজার তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এশিয়ায় ‘অ্যানহ্যান্সিং ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড গ্রোথ থ্রু এনার্জি’ সংক্ষেপে ‘এশিয়া এজ’ নামে ওই উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্র শুরু করেছিল ২০১৮ সালের জুলাই মাসে। যুক্তরাষ্ট্র তার ইন্দো-প্যাসিফিক পরিকল্পনার আওতায় এই ‘এশিয়া এজ’ উদ্যোগের মাধ্যমে অংশীদার দেশগুলোতে অর্থায়ন করছে।

প্রতিযোগিতামূলক এই বাজারে বাংলাদেশ কেন জ্বালানি খাতে অন্যদের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকে বেছে নেবে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানিগুলো সব সময় ব্যবসার চর্চা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের চেষ্টা করে। আমরা বিশ্বাস করি, সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি হলে গুণগত কারণে মার্কিন কম্পানিগুলোই এগিয়ে থাকবে।’ তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানিগুলো কেবল সেরা প্রযুক্তি নিয়েই আসে না, তারা স্থানীয় লোকজনের উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণেও কাজ করে।’

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পের পূর্ণ মেয়াদের দিকে দৃষ্টি দেওয়া সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার হয়তো সবচেয়ে কম খরচের প্রস্তাবটি দেখে এবং বেছে নেয়। কিন্তু প্রকল্পের পূর্ণ মেয়াদের দিকে দৃষ্টি দিলে যুক্তরাষ্ট্রের কম্পানিগুলো বিশ্বে যে কারো সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।

‘এশিয়া এজ’ উদ্যোগ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, জ্বালানি বহুমুখীকরণ ও বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং জ্বালানি অভিগম্যতা বাড়াতে চায়। এই উদ্যোগের চারটি সুনির্দিষ্ট স্ট্র্যাটেজিক লক্ষ্য রয়েছে। এগুলো হলো—মিত্র ও অংশীদারদের জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি; একটি উন্মুক্ত, দক্ষ, নিয়মসিদ্ধ ও স্বচ্ছ জ্বালানি বাজার সৃষ্টি; মুক্ত, ন্যায্য ও পারস্পরিক জ্বালানি বাণিজ্য সম্পর্কের উন্নয়ন এবং সামর্থ্যের মধ্যে ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানির অভিগম্যতা বিস্তৃত করা।

এশিয়া এজে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি সংস্থা সম্পৃক্ত। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নেতৃত্বে এই উদ্যোগে আছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি), জ্বালানি দপ্তর, যুক্তরাষ্ট্রের এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক, বৈদেশিক বেসরকারি বিনিয়োগ করপোরেশন, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা এবং অর্থবিষয়ক দপ্তর।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘এশিয়া এজ’ উদ্যোগের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র তার এই অঞ্চলের অংশীদার দেশগুলোর নিয়ন্ত্রক পরিবেশ ও ক্রয়সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার উন্নয়ন ঘটাবে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রতিযোগিতার সমান ক্ষেত্র তৈরি করবে। এ ছাড়া এই উদ্যোগ জাতীয় ও আঞ্চলিক জ্বালানি বাজার তৈরি করবে এবং বেসরকারি পুঁজিকে উৎসাহিত ও প্রয়োগ করতে উন্নয়ন অর্থায়ন ব্যবহার করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আরো বলেছেন, ‘এশিয়া এজ’ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষিত বিদেশি  ক্রেতাদের মধ্যে ‘বিজনেস-টু-বিজনেস’ যোগাযোগ উৎসাহিত করবে এবং বিদেশি সরকারি ঠিকাদারদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচনে প্রচার চালাবে। এছাড়া এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য ও  সেবা রপ্তানির ক্ষেত্রে যেসব সরকারি কর্মকাণ্ড ও নীতি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে সেগুলো সুরাহা করবে ‘এশিয়া এজ’ উদ্যোগ। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুতায়নের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই ও পাইলট প্রকল্প চালু করবে এবং দেশগুলোকে তাদের জ্বালানি অবকাঠামো আধুনিকায়নে সহায়তা করবে।

‘এশিয়া এজ’ বর্তমানে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাজারে মনোনিবেশ করেছে। দেশগুলোর মধ্যে আছে অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, ভুটান, ব্রুনেই, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, লাওস, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, নিউজিল্যান্ড, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ফোরামের দেশগুলো, পাপুয়া নিউ গিনি, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, পূর্ব তিমুর ও ভিয়েতনাম।