জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘মুক্তিযুদ্ধ কর্নার’ উদ্বোধন করলেন মেজর (অব.) এ এস এম সামছুল আরেফিন

জাতীয় প্রেসক্লাবের গ্রন্থাগারে যুক্ত হলো ‘মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার ’। আজ ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সবুজ চত্বরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এই কর্ণার উদ্বোধন করা হয়।

দুটি তাক নিয়ে গঠিত এই কর্ণারে মুক্তিযুদ্ধের নানা বিষয়ে প্রায় কয়েক শ বই রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই কর্ণারে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আরও বইপত্র, জার্নাল যুক্ত করা হবে।

সকালে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকবৃন্দ, যাঁদের অনেকে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। ছিলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, মতিউর রহমান, আবুল কালাম আজাদ, মাহফুজ আনাম, সৈয়দ দীদার বখত, হাসান শাহরিয়ার, মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, হারুন হাবীব, মনজুরুল আহসান বুলবুল, স্বপন সাহা, আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, মুনীরুজ্জামান প্রমুখ।
প্রেসক্লাবের লাইব্রেরি ও রেফারেন্স উপকমিটি আয়োজিত এ অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল সোয়া ১০টায় ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ গানটির মধ্যদিয়ে। এর পর শিল্পী স্বপন কুমার দাশ ও শ্রাবণী শর্মার দ্বৈত কণ্ঠে ছিল ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’ গানটি।

স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের স্মৃতিকথা নিয়ে একটি প্রকাশনা বের করার উদ্যোগের কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধে ৯ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.)এ এস এম শামছুল আরেফিন। তিনি তাঁর বক্তব্যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকা অবস্থায় সেখান থেকে পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, পরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর নিরলস গবেষণাকাজে লেগে থাকার কথা শোনান।

শামসুল আরেফিন বলেন, আমরা অনেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি জানতে ও প্রকাশ করতে আগ্রহী। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় যেসব সরকারি কর্মকর্তা বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন, তারা কীভাবে সংগ্রাম করেছেন, সেটাও আজকের প্রজন্মকে জানানো জরুরি। এটা করা হলে সেই সময়ের আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে তিনি অভিমত দেন।
অনুষ্ঠানের অতিথি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম এই মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার উদ্বোধনকে প্রেসক্লাবের ইতিহাসে একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লাইব্রেরি ও রেফারেন্স উপকমিটির আহ্বায়ক শাহনাজ বেগম।

সবুজ চত্বরে মুক্ত আলোচনা শেষে দোতলায় গ্রন্থাগারে ফিতা কেটে মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার উদ্বোধন করেন মেজর (অব.)এ এস এম শামছুল আরেফিনসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকবৃন্দ।