ঘুরে আসুন হাজি শরীয়তউল্লাহর শরীয়তপুর

29
Social Share

লিয়াকত হোসেন খান:
ফরায়েজি আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ হাজি শরীয়তউল্লাহর নামানুসারে জেলার নাম হয়েছে শরীয়তপুর। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রবিদ শ্রী যোগেশচন্দ্র ঘোষের জন্মস্থান এই শরীয়তপুর জেলায়।
বেড়ানোর জন্য সুন্দর জায়গা শরীয়পুর। এই জেলায় রয়েছে ৭টি উপজেলাÑ শরীয়তপুর সদর, জাজিরা, নাড়িয়া, গোসাইরহাট, ডামুড্যা, ভেদেরগঞ্জ, সখীপুর। আয়তন প্রায় ১,১৮১ বর্গকিলোমিটার। নৈসর্গিক নয়নলোভ সৌন্দর্য খুঁজে পাওয়া যায় এই জেলার সর্বত্র। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত শরীয়তপুর জেলা দেখে তাই অভিভূত হতে হয়। বছরের যে কোনো সময় এখানে যেতে পারেন।
পদ্মীনদীর পাশেই শরীয়তপুর জেলা। নদ-নদী, হাওড়-বাঁওড়, বিল-পুকুরে শোভিত এই জেলা ঘুরে দেখার প্রবল আনন্দ আছে। এখানের বিলঝিল দেখে নাইয়োরি উদাস হয়। বিল-বাঁওড়ের কাজল জলে গলা বাড়িয়ে নাইয়োরির সঙ্গে হেসে হেসে নিসর্গের ভাষায় কথা কয় লাল, নীল, হলুদ, সাদা শাপলা বালিকা। এখানে শস্যক্ষেত দেখার মতো। কত না প্রজাতির পাখির বিচরণ সবুজের প্রান্তরে দুনয়ন ভরিয়ে দেয়।
শরীয়তপুরের পালং, ডামুড্যা, নড়িয়া, জাজিরা, ভেদেরগঞ্জ আর গোসাইরহাটের যেদিকে যাবেন দেখবেন সবুজ-শ্যামল রূপ। সবুজে সবুজে আচ্ছাদিত সর্বত্রই। পদ্মা, মেঘনা, পালং নদী বয়ে গেছে এ জেলার ওপর দিয়ে। এসব নদীই করেছে এখানকার জমি উর্বর, যে কারণে ক্ষেতভরা ফসল জন্মে এখানে।
তাই শরীয়তপুর গিয়ে প্রবল আনন্দ পাবেন। এখানে কয়েকদিন থেকে ফিরে আসতেও মন চাইবে না। ঘুঘু, শ্যামা আরও কত কী পাকির ডাক শুনে নির্জন এলাকায় ছুটে যাবেন। ‘বউ কথা কও’ পাখির ডাক শুনে বলবেন : আহা এমন দেশ তো আর কখনও দেখিনি। এমন মনভোলানো দেশে কেন এর আগে আসিনি!
ঢাকা, ফরিদপুর কিংবা দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে শরীয়তপুর জেলা সদরে যাওয়ার জন্য পবিহন রয়েছে। সড়কপথে ঢাকা থেকে এখানে আসতে চাইলে প্রথমে মাওয়া আসুন। স্পিডবোটে পদ্মার ওপারে গিয়ে বাস ধরে শরীয়তপুর আসবেন।
শরীয়তপুর রাত্রি যাপন করার জন্য কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। শহরখানি মনে হবে গ্রাম গ্রামÑ তাই এখানে থেকে কী যেন এক নির্জন পরিবেশ খুঁজে পাবেন।
শরীয়তপুর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে খানবাহাদুর বাড়ি, ৬ কিলোমিটার দূরে পাচুনিবাড়ি, ভোজেশ্বর পিকনিকট স্পট। ১ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ বালুচরায় রথীন্দ্রকান্ত ঘটক চৌধুরীর বাড়ি, ৭ কিলোমিটার দূরে ঐতিহাসিক মঠÑ এসব ঘুরে দেখুন। এর যেদিকেই যাবেন দেখবেন আঁকাবাঁকা পথ। আর দুইপাশে গাছপালার সমাবেশ। সর্বত্রই সবুজ-শ্যামল। মনে হবে ‘তারা এ দেশের সবুজ ধানের শিষেÑ চিরদিন আছে মিশে’ গানের প্রতিচ্ছবি এই শরীয়তপুর।
রথীকান্দ ঘটক চৌধুরীর বাড়িটি খুবই আকর্ষণীয়। দোতরা এই বাড়ির অভ্যন্তরে একটি পুরনো লাইব্রেরি রয়েছে। তাঁর লেখা দুর্লভ কিছু বই ্েকানে দেখতে পাবেন। শরীয়তপুরের আশপাশে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে আকর্ষণীয় দর্শণীয় কীর্তি দেখুন। পুড়িরহাটের মসজিদ দেখে পদ্মনদীর পাড়ে সুরেশ্বরী হুজুরের বাড়িতে আসুন।
পাগলা মৌরভীর বাড়ি, রামঠাকুরের কীর্তিও দেখার মতো। এসব নড়িয়াতে। শরীয়তপুর থেকে নড়িয়ায় আসতে প্রায় ১ ঘণ্টা সময় লাগবে।
রাজা রায়বল্লভের বাড়ি ছিল শরীয়তপুরে। অনেক আগেই তা পদ্মায় ভেঙে গেছে। এখানেরর ফতেজঙ্গপুরে ঈশা খাঁ ও কেদার রায়ের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল।
নড়িয়ার পাশেই পদ্মা নদী। এখানে ইচ্ছে করে নদীতে নৌবিহার করতে পারেন। নড়িয়াতে আরও দেখবেন ‘সূর্যদীঘল বাড়ি’ গ্রামে আবু ইসহাকের বাড়ি। নড়িয়া থেকে এই বাড়ির দূরত্ব প্রায় ৩ কিলোমিটার। শরীয়তপুরের মধ্যে নড়িয়া উপজেলা খুবই উন্নত। ইচ্ছে করলে নড়িয়াতে গিয়েও দুএক রাত থাকতে পারেন। নড়িয়াতে ঢাকা থেকে সরাসরি বাস যায়। এছাড়া সদরঘাট থেকে লঞ্চ এসে এই নড়িয়ায়।
সুরেশ্বরে গিয়ে এতই ভালো লাগবে যে, কিছুতেই ফিরে আসতে মন চাইবে না। সুরেশ্বরের পীরের জন্মস্থান ও মাজার দেখার স্মৃতি কোনোদিনই মন থেকে সরে যাবে না। মৌলভী জান শরীপের জন্ম সুরেশ্বরে। তিনি ছিলেন পীর। তিনি বিশেষ অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারীও ছিলেন। তাঁর অসংখ্য ভক্ত মুরিদ আজও তাঁর বাক্য পালন করে দ্বীনি খেদমত করছে।
যোগেশচন্দ্র ঘোষের গোসাইরহাটে যেতে পারেন। ১৯১৪ সালে তিনি ঢাকায় বিশ্বখ্যাত সাধনা ঔষধালয় প্রতিষ্ঠা করেন। যোগেশচন্দ্র ঘোষ এই গোসাইরহাটে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
ভেদরগঞ্জে গিয়ে মহিষার দীঘিও দেখতে পারেন।
ধানুকার মনসা বাড়ি, ফতেহজংপুর দুর্গ, কেদারপুরের কেদারবাড়ি, হাটুরিয়ার জমিদারবাড়ি, কার্তিকপুরের জমিদারবাড়ি, বুড়িরহাটের মসজিদ, দক্ষিণ বালুচরা মসজিদ, বিলাসখান মসজিদÑএসব হল শরীয়তপুর জেলার প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রতœসম্পদ। এসব ঘুরে ঘুরে দেখায় প্রবল আনন্দ আছে।
এখানের কোথাও কোথাও দেখবেন কাউন, অড়হর, চিনা, শণপাটÑএসব ফসলের ক্ষেত। নারকেল, বেল, আম, জাম ও কলাগাছের ছড়াছড়ি রয়েছে শরীয়তপুর জেলা জুড়ে। উল্লেখযোগ্য হাটবাজারÑকাজীহাট, ভোজেশ্বরী বাজার, নাড়িয়া বাজার, হাটুরিয়া হাট, সখীপুর হাট, পালং বাজার, আংগারিয়া বাজারÑএসব ঘুরে দেখুন।
শরীয়তপুরের প্রধান নদী কীর্তিনাশা। এই নদী কাছ থেকে দেখে অনেক স্মৃতি খুঁজবেন। কীর্তিনাশা ভেঙে নিয়ে গেছে অসংখ্য স্থাপত্য কীর্তি, যা বুড়োবুড়িদের স্মৃতিতে গেঁথে আছে।
যেভাবে যাবেন : গুলিস্তান থেকে বাসে মাওয়া আসবেন। এবার স্পিডবোটে পদ্মার ওপারে শরীয়তপুর জেলায় আসুন। ওপারে গিয়ে বাস, টেম্পো বা জিপগাড়িতে করে কাজীরহাট। কাজীরহাট থেকে স্কুটারে জাজিরা এসে শরীয়তপুরের বাস পাবেন। এভাবে ভেঙে ভেঙে এলে ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টার মধ্যে শরীয়তপুর জেলাশহরে গিয়ে পৌঁছতে পারবেন।
যেখানে রাত কাটাবেন : রাত যাপন করার জন্য এখানে রয়েছে হোটেল সামাদ, চিকন্দি হোটেল, রাসেদ হোটেল।
হাজি শরীয়তউল্লাহর কথা : হাজি শরীয়তউল্লাহ ১৭৭৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র তেরো বছর বয়সে কলকাতায় চলে যান এবং হুগলির ফুরফুরা শরীফের মাওলানা বাশার আলীর শিষ্য হন। ১৮২০ সালে দেশে ফিরে এসে ফরায়েজি আন্দোলনে শরিক হন। ফরায়েজি আন্দোলনের প্রথম মুসলমান নেতা তিনি। ১৮৪০ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর কবর মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় অবস্থিত।
ঢাকা থেকে সড়কপথে শরীয়তপুরের দূরত্ব ২৩৮ কিলোমিটার।

রাজা সূর্যকুমারের রাজবাড়ি
ফরিদপুরে ছিল একসময়ে রাজবাড়ি থানা। এখন সেই রাজবাড়ি জেলাশহর। নতুন নতুন ভবন নির্মিত হয়ে এসময়ে রাজবাড়ি খুববেশি আকর্ষণীয় হয়েছে। ব্রিটিশ আমল থেকেই রাজবাড়ি রেলস্টেশন হিসেবে সরব ছিল। শহরের কয়েক মাইল উত্তরে গেলেই দেখা যায় পদ্মানদী। অপূর্ব এই জায়গা। রাজবাড়িতে বেশি চোখে পড়ে নদী আর কৃষিপ্রধান সমতল ভূমি। বেড়ানোর জন্য সত্যিই সুন্দর এক জায়গা। এখানে গেলে গ্রামবাংলার চিত্রও খুঁজে পাওয়া যায়।
রাজা সূর্যকুমার রায়ের জমিদারি ছিল একসময়ে রাজবাড়িতে। সেই রাজবাড়ি থেকেই নাম হয়েছে ‘রাজবাড়ি’। পদ্মানদী বয়ে গেছে রাজবাড়ি জেলার ওপর দিয়ে। এ ছাড়াও এই জেলায় রয়েছে জালাঙ্গী, মধুমতি, গড়াই ও চন্দনা নদী। এসব নদীর পলিমাটি দিয়ে এই জেলার অধিকাংশ ভূমি গঠিত। সবুজে সবুজে আচ্ছন্ন রাজবাড়ি জেলা। এর যেদিকে যাবেন সেদিকেই রয়েছে উছলে পড়া সবুজের সমারোহ।
রাজবাড়ি মূলত রেলের শহর। ব্রিটিশ আমল থেকে এখানে রেলস্টেশন রয়েছে।
শহর থেকে উত্তরে কয়েক মাইল দূরে গেলে দেখা যাবে পদ্মানদী। রাস্তার দুধারের সবুজ গাছগাছালি দেখে পদ্মার কাছে যাওয়া সে এক আনন্দের অনুভূতি। বারবার মুগ্ধ হতে হয় পাখির বিচরণ দেখে। ওদের ডাক শুনেও উতলা হতে হয়। ভাবছেন হয়তো রাজবাড়ি বুঝি রাজপ্রাসাদের শহর। আসলে তা নয়। এদেশ সবুজ শ্যামলের দেশ। নয়নভোলানো মনমাতানো দৃশ্য খুঁজে পাবেন রাজবাড়িতে।
ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে রাজবাড়ি আসুন। গাবতলী থেকে বাস ছেড়ে মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যে এখানে এসে পৌঁছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট পেরিয়ে গোয়ালন্দের মোড় হয়ে রাজবাড়ি আসবেন। রাত যাপন করার ব্যবস্থাও আছে এখানে।
একসময় ফরিদপুরের মহকুমা শহর ছিল রাজবাড়ি। এই জেলার পাংশা ও বালিয়াকান্দি জায়গাও দেখার মতো। রাজবাড়ি জেলায় প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রতœসম্পদ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। চাঁদ সওদাগরের ঢিবি, কামাল শাহ আউলিয়ার মাজার, সুফিসাধক শাহ জুঁইয়ের মাজার, মথুরাপুরে প্রাচীন দেউলÑএ সবই হল প্রাচীন নিদর্শন। এছাড়াও রাজবাড়িতে দেখবেন বারবাকপুর জমিদারবাড়ি, রথখোলা, দোলমঞ্চ, রামমন্দির। এসব ঘুরে ঘুরে দেখুন। রাজবাড়িতে ছিল রাজবাড়ি যা অনেক আগেই ধবংশ হয়ে গেছে। ধবংশ করে সেখানে বাড়ি করা হয়েছে। রাজবাড়ির দীঘিটিও দেখার মতো।
রাজবাড়িতে পৌরসভা স্থাপিত হয় ১৯২৩ সালে। ঐতিহ্যগতভাবে এই শহরের সর্বাধিক লোক ছিল হিন্দু এবং লেখাপড়া, সংস্কৃতি, খেলাধুলা এবং অন্যান্য বিষয়ে তাদেরই আধিপত্য ছিল। এই এলাকায় বিভিন্ন সময়ে সুফিসাধকরা ইসলামধর্ম প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা রেখে গেছেন। তারা হলেনÑশাহ পাহলেয়ান, শাহ সাদুল্লাহ, পীরজঙ্গী, খান জাহান আলী। এঁদের সবার কথা রাজবাড়ির মানুষের মুখে-মুখে এখনো ফেরে।
বালিয়াকান্দিতে রয়েছে চৌধুরীবাড়ি ও জমিদারবাড়ি। এসব ঘুরে ঘুরে দেখুন। বালিয়াকান্দিতে যাবেন সড়কপথে বাসে। বালিয়াকান্দি গিয়ে মথুরাপুর দেউল দেখুন। এটি সতেরো শতকের দিকে তৈরি হয়েছিল। যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্যকে যুদ্ধে পরাজিত করার পর সম্রাট আকবরের সেনাপতি রাজা মানসিংহ এটি তৈরি করেছিলেন বিজয়স্তম্ভ হিসেবে। মথুরাপুর দেউল বাংলাদেশের স্থাপত্যের এক অপূর্ব কীর্তি, এটি দেখার সময় ফিরে যাবেন মধ্যযুগে।
একসময়ে রাজবাড়ি ছিল যশোর জেলার অংশ। ১৮১১ সালে ফরিদপুর জেলা সৃষ্টি করে রাজবাড়িকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
রাজবাড়ি জেলার বর্তমান উপজেলাগুলো অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জেলার অন্তর্গত ছিল। পাংশা থানা একসময় পাবনা জেলার অংশ ছিল। ১৮৭১ সালে গোয়ালন্দ মহকুমা গঠিত হলে পাংশা ও রাজবাড়ি এই নতুন মহকুমার সঙ্গে যুক্ত হয়। রাজবাড়িতে মহকুমা সদর দফতর স্থাপতি হয়। ১৯৮৪ সালে রাজবাড়িকে জেলায় উন্নীত করা হয়।
অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে এ জেলার অনেক ব্যক্তি ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত ছিল। সে-সময় এই জেলার বেলগাছি গ্রামে ফকির-সন্ন্যাসীদের প্রধান আখড়া গড়ে তোলা হয়। রথ এলাকায় একটি জীর্ণ ঘর দেখবেন। এটিকে ফকির-সন্ন্যাসীদের বিদ্রোহের স্মৃতিচি‎হ্ন হিসেবে মনে করা হয়।
রাজবাড়ির দিল্লির বাদশাহ মেলা, শ্মশানের মেলা, দুর্গামেলা, শিববাড়ি মেলা দেখবার মতো। মেলা-উৎসবের সময় গেলে প্রবল আনন্দ পাবেন। রাজা সূর্যকুমার ইনস্টিটিউট, আলীপুর বধ্যভূমি, অতন্দ্র প্রহরী ভাস্কর্য, রাজবাড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বালিয়াকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়Ñ এসবও ঘুরে দেখুন।
একসময় এখানে অন্যতম ফসল ছিল নীল ও আউশ ধান। নীল তো বিলুপ্ত হয়ে গেছে, আউশ ধানও এখন বিলুপ্তির পথে।
রাজাবাড়ি কয়েকদিন থাকার পরও ফিরে আসার জন্য মন উতলা হয় না। দেখবেন এখানে প্রায় বাড়িতে গাভী, ছাগল পালন করে এলাকাবাসী দিন দিন সচ্ছল হয়ে উঠছে। রাজবাড়ির সবুজ শ্যামল সৌন্দর্যের টানে বারবার এখানে যেতে ইচ্ছে হবে।
রাজবাড়ি সম্পর্কে তথ্য : ঢাকা থেকে রাজবাড়ি যাওয়ার জন্য রয়েছে সাউদিয়া পরিবহন। সময় লাগে ৩ ঘণ্টা। বাস ছাড়ে গাবতলী থেকে। রাজবাড়ি শহরে থাকার জন্য রয়েছে গুলশান বোর্ডিং, সূর্যবান হোটেল, বসুন্ধরা হোটেল, রাজবাড়ি বোর্ডিং।
ঢাকা থেকে সড়কপথে রাজবাড়ির দূরত্ব ১৩৬ কি.মি। রাজবাড়ি জেলা মোট ৪টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। উপজেলাগুলো হলোÑ রাজবাড়ি সদর, গোয়ালন্দ, পাংশা ও বালিয়াকান্দি। রাজবাড়ি জেলার আয়তন প্রায় ১,১১১৯ বর্গকিলোমিটার।