চাকরির পেছনে না ছুটে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করুন

তরুণ প্রজন্মকে শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করার, উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতের উন্নয়নে পাঁচটি নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ৯ দিনব্যাপী ‘জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা-২০২০’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।

তরুণদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু একটা পাস করে চাকরির পেছনে ছুটে না বেড়িয়ে ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ জন্য ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনতে যাচ্ছি, সিঙ্গল ডিজিট করা হয়েছে। যাতে করে আমাদের উদ্যোক্তারা ঋণ নিয়ে সুন্দর করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নিয়েছি।’

এসএমই খাতের উন্নয়নে করণীয় হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পাঁচ দফা নির্দেশনার উল্লে করে বলেন, ‘আমাদের ঐতিহ্যবাহী পণ্যের পাশাপাশি উন্নত বিশ্বে ভোক্তাদের চাহিদানির্ভর শতভাগ রপ্তানিমুখী পণ্য উৎপাদনে মনোনিবেশ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, দেশজ কাঁচামাল ব্যবহার করে ভারী শিল্পের পরিপূরক পণ্য এসএমই শিল্পের মাধ্যমে প্রস্তুত করতে হবে। তৃতীয়ত, এসএমই শিল্পের মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতির বিকাশ ঘটাতে হবে। চতুর্থত, কেউ যাতে আমাদের আর সস্তা শ্রমের দেশ মনে না করে, সে জন্য আমাদের দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করতে হবে এবং উচ্চতর মূল্য সংযোজনের লক্ষ্য নিয়ে স্বল্প উৎপাদন খরচের সঙ্গে উন্নত প্রযুক্তির সংযোগ ঘটিয়ে গ্লোবাল ভ্যালু চেইনের অংশীদার হতে হবে।’

প্রযুক্তিনির্ভর এসএমই খাত গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পঞ্চম নির্দেশনায় বলেন, ‘আমাদের দেশীয় বিজ্ঞানী ও গবেষকরা ডিজিটাল, বায়োলজিক্যাল ও ফিজিক্যাল উদ্ভাবনে এগিয়ে রয়েছেন। ভবিষ্যতে উদ্ভাবনী এই তিন ধারার সংমিশ্রণ ঘটাতে হবে। দেশের মাটিতে তা করতে পারলেই আমরা আসন্ন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারব।’

এসএমই পণ্যের (ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প) প্রচার এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের এক ছাদের নিচে নিয়ে আসার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ বছর অষ্টম জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এসএমই ফাউন্ডেশনকে সরকার সব সময় গুরুত্ব দিলেও আশানুরূপ উদ্যোক্তা পাওয়া যায় না বলে আক্ষেপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসএমইর মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশকে বিরাটভাবে উন্নত করতে পারব বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

দেশের মানুষের কর্মসংস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি জানান, সব উন্নয়ন পরিকল্পনা যেন গ্রাম পর্যায় থেকে গ্রহণ করা হয় সেদিকেও সরকার গুরুত্ব দেয়।

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যদি আমরা প্রক্রিয়াজাত করতে পারি তাহলে আমরা বিদেশে রপ্তানিও করতে পারব। যেহেতু মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, আমি সব সময় মনে করি, শুধুমাত্র রপ্তানিমুখী হব না। আমার নিজের দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে হবে। নিজের দেশের ভেতরেও আমার বাজার সৃষ্টি করতে হবে। সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছি, কাজ করে যাচ্ছি।’ পণ্যের নতুন বাজার সৃষ্টির পাশাপাশি কোথায় কোন পণ্যের চাহিদা রয়েছে সেটা খুঁজে বের করতে উদ্যোগী হতে বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আমির হোসেন আমু বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পাঁচজন শিল্প উদ্যোক্তার মাঝে ‘এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার-২০২০’ প্রদান করেন। সূত্র : বাসস।