চাঁদপুরে ইটভাটার জমিতে বিদেশি ফল চাষ

21
Social Share

চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুরে একদা পরিবেশদূষণকারী এক ইটভাটায় এখন সবুজের সমারোহ। সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে সেখানে চাষ হচ্ছে উন্নত জাত ও মানের বিভিন্ন জনপ্রিয় বিদেশি ফল।

চাঁদপুর জেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের শাহতলী এলাকায় ফ্রুটস ভ্যালি নামের এই অ্যাগ্রো প্রকল্পে প্রথমবারেই বাম্পার ফলন হয়েছে বিভিন্ন বিদেশি ফলের। চাঁদপুর জেলাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রচুর ক্রেতা ও দর্শনার্থী আসছেন এই প্রকল্প দেখতে, ফল কিনতে। জেলার শীর্ষ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের লোকজন এই প্রকল্প দেখে মুগ্ধ হয়েছেন।

ফ্রুটস ভ্যালি অ্যাগ্রোতে প্রথম ফসল হিসেবে চাষ করা বিখ্যাত রকমেলন, মাস্কমেলন, হানিডিউ ও আইসবং ইয়েলো নামের হলুদ তরমুজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। ইটখোলার এই জমিতে এমন ফলন দেখে হতবাক হয়েছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও।

এ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রকল্পের মালিক কৃষি উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিন, পেশায় যিনি একজন সিনিয়র সাংবাদিক। ঢাকায় দীর্ঘ ৩৭ বছর তিনি সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত। প্রায় ৬০ বছরের পুরনো পারিবারিক দুটি লাভজনক ইটভাটা বন্ধ করে সেই রুক্ষ জমিতে বিদেশি ফল ফলিয়ে নজির সৃষ্টি করেছেন তিনি। দুর্লভ জাতের বিভিন্ন আম, পারসিমন, ব্লাড অরেঞ্জ, গ্রেপ ফ্রুটস, হলুদ ও লাল ড্রাগন ফল, নতুন জাতের মালটা, কমলা, স্ট্রবেরিসহ বিখ্যাত ক্যান্টালোপ বা রকমেলন চাষ হচ্ছে সেখানে।হেলাল উদ্দিনের দাবি, ফ্রুটস ভ্যালি অ্যাগ্রো প্রকল্পে এমন সব বিদেশি ফলের চাষ হচ্ছে, যা তিনি পুরো দেশেই ছড়িয়ে দিতে পারবেন। এতে বিদেশি ফলের আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং প্রচুর অর্থের সাশ্রয় হবে বলে তিনি আশা করছেন।

প্রকল্পটি সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, অসংখ্য মানুষ প্রকল্পে এসে ভালো দাম দিয়ে গাছ থেকে পাকা ফল কিনছেন। পরিবেশবান্ধব এই অ্যাগ্রো প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে সর্বাধুনিক কৃষি প্রযুক্তি। পানি সেচের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ব্যয়বহুল ডিপ ইরিগেশন পদ্ধতি। এর ফলে প্রতিটি গাছের গোঁড়ায় নিয়মিত নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে। ফল চাষের পাশাপাশি প্রায় দেড় একর আয়তনের ইটভাটার আরেকটি পতিত নিচু জমিতে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের বিদেশি সবজি। এর মধ্যে আছে বিভিন্ন রঙের ক্যাপসিকাম, ব্রোকোলি, চার জাতের চেরি টম্যাটো, কালো টম্যাটো, হলুদ টম্যাটো, ইটালিয়ান জাতের বিচিহীন শসাসহ নানা ধরনের নতুন জাতের ফসল।

ফ্রুটস ভ্যালি অ্যাগ্রো প্রকল্পটি ছয়-সাত মাস আগে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আগে প্রায় আড়াই একর জমি বালু দিয়ে ভরাট করা হয়। এই বালুময় মাঠেই জৈব সার মেশানো মাটির কৃত্রিম টব তৈরি করে বিশ্বখ্যাত সব ফল চাষ শুরু করে চমক সৃষ্টি করেছেন কৃষি উদ্যোক্তা হেলাল উদ্দিন। এখানে এমন অনেক জাতের ফল রয়েছে, যা এদেশে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা প্রথম ফসল।

কালাইয়ে মধ্যপ্রাচ্যের স্কোয়াশ চাষে সফল কৃষক

হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এসব ফলের জাত সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময় অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে আমাকে। জাতগুলো বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী কি না, নিশ্চিত হতে হয়েছে। যখন বিশ্বাস করেছি, প্রতিটি ফলের জাতই বাণিজ্যিকভাবে চাষ করার উপযোগী, তখনই বিনিয়োগের ঝুঁকি নিয়েছি। আমি মনে করি ফ্রুটস ভ্যালি অ্যাগ্রো প্রকল্পটি হবে এদেশের একটি মডেল ফল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।’

চাঁদপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়শা আক্তার বলেন, হেলাল উদ্দিন উদীয়মান উদ্যোক্তা হিসেবে সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে ব্যতিক্রমী বেশ কিছু বিদেশি সুস্বাদু ফল উৎপাদন করছেন। তিনি তার উৎপাদিত ফল ঢাকার বড় কয়েকটি শপিং মলে সরবরাহও করছেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো, পরিবেশবান্ধব জৈব প্রযুক্তিতে এসব ফল উৎপাদন করা হচ্ছে।