চীনের উইঘুরে গণহত্যা চলছে: যুক্তরাজ্য

47
Social Share

যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্স প্রথমবারের মতো ঘোষণা করেছে, উত্তর-পশ্চিম চীনে উইঘুর মুসলিম এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চলছে। জিনজিয়াং অঞ্চলের শিবিরগুলোতে দশ লাখের বেশি মানুষকে আটক রাখা হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

তবে হাউস অব কমন্সের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় চীন বলেছে, যুক্তরাজ্যের উচিত অবিলম্বে তাদের ভুল সংশোধন করা।

স্যার আইইন যুক্তরাজ্যের পাঁচজন সংসদ সদস্যের মধ্যে একজন, ‘মিথ্যা ও অপপ্রচার’ চালানোর অভিযোগ যার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চীন। এই বিতর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চীনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া আরেক সংসদ সদস্য নুস ঘানি বলেন, গণহত্যার অর্থ একটি জাতীয়, জাতিগত, জাতিগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে ‘সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস’ করা। তিনি বলেন, ‘গণহত্যার পাঁচটি মানদণ্ডই জিনজিয়াংয়ে সংঘটিত বলে প্রমাণিত। ’

মিস ঘানি বলেন, বন্দীরা ‘নির্মম নির্যাতন পদ্ধতির শিকার, যার মধ্যে রয়েছে ধাতব দণ্ড দিয়ে মারধর, বৈদ্যুতিক শক এবং চাবুক মারা।

তিনি আরও বলেন, উইঘুর অঞ্চলের নারীদের শরীরে জন্ম নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র লাগানো হচ্ছে। এই অপব্যবহার চীনা সরকারের নিজস্ব তথ্য দ্বারা প্রমাণিত। ২০১৪ সালে জিনজিয়াংয়ে নারীদের শরীরে দুই লাখের বেশি জন্ম নিয়ন্ত্রণ ডিভাইস ঢোকানো হয়েছিল। ২০১৮ সালের মধ্যে এটি ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যে চীনা দূতাবাস বলেছে, জিনজিয়াংয়ে ‘গণহত্যা’ হচ্ছে এমন মুষ্টিমেয় কয়েকজন ব্রিটিশ এমপির অযাচিত অভিযোগ শতাব্দীর সবচেয়ে অযৌক্তিক মিথ্যা, চীনা জনগণের প্রতি অপমান এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের স্পষ্ট হস্তক্ষেপের তীব্র বিরোধিতাও করা হয়।

পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী নাইজেল অ্যাডামস জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাজ্য জাতিসংঘের মাধ্যমে বেইজিংয়ের ওপর ‘চাপ বাড়াচ্ছে’। তবে চীন গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং নানা যুক্তি দেখিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি