টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বকেয়া গ্যাস বিল আদায় করতে এসে দুই প্রতারক গ্রেপ্তার

51
Social Share

*অভিযোগ পাওয়ার ছয় ঘন্টায় চার্জশীট দিয়েছে পুলিশ*
কাজল আর্য,স্টাফ রিপোর্টার: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তিতাস গ্যাস কোম্পানীর কর্মী পরিচয় দিয়ে গ্রাহকের বকেয়া গ্যাস বিল আদায় করার সময় দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার তাদের আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলা সদরের পোষ্টকামুরী পূর্বপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে গ্রেপ্তারের পর সন্ধা ছয়টায় তিতাস গ্যাস টাঙ্গাইল অফিসের ম্যানেজার আব্দুর রউফ বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার ছয় ঘন্টার মধ্যে তদন্ত শেষ করে রাত পৌনে বারোটায় চার্জশীট দেয় পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ছবুর উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ আহমেদ (৩২) ও কালিহাতি উপজেলার পিচুরিয়া গ্রামের শাসছুদ্দিনের ছেলে রাশেদ তালুকদার (৩৫)।

জানা গেছে, গ্রেপ্তার ফিরোজ ও রাশেদ দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের তিতাস গ্যাস কোম্পানীর কর্মী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে গিয়ে বকেয়া গ্যাস বিল আদায় করে আসছিল। তাদের অভিযানের সময় কেউ গ্যাস বিল দিতে না পারলে তাদের বাসা বাড়ির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেয়া হতো। মঙ্গলবার তারা মির্জাপুর বাজারের বিভিন্ন বাসা বাড়িতে গিয়ে একই কায়দায় বিল আদায় ও হুমকি দিতে থাকে। এ সময় বাসা বাড়ির মালিককে পাওয়া না গেলে তাদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে প্রতারকরা মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও দেয়। পরে তাদের কর্মকান্ড সন্দেহ হলে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাবিবুর রহমান উকিল গিয়ে সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রতারনার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এসময় গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা ৪ হাজার টাকা ও একটি ডায়েরিও তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।

তিতাস গ্যাস টাঙ্গাইল অফিসের ম্যানেজার আব্দুর রউফ জানান জনতার হাতে আটক দুইজন তিতাস গ্যাস কোম্পানীর কেউ নয়। প্রতারনার মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়া তাদের কাজ। তিনি বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন ।

মির্জাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ রিজাউল হক দিপু জানান, সন্ধায় ছয়টায় অভিযোগ পাওয়ার পর মাত্র ছয় ঘন্টা সময়ের মধ্যে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয়া হয়েছে। বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।