চট্টগ্রামের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের আরো উন্নয়নে সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে : নওফেল

Social Share

শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, চট্টগ্রামের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত আগামীতে যেন আরো উন্নত হয় তার জন্য সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে।

শিক্ষা উপমন্ত্রী আজ নগরীর বাকলিয়ায় করোনা চিকিৎসায় ‘মুক্তি আইসোলেশন সেন্টার’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। মূল উদ্যোক্তা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের স্থগিত নির্বাচনের আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, শুধু ফ্লাইওভার নির্মাণ করে উন্নত নগরী গড়া হয়েছে ভাবলে হবেনা। সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মজবুত অবকাঠামো ও উন্নয়ন।
চলমান কোভিড-১৯ পরিস্থিতি সম্পর্কে উপমন্ত্রী বলেন, করোনা পজিটিভ হলেই হাসপাতালে যেতে হয়না। হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নেয়া সম্ভব। করোনা মোকাবেলায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পাওে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গঠনমূলক সংবাদ ভুল-ভ্রান্তিÍ ধরিয়ে দিতে সহায়ক।
তিনি বলেন, করোনা মোকাবেলায় সরকার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু লাখ ছাড়িয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুর হার কম। মানুষ চিকিৎসা পাচ্ছে বলেই এটা সম্ভব হচ্ছে।
নওফেল আরো বলেন, রেজাউল করিম চৌধুরী এখনো রাষ্ট্রীয় কোন দায়িত্বে না থেকেও এগিয়ে এসেছেন। এটা অনেক বড় মানসিকতার পরিচয়। তার কাছে আবেদন থাকবে, তিনি নির্বাচিত হলে চট্টগ্রামে যেন একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল করেন। সারাদেশের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনই প্রথম স্বাস্থ্য্য সেবা নিশ্চিত করতে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আরবান হেলথ কেয়ার করেছেন। “আমি অনুরোধ করবো রেজাউল করিম চৌধুরী নির্বাচিত হলে যেন সে ধারা অব্যাহত রাখেন”।
সভাপতির বক্তব্যে ‘মুক্তি করোনা আইসোলেশন সেন্টার’-এর উদ্যোক্তা মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামে যে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলো আছে সেগুলো সরকারের এত নির্দেশনার পরও মানুষের সাথে স্বাভাবিক আচরণ করছেনা। রোগীরা যথাযথ চিকিৎসা না পেয়ে কষ্ট পাচ্ছে। এসব দেখে আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। নিজে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি মনে করেছি এ সময় মানুষের জন্য কিছু করা দরকার। এ জন্য উদ্যোগটি নিয়েছি। যাতে মানুষকে অক্সিজেনসহ নূন্যতম চিকিৎসা সেবা দিতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই আইসোলেশন সেন্টারে কোভিড রোগীদের পাশাপাশি নন-কোভিড রোগীদেরও চিকিৎসা দেওয়া হবে। অনেক সময় মানুষ ছোটখাটো কিছু সমস্যার জন্য ডাক্তার খুঁজে পায়না। তাই আমরা বাইরে একটা হেল্প ডেস্ক বসাচ্ছি। সেখানে নন- কোভিড রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হবে। রোগীরা সব সেবাই পাবেন বিনামূল্যে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. শেখ শফিউল আজম, বিএমএ’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান, সাবেক সিভিল সার্জন ডা. সরফরাজ খান, বীরমুক্তিযোদ্ধা ফেরদৌস হাফিজ খান রুমু ও এম এ মনছুর, কাউন্সিলর নুরুল হক, হারুন উর রশিদ ও এম. আশরাফুল আলম, শহিদুল আলম শহিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত ১০০ শয্যার মধ্যে বর্তমানে ৭০ শয্যার এই আইসোলেশন সেন্টারে ৮ জন ডাক্তার, ১৬ জন নার্স, ৮ জন ওয়ার্ডবয়, ২ জন আয়া, ২ জন ক্লিনার ও ৪ জন সিকিউরিটি গার্ড নিয়োজিত রয়েছেন।