চট্টগ্রাম বিশ্ব বাণিজ্যের গেটওয়ে : দোরাইস্বামী

7
Social Share

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেছেন, ‘চারশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ব বাণিজ্যের গেটওয়ে। চট্টগ্রামের সোনালী অতীত রয়েছে। ভবিষ্যতের হিসেবে অর্থনৈতিক দিক থেকে চট্টগ্রামের গুরুত্ব আরও বেশি। চট্টগ্রাম মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এবং এর উজ্জ্বল ইতিহাসও রয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’

আজ রবিবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলী আব্বাসের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জী ও ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাহ উদ্দিন মো. রেজা। বক্তব্যের পর রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

 

ভারতীয় রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যের শুরুতে বলেন, ‘আমি বাংলা বুঝতে পারলেও এখনো সঠিকভাবে বাংলা বলতে পারি না। বাংলা ভাষা শিখছি, সামনে পুরোপুরি শিখে যাবো।’

দোরাইস্বামী আরও বলেন, ‘বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন ভারতও চায়। মিয়ানমার থেকে আসা লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। এটা প্রশংসার দাবি রাখে। রোহিঙ্গাদের এখানে রাখার জন্য যে সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়েছে তা চমৎকার।’

তিনি বলেন, ‘এটা একদম পরিষ্কার আমরা মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসন চাই। সবক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতা থাকবে। তাদের ফিরিয়ে নেয়া বাংলাদেশের সমাজ ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ভারত ও বাংলাদেশের অবস্থানের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।’

সীমান্তে হত্যা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ‘সীমান্তে অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার ৯৫ শতাংশ ঘটে ভারতের সীমান্ত এলাকায়। ৮৭ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে রাত দশটার পরে। এসময় অবৈধ অনুপ্রবেশও ঘটে। এসব ঘটনা বন্ধে সীমান্তে বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উদ্যোগ নেয়া দরকার।’

সভায় অন্যান্যের মধ্যে রাষ্ট্রদূতের সহধর্মিণী মিসেস সঙ্গীতা দোরাইস্বামী, চট্টগ্রামস্থ ভারতের সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ের দ্বিতীয় সচিব শুভাশিষ সিনহা, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মনজুর কাদের মনজু, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রুপম চক্রবর্তী, ক্রীড়া সম্পাদক দেবাশীষ বড়ুয়া দেবু, গ্রন্থাগার সম্পাদক রাশেদ মাহমুদ, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক আইয়ুব আলী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিন্টু চৌধুরী, কার্যকরী সদস্য স ম ইব্রাহীমসহ ক্লাবের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

– বাংলাদেশ প্রতিদিন