চিকিৎসার অবহেলায় মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর অভিযোগ স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সংঘর্ষ

73
Social Share

কাজল আর্য, স্টাফ রিপোর্টার: টাঙ্গাইলে চিকিৎসার অবহেলায় নুর-ই-খোদা রায়েজ নামের এক মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটার দিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার হুগড়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা নুর ই খোদা রায়েজ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। স্বজনরা তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে তাকে তাৎক্ষনিক চিকিৎসা সেবা না দিয়ে ফ্লোরে ফেলে রাখা হয়। পরে কর্তব্যরত নার্স একটি ইনজেকশন দিতে হবে বলে স্বজনদের কাছে ৪ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দেয়ার পর অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাকে ইনজেকশন দেয়া হলেও কোন ডাক্তার তাকে দেখেননি। রাত সাড়ে আটটার দিকে মুক্তিযোদ্ধা রায়েজ মারা যান। এ সময় স্বজনরা চিকিৎসার অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে হাসপাতালে ভাংচুর চালায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার বেশ কয়েকজনকে নিয়ে নিহত মুক্তিযোদ্ধার স্বজনদের উপর হামলা চালায়। হামলায় কমপক্ষে ৫ জন আহত হন। পরবর্তীতে লাশ নিয়ে বাড়ি যেতে চাইলে লাশ নিতে বাঁধা দেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম সজিব। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
নিহত মুক্তিযোদ্ধার ছেলে ইমরান বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসায় অবহেলাসহ লাশ নিতে বাঁধা দেয়ায় আরএমওসহ তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন ।
হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন তোফা জানান, তার সামনেই আবাসিক মেডিকেল অফিসার লোকজন নিয়ে নিহত মুক্তিযোদ্ধার স্বজনদের উপর হামলা চালিয়ে লাশ নিতে বাঁধা দেন। তিনিও অভিযুক্ত আরএমও শাস্তি দাবি করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার শফিকুল ইসলাম সজিব। তার দাবী রোগীর স্বজনরা অহেতুক হাসপাতালে ভাংচুর চালিয়েছেন ও নার্সের শরীরে আঘাত করেছেন। এ কারণে উপস্থিত হাসপাতালের স্টাফদের সাথে তাদের হাতাহাতির ঘটনাটি ঘটে।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন জানান, এ ঘটনায় কোন পক্ষই থানায় অভিযোগ করেনি।