ঘুরে আসুন লক্ষ্মীনারায়ণের লক্ষ্মীপুর

1212
Social Share

লিয়াতক হোসেন খান: বঙ্গোপসাগর আর মেঘনার মিলনস্থল অবস্থিত লক্ষ্মীপুর জেলা। ১৬২৯ থেকে ১৬৫৮ সালের মধ্যে জমিদার রাজা গৌরকিশোর রায় চৌধুরীর পূর্বপুরুষরা লক্ষ্মীপুরের দালালবাজারে আসেন। রাজা গৌরকিশোর রায় ১৭৬৫ সালে কোম্পানির কাছ থেকে ‘রাজা’ উপাধি পান। তাঁর বংশোর লক্ষ্মীনারায়ণেরর নামানুসারে লক্ষ্মীপুরের নামকরণ হয়।
লক্ষ্মীপুর জেলার উত্তরে চাঁদপুর জেলা, দক্ষিণে নোয়াখালী জেলা, পূর্বে নোয়াখালী এবং পশ্চিমে ভোলা ও বরিশাল জেলা এবং মেঘনা নদী। এই জেলার ওপর দিয়ে মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদী বয়ে গেছে। ৫টি উপজেলা নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর জেলা, এগুলো হলোÑ লক্ষ্মীপুর সদর, রামগঞ্জ, কমলনগর, রায়পুর ও রামগতি। এ জেলার আয়তন প্রায় ১,৪৫৬ বর্গকিলোমিটার।
যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে সড়কপথে গ্রীনল্যান্ড এক্সপ্রেস, আলবারাকা, এস আলম, ইকোনো অথবা ঢাকা এক্সপ্রেসে লক্ষ্মীপুর যেতে পারেন। সময় লাগে সাড়ে ৪ ঘণ্টা। বাস ছাড়ে সায়েদাবাদ থেকে।
যেভাবে যাবেন : লক্ষ্মীপুরে রাত যাপন করার জন্য রয়েছে -হোটেল আবে হায়াত, হোটেল নূর, হোটেল ইন্টারন্যাশনাল, জনতা হোটেল।
যা দেখবেন ও জানবেন : লক্ষ্মীপুরের প্রধান আকর্ষণ দালালবাজার জমিদারবড়ি। পাঁচ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই বাড়ির রাজগেট, প্রাসাদ, অন্দরমহল, অন্দরপুকুর, শান বাঁধানো ঘাট এসব দেখে অতীত যুগে ফিরে যাবেন। লক্ষ্মীনারায়ণ বৈষ্ণবের পুত্র ব্রজবল্লভ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাহচর্যে এখানে আসেন এবং জমিদারি খরিদ করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর বংশধর নলিনীকিশোর রায় চৌধুরী এই জমিদারবাড়ির প্রাচীর, অন্দরমহল, নৃত্যশালা স্থাপন করে আরো আকর্ষণীয় করে তোলেন। এসব ঘুরে ঘুরের দেখুন। দেখবেন অধিকাংশই এখন ধ্বংসের পথে। দালালবাজার লক্ষ্মীপুর জেলা শহর সংলগ্নে একটু দক্ষিণে অবস্থিত। রিকশা নিয়ে এখানে যাবেন। ভাড়া নেবে ২০ টাকা।
লক্ষ্মীপুরকে ‘সৌভাগ্য নগরী’ বলা হয়। লক্ষী মানে সৌভাগ্য, পুর মানে নগর। পূজা-পার্বণে এখানে অনুষ্ঠিত হতো মার্কাস, যাত্রাগান, কবিয়ালের পালা। বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় মেলা বসত লক্ষ্মীপুরের দালালবাজারে। সুদূর কলকাতা থেকে দোকানিরা এখানে এসে দোকান বসাত।
লক্ষ্মীপুর মডেল হাইস্কুলটিও ঘুরে দেখুন। একদা এই স্কুলের মাঠে কবি কাজী নজরুল ইসলাম এসে গিয়েছিলেন ‘ওঠরে চাষী জগৎবাসী’, ‘শিকল পরা ছল’ প্রভৃতি গান।
কপিলাতলী আখড়াটিও দেখার মতো। একদা এখানে মহাত্মগান্ধী ও নেতাজি সুভাষ বসু এসেছিলেন।
এছাড়াও লক্ষ্মীপুরে দেখবেন ঐতিহ্যবাহী তিতা খাঁ জামে মসজিদ, নীলকুঠি সাহেববাড়ি, পুরনো মসজিদ জামে আবদুল্লাহ দেনায়েতপুর, দালালবাজারের খোয়া সাগরদীঘি প্রভৃতি।
খোয়া সাগরদীঘি সাগরের মতো বিশাল না হলেও হ্রদের মতো বড়। লক্ষ্মীপুর শহর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে এই দীঘি। দীঘির চারপাশ ঘিরে রয়েছে লালমাটির ছোট ছোট টিলা। এরপরেই সবুজ প্রান্তর। দীঘিটি দেখে অভিভূত হবেন। দীঘির পাড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ধরে বসে থাকতে ইচ্ছে হবে।
লক্ষ্মীপুর রাজবংশের অন্যতম রাজা খোয়া রামনাথ। তাঁর আমলে ১৭৪৫ থেকে ১৭৫০ সালের মধ্যে এই দীঘি খনন করা হয়। এখানের প্রাকৃতিক শোভা ও সৌন্দর্য আপনার দু-নয়ন ভরিয়ে দেবে।
রায়পুরে গেলে দেখবেন মৎস্যখামার। মাছের পোনা নেয়ার জন্য এখানে অনেকে আসেন।