জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর আর নেই

Social Share

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোর আর নেই। তিনি আজ সন্ধ্যা ৬ টা ৫৫ মিনিটে তাঁর জন্মস্থান রাজশাহী মহানগরীর একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যাসহ দেশ-বিদেশে বিপুল সংখ্যক গানের ভক্ত রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, রাজশাহী মহানগরীতে বোন শিখা বিশ্বাসের মালিকানাধীন একটি ক্লিনিকে কয়েকদিন ধরে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।
প্রয়াত এন্ড্রু কিশোরের বোনের জামাই প্যাট্রিক বিপুল বিশ্বাস জানান, তিনি ক্যান্সারে ভুগছিলেন। সিঙ্গাপুরে নয় মাস চিকিৎসা শেষে গত ১১ জুন বিশেষ বিমানে তিনি দেশে ফেরেন। দেশে ফিরেই তিনি রাজশাহীতে চলে যান।
শরীরে নানা ধরনের জটিলতা নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছিলেন এই সংগীতশিল্পী। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁর শরীরে নন-হজকিন লিম্ফোমা নামক ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক লিম সুন থাইয়ের অধীনে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। সেখানে কয়েক মাস একনাগাড়ে তাঁর চিকিৎসা চলে। কিছুদিন আগে তিনি দেশে ফেরেন। চলে যান জন্মস্থান রাজশাহীতে।
সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের জন্ম রাজশাহীতে। সেখানেই কেটেছে তাঁর শৈশব ও কৈশোর। এন্ড্রু কিশোর প্রাথমিকভাবে সংগীতের পাঠ শুরু করেন রাজশাহীর আবদুল আজিজ বাচ্চুর কাছে। একসময় গানের নেশায় রাজধানীতে ছুটে আসেন। মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি রবীন্দ্রসংগীত, নজরুল সংগীত, আধুনিক গান, লোকগান ও দেশাত্মবোধক গানে রেডিওর তালিকাভুক্ত শিল্পী হন। ১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রে ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তাঁর কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে এন্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে প্লে­ব্যাক যাত্রা শুরু হয়। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। এন্ড্রু কিশোরের খুব জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘আমার বুকের মধ্যে খানে’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘পদ্মপাতার পানি’, ‘ওগো বিদেশিনী’, ‘তুমি মোর জীবনের ভাবনা’, ‘আমি চিরকাল প্রেমের কাঙাল’ প্রভৃতি। এন্ড্রু কিশোর আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।