চলে গেলেন মাগুরায় জন্ম নেওয়া জনপ্রিয় বাঙালী লেখক নিমাই ভট্টাচার্য…

Social Share

সাংবাদিক শাহিদুল ইসলাম খোকনের ফেসবুকে
ভিনিউজ-
‘মেমসাহেব’, ‘এডিসি’, ‘রাজধানী এক্সপ্রেস’, ‘গোধূলিয়া’ এর স্রষ্টা নিমাই ভট্টাচার্য হিসেবে অনেকেই চেনেন তাঁকে। কিন্তু তিনি যে বাংলাদেশের মাগুরায় জন্ম নেওয়া কৃতি পুরুষ তা কয়জনই বা জানেন!

হ্যা, ১৯৩১ সালে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার (অধুনা বাংলাদেশের) মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার শরশুনা গ্রামে জন্ম নিয়েছিলেন জনপ্রিয় বাঙালী লেখক নিমাই ভট্টাচার্য।

শৈশব কেটেছে বাংলাদেশের গ্রামের বাড়িতে। নিমাই ভট্টাচার্য ভাগ্যের নির্মম অদৃষ্টে সাড়ে তিন বছর বয়সে মাতৃহীন হয়ে ভীষণ কষ্টে পিতার সীমিত আয়ের মধ্যে ভর্তি হন কলকাতা কর্পোরেশনের ফ্রি স্কুলে। কলকাতা রিপন কলেজে কিছুদিন পড়ালেখা করার পর যশোরে ফিরে আসেন। ১৯৪১ সালে তিনি যশোরের সম্মিলনী ইন্সটিটউশনে চতুর্থ শ্রেনীতে ভর্তি হন এবং নবম শ্রেনী পর্যন্ত সেখানে পড়াশোনা করেন। নিমাই ভট্টাচার্যের পিতা সুরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য নিজেও যশোরের সম্মিলনী ইন্সটিটিউশনের ছাত্র এবং পরবর্তীতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন কলকাতা গমনের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত। পরবর্তীতে দেশ বিভাগের পর নিমাই ভট্টাচার্য তাঁর পিতার সাথে পুনরায় কলতায় যান এবং সেখানে আবারো রিপন স্কুলে ভর্তি হন। সেখান থেকে তিনি ১৯৪৮ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন এবং সেখান থেকেই তিনি আই.এ পাস করেন। এবং ১৯৫২ সালে বি.এ পাস করেন।

নিমাই ভট্টাচার্য তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন সাংবাদিকতা দিয়ে। ১৯৫০ সালে ‘লোকসেবক’ পত্রিকার মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর সাংবাদিকতা জীবন। ১৯৬৩ সালে সাপ্তাহিক ‘অমৃত বাজার’ পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস প্রকাশিত হয়। এরপর ওই পত্রিকায় আরও ৪টি উপন্যাস বের হয়। সাংবাদিকতা জীবনের পাশাপাশি তিনি চলে আসেন সাহিত্য জীবনে। সাংবাদিকতা জীবন নিয়ে তাঁকে থাকতে হয়েছে রাজধানী দিল্লিতে দীর্ঘদিন। এ সময় তিনি জওহরলাল নেহরু, লালবাহাদুর শাস্ত্রী, মোরারজি দেশাই ও ইন্দিরা গান্ধীর মতো প্রধানমন্ত্রীর সংস্পর্শে আসেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীদের সফরসঙ্গীও হন।

উপন্যাস, ছোট গল্পের বাইরে নিমাইবাবু লিখেছেন ‘বিপ্লবী বিবেকানন্দ’র মতো বইও। বাংলায় ‘জনপ্রিয় লেখক’ বলতে যা বোঝায়, নিমাই ভট্টাচার্য ছিলেন আক্ষরিক অর্থেই তা-ই। তাঁর লেখা উপন্যাসের সংখ্যা ১৫০-এরও বেশি।

১৯৭২ সালে তাঁর উপন্যাস থেকেই নির্মিত হয় পিনাকী মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ছবি ‘মেমসাহেব’। উত্তমকুমার, অপর্ণা সেন অভিনীত সেই ছবি আজও বাংলা সিনেমার রোম্যান্টিক পর্বের মাইলফলক।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও তিনি ছিলেন পন্ডিত ব্যক্তিত্ব।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেলা ১২টা ১০ মিনিটে কলকাতার টালিগঞ্জের বাড়িতে প্রয়াত হয়েছেন খ্যাতিমান এই বাঙালী লেখক। তিনি বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন। তাঁর তিন পুত্র ও দুই কন্যা বর্তমান। নিমাইবাবুর স্ত্রী ও আরও দুই মেয়ে আগেই প্রয়াত হয়েছেন।

মাগুরা তথা বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে বিনম্র শ্রদ্ধা…