জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করল বাংলাদেশ

মাঠের প্রতিপক্ষ যদিও জিম্বাবুয়ে, তবে অন্তরালে বাংলাদেশ দলের লড়াইটা আসলে ছিল নিজেদের সঙ্গেই। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন যাদের চোখে খেলা করছিল মাস তিনেক আগেও, দেশের মাটিতে তারাই কিনা আফগানিস্তানের কাছে এভাবে আত্মসমর্পণ করে? শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচটি বৃষ্টিতে পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়ায় মনে হচ্ছিল ১ পয়েন্ট হাত থেকে ফসকে গেল, তাদের সঙ্গে তিন ওয়ানডেতে মাথা নুইয়ে হারের পর আফগান ট্র্যাজেডি, হঠাৎ করেই চাঁদের হাট থেকে শ্মশান হয়ে গেল বাংলাদেশ ক্রিকেটের জগত্টা। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে এই জয় সেই অন্ধকারে ফ্লাডলাইটের আলো হয়তো নয়, তবে আলোর একটা মশাল তো বটেই। ৩৯ রানের এই জয় হারানো আত্মবিশ্বাস খানিকটা হলেও ফিরিয়ে দেবে সাকিব আল হাসানের দলকে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটিও তো জিতেছিল বাংলাদেশ, কিন্তু তাতে মিশে ছিল হারের চোখ-রাঙানি। এবারের জয়টা অবশ্য এসেছে হেসেখেলে। টপ অর্ডারে ভালো একটা শুরুর পর দ্রুত তিনটি উইকেট হারিয়ে খানিকটা চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেখান থেকে মুশফিকুর রহিম, মাহমুদ উল্লাহ যেভাবে দলকে বিপদমুক্ত করলেন আর সাকিব যেভাবে বোলারদের ব্যবহার করলেন তাতে জিম্বাবুয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে খেলা শেষের বহু আগেই।

গুরুত্বপূর্ণ টসটা জিতল জিম্বাবুয়ে। কৃত্রিম আলোয় রাতের শিশিরে বাংলাদেশের স্পিনারদের যাতে বল ধরতে অসুবিধা হয়, সে জন্য হ্যামিল্টন মাসাকাদজা বেছে নিলেন ফিল্ডিং। দলে তিনটি পরিবর্তন বাংলাদেশের। সাব্বির রহমান, তাইজুল ইসলাম ও সৌম্য সরকারের জায়গায় অভিষেক নাজমুল হোসেন শান্ত ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের; বছর দুয়েক পর টি-টোয়েন্টিতে ফেরা শফিউল ইসলামেরও। ইনিংসের সূচনায় নামা নাজমুলের টি-টোয়েন্টিতে শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি, আউট হয়ে যান ১১ রানেই। দারুণ শুরুতে বড় ইনিংসের প্রত্যাশা জাগানো লিটন দাস ২২ বলে ৩৮ রান করে আউট হয়ে যান মাদজিভার দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হয়ে। তার আগে অবশ্য বাঁহাতি সিপনার এনদোলভুর ওভারে ছয়, চার ও ছয় মেরে মোট ২০ রান তুলে নেন লিটন। বিনা উইকেটে পঞ্চাশের হাতছানিতেই দলীয় ৪৪ রানে নাজমুল আউট, ৬ বলের মাথায় আউট লিটনও। সাকিবও ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই আউট ছিলেন, কাইল জারভিসের বল তাঁর ব্যাট ছুঁয়েই জমা পড়েছিল উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে।

রিভিউ না থাকায় মাঠের আম্পায়ার তানভীর আহমেদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়ার উপায় ছিল না জারভিসের। ভাগ্যের জোরে বেঁচে যাওয়া সাকিব বিদায় নিলেন ৭ বল পরেই। বার্লের বলে লং অনে দাঁড়ানো শন উইলিয়ামসকে সাকিবের ক্যাচটি নিতে একটুও নড়তে হয়নি। বিনা উইকেটে ৪৪ থেকে ৩ উইকেটে ৫৫, এমন পরিস্থিতিতে মাহমুদ উল্লাহ নেমে প্রথম বলেই ছক্কা মেরে যেন জানান দিলেন, খোলসবন্দি হবে না বাংলাদেশ। হয়ওনি। দুই ভায়রা ভাইয়ের মধ্যে মাঠেও বোঝাপড়া দারুণ। এক রান করে নিয়ে রানের চাকাটা স্থবির হতে দেননি, মওকামতো মেরেছেন বাউন্ডারিও। চতুর্থ উইকেটে ৫৫ বলে ৭৮ রান যোগ করেন দুজনে। ২৬ বলে ৩২ রান করে মুশফিক বিদায় নিলেও মাহমুদ থাকতে চেয়েছিলেন শেষ পর্যন্ত। টি-টোয়েন্টিতে নিজের চতুর্থ হাফসেঞ্চুরি করার পর শেষ ওভারে জারভিসের ফুলটসে ছয় মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন নিজের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি ইনিংস খেলার পর। ৪১ বলে ৬২ রানের ইনিংসের বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মাত্র একটা চার আর পাঁচ পাঁচটা ছয়ের মার!

২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রানের পুঁজি বাঁচাতে শুরুতেই সাফল্য পায় বাংলাদেশ। সাইফ উদ্দিনের করা প্রথম ওভারেই বিদায় ব্রেন্ডন টেলরের, পরের ওভারে বল হাতে এসে সাকিব ফেরান চাকাভাকে। শফিউলের বলে আফিফের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় শন উইলিয়ামসেরও। আগের ম্যাচে হুমকি হয়ে ওঠা বার্লকে কাল ১ রানেই ফিরিয়ে দিয়েছেন শফিউল। এই ম্যাচে অভিষিক্ত আমিনুলের ওপর ছিল উত্সুক দৃষ্টি, লেগ স্পিনার বলে কথা! নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের তৃতীয় বলেই উইকেট আমিনুলের, প্রথম শিকার মুতুম্বুজি। পরের ওভারে এসে নিয়েছেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক মাসাকাদজার উইকেটও। দলীয় ৪৪ রানে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে মাসাকাদজার বিদায়েই নিশ্চিত হয়ে যায় জিম্বাবুয়ের হার। ৩২ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় মুতুম্বামির ৫৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস এরপর শুধু হারের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে।