ঝাঁজ বাড়ছেই পেঁয়াজের

পেঁয়াজের বাজারের উত্তাপ লাগামহীন বাড়ছে। এক দিনের ব্যবধানে দুই ধরনের পেঁয়াজের দামই কেজিপ্রতি উঠেছে ১১০ টাকায়। বেশ কিছুদিন দেশি পেঁয়াজ ১০০ টাকায় স্থির ছিল। আমদানি করা পেঁয়াজ নেমেছিল ৯০-৯৫ টাকায়। তবে নিত্য এ পণ্যটির দাম আবারও ১১০ টাকায় উঠেছে। অর্থাৎ দেশি পেঁয়াজের প্রতি কেজিতে ১০ টাকা এবং আমদানি করা পেঁয়াজে ১৫-২০ টাকা বেড়েছে। কোথাও কোথাও অবশ্য ১০০ টাকা কেজি দরেও পেঁয়াজ বিক্রি করতে দেখা গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, পেঁয়াজের দাম সহসা কমার কোনো লক্ষণ নেই। বরং আরো যে বাড়বে সেই অবস্থা তৈরি হয়েছে।

গুলশান গুদারাঘাটের মোবারক জেনারেল স্টোরে পেঁয়াজ কিনতে আসেন দুই ব্যক্তি। দেশি পেঁয়াজের দাম জানতে চাইলে দোকানি জানান, ‘দেশি-বিদেশি যাই নেন, একদাম ১১০।’ দুই ব্যক্তি দুজনের মুখের দিকে তাকিয়ে একটু অবাক হলেন। কোনো কথা না বলে এক ব্যক্তি দেখতে ভালো এমন দুটি আমদানি করা পেঁয়াজ হাতে নিয়ে দোকানির ডিজিটাল পাল্লার ওপর রাখলেন। আকারে বড় হওয়ায় দুটি পেঁয়াজের ওজনই দেখা গেল ২১২ গ্রাম। ডিজিটাল মেশিনে ২১.২০ টাকা দাম দেখা গেল। পরে ২০ টাকা দাম মিটিয়ে তাঁরা চলে গেলেন। এই হচ্ছে পেঁয়াজের বাজারের চিত্র।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি আড়ত ঘুরে দেখা যায়, আড়তদাররা দেশি পেঁয়াজ ১০০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ১১০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৯০-৯৫ টাকা, মিসর ও চীনের পেঁয়াজ ৯০-৯৫ টাকায় বিক্রি করছেন। স্বাভাবিকভাবেই খুচরা বিক্রেতারা এই দামের সঙ্গে ১০ টাকা পর্যন্ত যোগ করে বিক্রি করে থাকেন।

কারওয়ান বাজারের এক বিক্রেতা আমিনুল বলেন, ‘এখনো কিছু কিছু ভারতীয় পেঁয়াজ আসছে। তবে সেগুলোর দাম বেশি।’ তবে এই বাজারের আড়ত ঘুরে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি লক্ষ করা যায়নি। টিসিবি বলছে, বর্তমানে পেঁয়াজের যে দাম তা এক মাস আগের তুলনায় প্রায় ৪১ শতাংশ বেশি।