চলতি বছর শিশু ধর্ষণ বেড়েছে ৫৯ শতাংশ

Social Share

চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশে শিশু ধর্ষণের ঘটনা ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিশু হত্যা, ধর্ষণ, যৌন হয়রানিসহ শিশুর ওপর নির্যাতন বন্ধে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার প্রতিনিধিরা।

আজ মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সম্মেলন কক্ষে অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি) আয়োজিত সংলাপে এ আহ্বান প্রতিনিধিরা।

‘চাই শিশুর নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম। এএসডি’র নির্বাহী পরিচালক জামিল এইচ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংলাপে বক্তব্য দেন উৎস বাংলাদেশের মো. শফিকুল ইসলাম, এসওএস শিশু পল্লীর আজিজুর রহমান, এএসডি’র নির্বাহী সদস্য এ কে এম সাইফুজ্জামান প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এএসডি’র প্রজেক্ট ম্যানেজার ইউকেএম ফারহানা সুলতানা।

প্রধান অতিথি নাসিমা বেগম বলেন, শিশু অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি অনেক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যত নিশ্চিত করতে স্বাধীন দেশে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে আরো ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৯ সাল ও ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শিশু হত্যা, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, গৃহকর্মী শিশুর ওপর অত্যাচার এবং নবজাতক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনা বেশি বেড়েছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে ৯০২ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। যা ২০১৮ সালের ১২ মাসে ছিল ৫৭১ জন। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে দেশে শিশু ধর্ষণ বেড়েছে ৫৯ শতাংশ। যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

সংলাপে উত্থাপিত সুপারিশমালায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ‘কোন শিশু পথে থাকবে না’ বাস্তবায়নে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়েছে, সব মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে শিশুশ্রম বন্ধ ও শিক্ষার হার বাড়াতে শিক্ষা বাধ্যতামূলক আইন প্রণয়ন করতে হবে। শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য সরবরাহ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে হবে।

বক্তারা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে শিশু আইন প্রণয়ন করেছিলেন। বর্তমান সরকারও আন্তরিক। কিন্তু দেশে অনেক আইন থাকলেও সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই। তাই আগে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে মনিটরিং জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।