চলছে ভ্যাক্সিন তৈরির লড়াই

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
Social Share

প্রতিষেধক তৈরি নিয়ে বরাবরেই সতর্ক করে আসছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বলছে ‘প্রতিষেধক নিয়ে রাজনীতি করলে, তার দাম গুনতে হবে গোটা দুনিয়াকে’। তবে এসব তোয়াক্কা না করেই রুশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে দিলেন, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের রিপোর্ট হাতে আসার আগেই এ মাসেই বাজারে আসছে তাদের বহু বিতর্কিত প্রতিষেধক ‘স্পুটনিক ভি’।

এদিকে ভ্যাকসিন তৈরি নিয়ে চুপ নেই আমেরিকাও। পাল্টা হুঙ্কার ছেড়েই যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগেই ঘোষণা করেছিলেন, রুশ ও চিনা প্রতিষেধক ছুঁয়েও দেখবে না তাঁর দেশ। কারণ হিসেবে ‘অসম্পূর্ণ ট্রায়াল’ উল্লেখ করেছিলেন। যদিও দু’দিন আগে মার্কিন আধিকারিকদের কথাতে ইঙ্গিত মেলে, রুশ ভ্যাকসিন গ্রহণ না-করলেও, তাদের পথ অনুসরণে নেই কোন বাধা।

তারা জানিয়েছিলেন, তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই মার্কিন সম্ভাব্য ভ্যাকসিনটিকে সরকারি ছাড়পত্র দেওয়ার কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন। কোন সংস্থার ভ্যাকসিনটির কথা তাঁরা ভাবছেন, তা অবশ্য উল্লেখ করেননি কেউই । মঙ্গলবার আবার ট্রাম্প ঘোষণা করলেন, সুইডিশ-ব্রিটিশ সংস্থা অ্যাস্ট্র্যাজেনেকার প্রতিষেধক চ্যাডক্স-১-কে আমেরিকায় তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অনুমতি দেওয়া হবে। ট্রাম্প বলেন, ‘‘এটা ঘোষণা করতে পেরে আমি খুশি।

‘চ্যাডক্স-১’ নামে একটি ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনার ইন্সটিটিউট এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার যৌথ উদ্যোগে।

ভারতেও এর ট্রায়াল শুরুর অনুমতি পেয়েছে পুণের সিরাম ইন্সটিটিউট। এই প্রতিষেধকটি নিয়েই আশার বাণী শোনাচ্ছেন ট্রাম্প।

অ্যাস্ট্রাজেনেকাও জানিয়েছে, আমেরিকা জুড়ে বিভিন্ন জাতি, উপজাতি ও নানা প্রান্তের ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক ট্রায়ালে অংশ নেবেন।

কিন্তু সবশেষে ট্রাম্প দাবি করেন, ভ্যাকসিন ট্রায়াল দেয়ার যে প্রক্রিয়াটি শেষ করতে কয়েক বছর সময় লাগে, সেটা তাঁর সরকার কয়েক মাসের মধ্যে সেরে ফেলছে। এ নিয়েই উঠছে নানা রকম বিতর্ক।

জরুরি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে পরীক্ষাধীন ভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা ভাবছে মার্কিন প্রশাসন, বলে জানিয়েছেন, ‘ইউএস ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর প্রধান স্টিফেন হান । প্রথম ঘোষণার দ্বিতীয় দিনের মাথায় অ্যাস্ট্রাজেনেকাকে নিয়ে ট্রাম্পের ঘোষণায়, জনসাধারণের সন্দেহ যেন বেড়েই চলছে, আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই এই ‘হাঁকডাক’ নয় তো! যদিও সাক্ষাৎকারে হান জানিয়েছিলেন, উপরমহল থেকে তাদের কোনও চাপ দেওয়া হচ্ছে না।

আবার, মস্কোর একটি সংবাদপত্রে রুশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাসকোকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরেই শুরু হয়ে যাচ্ছে প্রতিষেধক সরবরাহ। তবে প্রতিষেধক আপাতত রাশিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। রাশিয়ায় স্কুল-কলেজ খুলে দেয়ায় প্রশাসন চাচ্ছে, চিকিৎসক ও শিক্ষকদের আগে ‘স্পুটনিক ভি’ ভ্যাকসিন দেওয়া হোক। কিন্তু ট্রায়াল শেষ না হওয়ায় অনেকেই প্রতিষেধক নিতে রাজি হচ্ছেন না।