জাতিবিদ্বেষ রুখতে যে বার্তা দিলেন বাইডেন

63
Social Share

দুই মাসে ১০ কোটি মানুষ প্রতিষেধক পেয়েছেন। কথা ছিল করোনাভাইরাস মোকাবিলায় এই সাফল্য নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার। কিন্তু আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বললেন আমেরিকার অন্য এক পুরনো ‘ভাইরাস’-এর কথা। সেটি হল জাতিবিদ্বেষ, যা নিয়ে কখনওই তেমন উচ্চবাচ্য হয় না ওই দেশে।

জর্জিয়ার এশীয়-আমেরিকান সম্প্রদায়ের শোকগ্রস্ত, ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার পর শুক্রবার বাইডেন এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি সংক্ষিপ্ত তবে জোরালো বক্তৃতা দেন। কোনও রকম রাখঢাক না-করে বলেন, এশীয়-আমেরিকানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা হু-হু করে বাড়ছে আমেরিকায়। তার কথায়, “ভিনদেশিদের ঘৃণা করা ও জাতিবিদ্বেষের ঘটনাগুলোকে আমেরিকা আর মেনে নিতে পারে না।”

গত সপ্তাহে আটলান্টার তিনটি ম্যাসাজ পার্লার তথা স্পা-য়ে আট জনকে গুলি করে খুন করেছে ২১ বছরের শ্বেতাঙ্গ যুবক রবার্ট এ লং। তদন্তকারীরা অর্থনৈতিক উদ্বেগ ও যৌন আসক্তিকে এর কারণ হিসেবে চালানোর চেষ্টা করলে অনেকেই তার প্রতিবাদ করেন। বলা হয়, ঘটনাটি তার চেয়েও কিছু বেশি। নিহতদের মধ্যে ছ’জনই এশীয় আমেরিকান নারী।

অনেকেই এই বলে সরব হন যে, এর পিছনে রয়েছে এশীয় আমেরিকান ও নারীদের প্রতি ঘৃণা। প্রেসিডেন্ট বাইডেনও এ দিন বলেন, “এই ঘৃণার বিষ দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। বহু সময়েই এসব নিয়ে নীরব থাকা হয়। কিন্তু নীরব থাকা মানে মেনে নেওয়া। আমাদের বলতেই হবে এসবের কথা। কিছু করতেই হবে।”

জানা গেছে, এশীয় আমেরিকান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপগুলোর বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক আচরণের ৩ হাজার ৮০০টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে গত এক বছরে। কোথাও শারীরিক বা মৌখিক আক্রমণ, কোথাও বৈষম্য বা নাগরিক অধিকার না-দেওয়ার মতো ঘটনা। সমাজকর্মীদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ দায়ের হয় না। চোরাগোপ্তা চলতেই থাকে ঘটনাগুলো।

আটলান্টার হত্যালীলায় স্বজনহারাদের কথা শোনাটা কতটাই হৃদয় বিদারক ছিল, এদিন তা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। জাতিবিদ্বেষ ছড়ানোর প্রশ্নে নাম না-করে পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও একহাত নেন তিনি। চিনে নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম চিহ্নিত হয়েছিল বলে ক্রমাগত সেটিকে চীনা ভাইরাস বলে গিয়েছেন ট্রাম্প। গত বছর এ নিয়ে প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছিল ট্রাম্পকে। বাইডেন এদিন বলেন, “কিছু বললে তার পরিণাম পেতেই হয়। এটা করোনাভাইরাস। সেটাই শেষ কথা।”