ঘুরে আসুন ভাটির দেশ কিশোরগঞ্জ

115
Social Share

লিয়াকত হোসেন খান: কিশোরগঞ্জকে বলা হয় ভাটির দেশ। হাওর, বিল রয়েছে এই জেলায়। সর্বত্র যেন সবুজ শ্যামলিমায় আচ্ছন্ন। পাকুন্দিয়া, হোসেনদী ও এগারোসিন্ধুতে রয়েছে ঐতিহাসিক স্থাপত্য কীর্তি যা দেখে মুগ্ধ হবেন। বাংলার প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর বসতবাটি ছিল এই কিশোরগঞ্জের পাতোয়াইর গ্রামে। মন ভুলিয়ে দিতে পরে চন্দ্রাবতীর মঠ, প্রামাণিক ভবন, জঙ্গলবাড়ি, পাগলা মসজিদ, শোলাকিয়া ঈদগাহ, বত্রিশ দীঘি আর শহিদী মসজিদ। বেড়াতে চাইলে ভাটির দেশ কিশোরগঞ্জকে বেছে নিন। এখানে গেলে প্রবল আনন্দ পাবেন। এই জেলায় আরও আছে এগারোসিন্ধুর দুর্গ, সাদ মসজিদ, কুতুবশাহ মসজিদ, বাগশাহী মসজিদ (ইটনা), দিল্লির আখড়া (মিঠামইন), গুড়ট মসজিদ (বাজিতপুর), গোপীনাথ জিওর মন্দির (কাটিয়াদি)।
ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার জন্য আন্তঃনগর ট্রেন এগারোসিন্ধুর রয়েছে। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সকার সাড়ে ৭টায় ছেড়ে এটি বেলা সাড়ে ১২টায় কিশোরগঞ্জে পৌঁছে। মহাখালী থেকে ছাড়ে অনন্যা, ঈশা খাঁ পরিবহন। কিশোরগঞ্জ শহরে রাত যাপন করার জন্য কয়েকটি হোটেল রয়েছে। সরকারি বিভিন্ন বিভাগের গেস্টহাউসও রয়েছে এখানে। ব্র‏হ্মপুত্রের পূর্বতীরে সমৃদ্ধ জনপদের নাম কিশোরগঞ্জ। জনশ্রুতি অনুযায়ী অনুমান করা হয় যে, বর্তমানে ধবংসপ্রাপ্ত বত্রিশ প্রামাণিক পরিবারের প্রয়াত কৃষ্ণদাস প্রামাণিকের ষষ্ঠ ছেলে নন্দকিশোরের ‘কিশোর’ ও তারই প্রতিষ্ঠিত স্থানীয় হাট বা গঞ্জের ‘গঞ্জ’ যোগ হয়ে কিশোরগঞ্জ নামকরণ হয়েছে। এই জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে পুরোনো ব্র‏হ্মপুত্রের মেঘনা, ধলেশ্বরী, কালনী, ধনু, নরসুন্দা, মগরা আর বাউলাই নদী।
গোটা কিশোরগঞ্জ জেলা আকর্ষণীয় জায়গা। সব ঋতুতে এখানে বেড়াতে আনন্দ। শীতের সময়ে এখানের হাওর এলাকায় এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় হেঁটে যাওয়া যায়। বর্ষাকালে আরেক ধরনের মজা। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নৌকায় যেতে হয়। কূলকিনারা পাওয়া যায় না। এমনি এলাকা হল ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম আর নিকলী।
কিশোরগঞ্জ শহরে গিয়ে প্রথমেই দেখুন সুরম্য প্রাসাদ বত্রিশ। এটি অষ্টাদশ শতাব্দীতে নির্মিত হয়। বত্রিশ প্রাসাদ কিশোরগঞ্জের পুরোনো শহরে অবস্থিত। রেলস্টেশন এখান থেকে খুব কাছে। বত্রিশ প্রাসাদ দেখতে গিয়ে খুঁজে পাবেন পুরোনো স্মৃতি। পাশেই বিরাট দীঘি। বিকেলে এর পাশে বেড়াতে পারেন। আখড়া বাজার বহু পুরোনো স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পাশেই বিরাট এক দীঘি। গুরুদয়াল কলেজটিও দেখে নিন।
শাহী মসজিদ ও পাগলা মসজিদ দুটি কিশোরগঞ্জের অন্যতম আকর্ষণ। ঈশা খাঁর বংশধর জমিদারদের বাড়িঘর দেখতে হলে হয়বতনগরের দেওয়ানবাড়িতে আসুন। এখানে রয়েছে পুরোনো আমলের দালানকোঠা। ৬ মাইল দুরের পাতোয়াইর গ্রামে যেতে পারেন। রিকশা নিয়ে এখানে সরাসরি যাওয়া যায়। এখানে ফুলেশ্বরী নদীতীরে একটি মানোরম মঠ রয়েছে। মঠের দেয়ালে অসংখ্য পোড়ামাটির অলংকরণ মঠটিকে সুশোভিত করে তুলেছে। মধ্যযুগের প্রখ্যাত কবি দ্বিজবংশী দাসের কন্যা তথা বাংলার প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী এই মঠ নির্মাণ করেছিলেন। এই গ্রামেই চন্দ্রাবতীর জন্ম। তিনি যে বাসভবনে থাকতেন সেটি এখনও আছে। এটি আর আগের মতো আকর্ষণীয় নয়। চন্দ্রাবতীর নামে একটি স্কুল আছে এই স্কুলটিও দেখে নিন।
জানা যায়, ষোড়শ শতাব্দীর প্রথমদিকে নির্মিত শিবমন্দিরে বসে কবি চন্দ্রাবতী পূজা অর্চনা করতেন আর রামায়ণ লিখতেন। চন্দ্রাবতী ছিলেন চিরকুমারী। ছোটবেলার খেলার সাথী জয়দেবের সঙ্গে তার গভীর প্রেম ছিল। আর সঙ্গে বিয়ে না-হওয়ার কারণেই চন্দ্রাবতী আর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হননি। চন্দ্রাবতীর হস্তলিখিত রামায়ণের পা-ুলিপি আজও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষিত আছে।
জঙ্গলবাড়ি আর এগারোসিন্ধুর ঘুরে দেখুন। প্রাচীন কীর্তিতে ভরপুর এই দুটি জায়গা দেখার সময় অতীত যুগে ফিরে যাবেন। এগারোসিন্ধুর, সাদ মসজিদ, শাহ মোহাম্মদ মসজিদ, মসজিদপাড়া মসজিদ, দূর্গ, রাস্তাঘাট আপনাকে আকৃষ্ট করবে। ঈশা খাঁর আমলের দুর্গও আছে এখানে।

ভাঙা কেল্লায় ওড়ে নিশান…
“ঈশায় পতাকারতলে শুনিয়া সুনাম/মিলে এথা গুণীজনে যথাযোগ্য কাম/ নেই কোন ভেদাভেদ জাতি নির্বিশেষে/ বিচারে অপেক্ষাত প্রজা সদা ঘোষে।” কবিতার এ চরণগুলো শোনা যায় জঙ্গলবাড়িতে এলে। জঙ্গল নয়, তবু নাম হয়েছে জঙ্গল। জঙ্গলবাড়ির কোচরাজা লক্ষণ সিংহ হাজরাকে ১৫৮০ খ্রিস্টাব্দে পরাজিত করে ঈশা খাঁ ভাটি বাংলার জঙ্গলবাড়িতে কথা আজ ক’জনই বা জানেন। আসুন না একবার জঙ্গলবাড়িতে দেখে যান ঈশা খাঁর ঐতিহাসিক স্থাপত্য স্থাপত্য কীর্তি। এখানে এলে মনে পড়বেই কাজী নজরুল ইসলামের লেখা-‘বাজিছে দামামা বাঁধরে আমামা…নয়া জমানার দাওয়াত এসেছে ভাঙ্গা কেল্লায় ওড়ে নিশান…’ গানের এই কথাগুলো।
জঙ্গলবাড়ির অবস্থান জেলা শহর কিশোরগঞ্জ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে। কিশোরগঞ্জ-করিমগঞ্জ সড়কের পাশেই এই জঙ্গলবাড়ি। এখানে দেখবেন ধবংশাবশেষ দরবারহল, তিনগম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ। দুর্গগুলো সবই কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের জঙ্গলবাড়ি গ্রামে অবস্থিত। এখানে এখন আছে কত-না গাছগাছালি। সর্বত্রই সবুজ শ্যামালিমায় আচ্ছন্ন। এসবই জঙ্গলবাড়িকে স্নিগ্ধ ও মনোরম করে তুলেছে। এখানে এখন বসবাস করছেন ঈশা খাঁর ১৪তম অধস্তন পুরুষদের বংশধররা। দরবারহলটি দেখতে বেশ ভালোই লাগবে। যদিও এটি জীর্ণ অবস্থায় রয়েছে তবুও এটি কম আকর্ষণীয় নয়।
জেলাশহর কিশোরগঞ্জ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে পাকুন্দিয়া উপজেলায় এগারোসিন্ধু গ্রামে পৌঁছতে হলে আপনাকে প্রথমে মঠখলা বাজার পর্যন্ত বাস-রিকশায় আসতে হবে। এরপর পায়ে হেঁটে দুর্গস্থলে আসবেন। এখানে পাঠান, মোঘল ও ব্রিটিশদের পদচি‎হ্ন মিশে রয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের শাখানদী রানী, শীতলক্ষ্যা, আড়িয়াল খাঁ, পিয়ারা, সুন্দরী প্রভৃতি নদীর সংগমস্থলে এগারোসিন্ধু দুর্গ। একদা বিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা হজরত শাহ জালাল (র.)-এর সঙ্গে দেখা করার পথে এগারোসিন্ধু হয়ে সোনারগাঁর দিকে গিয়েছিলেন।
কিশোরগঞ্জ শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে রয়েছে বৌলাই জমিদারবাড়ি। এখানের জমিদারবাড়িটিও ঘুরে দেখার মতো। একদা ভাটি অঞ্চলে জমিদারশ্রেণীর মধ্যে বৌলাইয়ের উচ্চমর্যাদা ছিল। দিল্লী থেকে আগত রাজকর্মচারী শেখ মো. করিম খান এ জমিদার-বংশের গোড়াপত্তন করেন। কিশোরগঞ্জ শহর তেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে চামড়া বন্দর। হাওর অঞ্চলের গেটওয়ে বলা হয় এ জায়গাকে। এখানে গিয়ে নৌকা ভাড়া করে হাওর থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন।
হাওর এলাকা বলেই কিশোরগঞ্জে রয়েছে নানা জাতের মাছ। মাছের দেশও বলা হয় কিশোরগঞ্জকে। হাওর-বিলে যে যখন পারে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেÑএজন্য দিন দিন হাওর এলাকার মৎস্যসম্পদ বিলুপ্ত হতে চলেছে। একটি নির্দিষ্ট সময়েই মাছধরা বন্ধ রাখা হলে মৎস্যসম্পদকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
হাঁস পালনের জন্য কিশোরগঞ্জ এক সমৃদ্ধ এলাকা। এখানে হাওর-বিলের প্রতিটি ঘরে হাঁস পালন করা হয়। কোনো কোনো বাড়িতে ২০০ থেকে ৩০০ পর্যন্ত হাঁস পালন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে নিয়েছে। এই হাওর এলাকায় একটি বৃহৎ হাঁসের খামারও হতে পারে।
কিশোরগঞ্জের যেদিকে যাবেন সেদিকেই দেখবেন সবুজ-শ্যামল রূপ। শুনবেন কত-না পাখির ডাক। অলস দুপুরে ঘুঘুর ডাক শুনে ঘুঘুকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠবেন। এমন শ্যামল শোভার দেশ দেখে এতই মুগ্ধ হবেন যে, বারবার কিশোরগঞ্জে যাবার জন্য উতলা হবেন।
কিশোরগঞ্জ শহরে যেখানে থাকবেন : এই শহরে রাত যাপন করার জন্য হোটেল ড্রিম, গোল্ডেন, প্রিন্স হোটেল, মোবারক হোটেল, গাংচিল, নিরালা রয়েছে। সরকারি বিভিন্ন বিভাগের গেস্টহাউস রয়েছে। অনুমতি নিয়ে সেখানে থাকা যায়।
হাওরে বেড়ানো : কিশোরগঞ্জের হাওরে বেড়ানো একধরনের মজা। জ্যৈষ্ঠ থেকে অগ্রহায়ণ পর্যন্ত হাওর বিল থাকে পানির নিচে। ঐ সময় ৫ থেকে ৬ দিনের রসদ নিয়ে ইটনা, মিঠামইন, নিকলির দিকে যেতে পারেন। ইটনা খুবই আকর্ষণীয় জায়গা। এখানে দেখবেন গুপ্তবাড়ি, রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী দেবব্রত বিশ্বাসের ‘বিশ্বাসবাড়ি’।
কিশোরগঞ্জের কৃতী সন্তান : এই জেলার কৃতী সন্তানরা হলেন কবি চন্দ্রাবতী, সত্যজিৎ রায়, কেদারনাথ মজুমদার, ড. নীহাররঞ্জন রায়, নীরদ চৌধুরী, উপেন্দ্রকিশোর রায়, সুকুমার রায়, সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
অন্যান্য তথ্য : কিশোরগঞ্জ জেলার উপজেলা ১৩টি। এগুলো হল কিশোরগঞ্জ সদর, করিমগঞ্জ, পাকুন্দিয়া, হোসেনপুর, বাজিতপুর, ইটনা, মিঠামইন, তাড়াইল, কাটিয়াদি, কুলিয়ারচর, ভৈরববাজার, নিকলি আর অষ্টগ্রাম। এই জেলার আয়তন প্রায় ২,৬৮৯ বর্গকিলোমিটার। হাওরের উল্লেখযোগ্য জায়গাগুলো হল মৃগা, বাদলা, জয়াসিদি, কাটাখাল, খাগরা, আলংজুরি, ঘোষদীঘি, গুরাই, হুমাইপুর, সুতারপাড়া, বড়িবাড়ি, কয়ারপুর ও আদমপুর।
অষ্টাদশ শতকে নবাব সিরাজউদ্দৌলার কাছ থেকে কিশোরগঞ্জের প্রসিদ্ধ মসলিন নির্মাতা কৃষ্ণদাস বসাক বত্রিশ পরগণার উপাধি। বর্তমান কিশোরগঞ্জ শহরের দক্ষিণে তিনি একটি সুরম্য তিনতলা প্রাসাদও নির্মাণ করেন।
হাওর-বিল-অধ্যুষিত কিশোরগঞ্জ একসময় বৃহত্তর ময়মনসিংহের একটি মহকুমা শহর ছিল। এরই একদিকে নরসুন্দা আর অপরদিকে সোমেশ্বরী একসময় দুকূল ছাপিয়ে বয়ে চলত। তারই ঠিক মাঝখানে ছিল কিশোরগঞ্জ। ঠিক যেন দ্বীপের মতো। সেই যুগে নানারকম পণ্যসামগ্রী নিয়ে কিশোরগঞ্জের ঘাটে ভিড়ত পালতোলা বিদেশী বণিকদের জাহাজ। নরসুন্দার সেই অবস্থা আর নেই।
মেঘনা তীরের উলুকান্দি
“ঐ যে ভরা নদীর বাঁকে, কাশের বনের ফাঁকে ফাঁকে, দেখা যায় যে ঘরখানি, সেথায় বঁধূ থাকে লো সেথায় বঁধূ থাকে…”-ভৈরবের মেঘনা নদীতে বেড়ালে একরকম দৃশ্য বারবার চোখে ভাসবে। মেঘনার পশ্চিমে ভৈরব আর পূর্বে আশুগঞ্জ। ১৮০০ সালে নদী থেকে জেগে ওঠা ভৈরবের জনপথটি ছিল উলুখাগড়ার বনে ঘেরা। একসময় উলুকান্দি নাম ছিল। পরে জমিদার ভৈরব রায় এখানে বসতি স্থাপন করলে নাম হয়ে গেল ভৈরব। মেঘনাবিধৌত ভৈরব নদীবন্দর, রেলওয়ে জংশন এবং স্থলবন্দর সমৃদ্ধ এই ভৈরবে কয়েকদিন বেড়ালে প্রবল আনন্দ পাবেন।
যেভাবে থাকবেন : ঢাকা থেকে ৭৮ কিলোমিটার দূরে ভৈরব। সড়কপথে বাসে এবং রেলপথে ট্রেনে এখানে যাবেন। ঢাকা থেকে ভৈরব সড়কপথে যেতে ২ ঘণ্টা সময় লাগে। বিআরটিসির আসে ভাড়া ৭০ টাকা। বাস ছাড়ে ঢাকার ফুলবাড়িয়া ও কমলাপুর থেকে। তবে যাত্রাবাড়ি ও সায়েদাবাদ থেকেও বিআরটিসির বাসে ওঠা যাবে।
কোথায় থাকবেন : থাকার জন্য ভৈরবে রয়েছে হোটেল লাবণী, চাঁদনি, শৈবাল, মেঘনা সততা প্রভৃতি। এছাড়া রয়েছে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো, সড়ক ও জনপথ বিভাগের রেস্টহাউস। এর যে-কোনো একটিতে অনুমতি নিয়ে থাকা যাবে।
যা যা দেখবেন : ভৈরবে গিয়ে বারবার রেল ও সড়কসেতুর কাছে যেতে ইচ্ছে হবে। বর্ষায় গেলে মেঘনায় নৌকায় বেড়াতে ইচ্ছে হবে। নৌকায় বসে দেখবেন, মেঘনার বুকজুড়ে শত শত পালতোলা নৌকা ঢেউয়ের বুক চিরে এগিয়ে যাচ্ছে। নৌবিহারে বের হলে প্রথম যে-দৃশ্যটি চোখে পড়বে তা হল জোড়া সেতু, যার একটি দিয়ে মোটর গাড়ি, অপরটি দিয়ে ট্রেন চলাচল করে। সেতু দুটির অবস্থান একদম কাছাকাছি। মেঘনা আর ব্রহ্মপুত্র নদের মিলনস্থলে গেলে কিছুক্ষণের জন্য হলেও মনটা রোমাঞ্চকর হয়ে উঠবে।
নৌকা নিয়ে আশুগঞ্জমুখী করে একটু এগোলে দেখা যাবে ইউরিয়া সার কারখানা, থাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, পেট্রোবাংলা। মেঘনার কূলে চরসোনারামপুরের পরেই লালপুর। এখানে রয়েছে বিশাল কাশবন। একানে পড়ন্ত বিকালে গেলে ভালো হয়। তখন যদি দেখেন আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, তাহলে তো কথাই নেই। দূরে রেলগাড়ি চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখে দেখে ‘কাশের বনে ঢেউ খেলিয়ে তুফান মেলে যায়…’ গানের কথাগুলো তখন ভাববেন। তখন মনে পড়বে চিত্রনায়িকা কাননদেবীর কথা।
সন্ধ্যার দিকে আসবেন মাছের আড়তে। এখানে মাছ বেচাকেনা চলে এবং এই ভৈরব হয়েই দেশের বিভিন্ন স্থানে মাছ চলে যায়। বিশাল এলাকা জুড়ে এক মৎস্য-আড়ত। দেখবেন কত-না প্রজাতির মাছ নিয়ে বসে আছে বিক্রেতারা। ক্রেতারা দরদামও করছে। মাছ আসছে, চলে যাচ্ছে। ফিরতি পতে মৎস্য-আড়ত থেকে হাওরের মাছ কিনে নিয়ে আসতে পারেন।
পুরোনো ভৈরব শহর ঘুরে দেখায় প্রবল আনন্দ আছে। পুরোনো দালানকোঠাই বেশি চোখে পড়ে।
ভৈরবে দেখবেন রেল ও সড়ক সেতু এবং মেঘনা নদী।
নৌকা পাবেন কোথায় : মেঘনায় বেড়ানোর জন্য নৌকা পাবেন পুরোনো ফেরিঘাট কিংবা ভৈরববাজার মূল পয়েন্টে। ১ ঘণ্টা নৌকায় বেড়াতে দেড়শো টাকা নেবে।
কোথায় খাবেন : খাওয়াদাওয়ার জন্য আনন্দ হোটেল অথবা জনতা হোটেল বেছে নিতে পারেন।
কত টাকা খরচ হবে : ভৈরবে গিয়ে ৩ দিন থাকবেন। এ ভ্রমণে প্রায় ১ হাজার টাকা খরচ লাগবে।