জঙ্গি হানায় হত ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী, বদলার হুমকি

2
ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মহসেন ফকরিজাদেহ। -ফাইল ছবি।
Social Share

জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হলেন ইরানের  শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মহসেন ফকরিজাদেহ। শুক্রবার রাতে রাজধানী তেহরানের অদূরে প্রথমে তাঁর গাড়ির উপর হামলা চালানো হয়। পরে মহসেনের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে গুলিযুদ্ধ শুরু হয় জঙ্গিদের। গুলিবিদ্ধ হন মহসেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় মহসেনকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ৩/৪ জন জঙ্গিও নিহত হয়েছে গুলিযুদ্ধে। তেহরান জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত ইজরায়েল।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রওহানি শনিবার বলেছেন, ‘‘ইরানের শত্রুরা যে মহসেনকে ঘৃণা করত, মহসেনকে থামানো যাচ্ছে না দেখে যে চরম হতাশা তাদের গ্রাস করেছিল, এই শহীদের রক্তে হাত ভিজিয়ে তা তারা প্রমাণ করে দিল। মহসেনের চলে যাওয়া আমাদের এগিয়ে যাওয়ার গতি কমাতে পারবে না।’’

ইরানের বিদেশমন্ত্রী মহম্মদ জাভাদ জরিফ এই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ বলে চিহ্নিত করেছেন। এই ঘটনার নিন্দা করার জন্য তিনি অন্য দেশগুলির কাছে আর্জি জানিয়েছেন। ও দিকে, বড় ধরনের প্রত্যাঘাতের হুমকি দিয়েছেন ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সামরিক উপদেষ্টা হোসেন দেহঘান। ইজরায়েল এখনও পর্যন্ত এ ব্যাপারে কিছু বলেনি।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শুক্রবার একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, সশস্ত্র জঙ্গিরা প্রথমে গুলি চালাতে শুরু করে মহসেনের গাড়ি লক্ষ্য করে। তখন মহসেনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা পাল্টা গুলি চালায়। জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিযুদ্ধের সময়ই বুলেটবিদ্ধ হন মহসেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায়  মহসেনকে তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় তেহরান থেকে কিছুটা দূরে দামাবন্দ কাউন্টির আবসার্দ এলাকার একটি হাসপাতালে। সেখানে কিছু ক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানীর।

স্পষ্টই প্রত্যাঘাতের হুমকি ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সামরিক উপদেষ্টা হোসেন দেহঘান বলেছেন, ‘‘এ বার বজ্রাঘাত হবে।’’

ওয়াকিবহাল মহল জানাচ্ছে, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি ভেঙে ইরানের পরমাণু গবেষণা ও উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাণ্ডারি পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক মহসেন গত কয়েক বছর ধরেই চক্ষুশূল হয়ে উঠেছিলেন ইজরায়েলের। ২০১৮ সালে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘‘ওঁর নামটা মনে রাখছি।’’ সেই সময় থেকেই পরমাণু অস্ত্রপ্রসার বন্ধ করার জন্য ইজরায়েল তো বটেই, আমেরিকা-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে চাপ আসতে শুরু করে তেহরানের উপর। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সে দেশের অনেক নেতাই ঠারেঠোরে বোঝাতে শুরু করেন, পরমাণু অস্ত্রে ইরানের স্বয়ম্ভর হয়ে ওঠার চেষ্টাকে সুনজরে দেখা হচ্ছে না। কিন্তু তার পরেও নিরস্ত হননি মহসেন। দেশের প্রধান পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রটির মানোন্নয়নে আরও তৎপর হয়ে ওঠেন তিনি। পরমাণু অস্ত্রে দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠার জন্য ইরানের ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার বাড়িয়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন মহসেন। তেহরান যে কোনও চাপের কাছে মাথা নোয়াবে না, সম্প্রতি তা আরও এক বার স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি এজেন্সি (আইএইএ)-তে ইরানের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত আলি আসঘর সোলতানেই। বলেছিলেন, ‘‘আমরা আর পিছিয়ে আসতে পারছি না।’’

ইরানের বিদেশমন্ত্রী মহম্মদ জাভাদ জরিফ শুক্রবার তাঁর টুইটে এই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস’ বলে নিন্দা করেছেন। এই ঘটনার নিন্দা করার জন্য তিনি অন্য দেশগুলির কাছে আর্জি জানিয়েছেন। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসেন সালামি বলেছেন, ‘‘বিজ্ঞানকে আধুনিক পর্যায়ে উন্নীত করার চেষ্টা করেছিলেন যিনি, তাঁকে হত্যা করা হল। এর চেয়ে নিন্দনীয় আর কী হতে পারে?’’