চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে কবরী সরোয়ার

18
Social Share

বিশেষ প্রতিনিধি: তৎকালীন পাকিস্তান এবং স্বাধীনতা উত্তর সময়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে যে ক’জনের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখা আছে তাদের অন্যতম হচ্ছেন নায়িকা কবরী সারওয়ার। পরিচালক সুভাষ দত্তের আবিষ্কার কবরী দীর্ঘ ২৭ বছর দোর্দন্ড প্রতাপে নিজের অভিনয়শৈলীর গুণে চলচ্চিত্র অঙ্গনে টিকে ছিলেন সিনেমা পাগল দর্শকের হৃদয়ের রানী হিসেবে। তারপর পথ ছেড়ে দেন নতুনদের জন্যে। কিন্তু প্রিয় দর্শকের চাহিা মেটাতে এরপর টিভি সিরিজ নাটকে অভিনয় শুরু করেন। টিভির বেশ কিছু অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং উপস্থাপন করেছেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত কবরী বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
অভিনেত্রী ও প্রযোজিকা কবরীর আসল নাম মিনা পাল। চট্টগ্রামের মেয়ে মিনা পাল অর্থাৎ নায়িকা কবরীর মঞ্চে প্রথম আবির্ভাব ঘটে শিশু নৃত্যশিল্পী হিসেবে। ১৯৬৪ সালে কবরীর বয়স যখন ১২/১৩ বছর তখন সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘সুতারাং’ ছবিতে প্রথম অভিনয় করেন কবরী। সুতরাং ছবিতে সফল অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের নজর কাড়তে সক্ষম হন। তারপর শুরু হয় কবীর সামনে এগিয়ে চলা। ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৭ বছরে কবরী সামনে এগিয়ে চলা। ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২৭ বছরে কবরী প্রায় শতাধিক ছবিতে দোর্দ- প্রতাপে অভিনয় করে চলচ্চিত্রের ইতিহাস নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন কবীর। তার অভিনীত প্রায় সকল ছবিই বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করেছে।

নায়িকা কবরী অভিনীত সাড়া জাগানো অসংখ্য ছবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : সোয়ে নদীয় জাগে পানি (১৯৬৮), সাত ভাই চম্পা (১৯৬৮), আবির্ভাব (১৯৬৮), অরুণ বরুণ কিরণ মালা(১৯৬৮), পারুলের সংসার (১৯৬৯), নীল আকাশের নিচে (১৯৬৯), পদ্মী নদীল মাঝি (১৯৬৯), ক খ গ ঘ ঙ (১৯৭০), আঁকাবাঁকা (১৯৭০), বিনিময় (১৯৭০), ঢেউ-এর ঢেউ (১৯৭০), দ্বীপ নেভে নাই (১৯৭০), যে আগুনে পুড়ি (১৯৭০), কাচ কাটা হীরা (১৯৭০), গাঁয়ের বধূ (১৯৭১), জলছবি (১৯৭১), নিজেরে হারায়ে খুঁজি (১৯৭২), রক্তাক্ত বাংলা (১৯৭২), তিতাস একটি নদীর নাম (১৯৭৩), রংবাজ (১৯৭৩), আমার জন্মভূমি (১৯৭৩), যাহা বলিব সত্য বলিব (১৯৭৩), অবাক পৃথিবী (১৯৭৪), সুজন মাঝি (১৯৭৫), লাভ ইন সিমলা (১৯৭৫), রক্ত শপথ (১৯৭৭), রক্তের ডাক (১৯৭৬), সাগর ভাষা (১৯৭৭), ফরিয়াদ (১৯৭৭), দিন যায় কথা থাকে (১৯৭৯), সোনার হরিণ (১৯৭৯), মধুমতি (১৯৭৯), সারেং বউ (১৯৭৮), বধূ বিদায় (১৯৭৮), সোনার তরি (১৯৮১), দেবদাস (১৯৮২), দুই জীবন (১৯৮৮), এবং শেষ ছবি দয়ামায়া (১৯৯১), কবরী সারওয়ার সফল অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশ-বিদেশে সরকারি বেসরকারি সংস্থা থেকে পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার। পেয়েছেন অনেক সম্মাননা। এরমধ্যে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ১৯৭৮ সালে পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (সারেং বউ), বাচসাস পুরস্কার : ১৯৭২ (লালন ফকির), ১৯৭৫ (সুজন মাঝি), ১৯৭৮ (সারেং বউ) এবং ১৯৮৩ সালে পেয়েছেন এফডিসি রজত জয়ন্তী ট্রফি।