ঘুরে আসুন বাংলাদেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার

51
Social Share

লিয়াকত হোসেন খান: বেড়ানোর চমৎকার চমৎকার জায়গা কক্সবাজার। কক্সবাজার দেখে টেকনাফে এক রাত কাটিয়ে সেন্টমার্টিনে যাবেন। সেন্টমার্টিন নামটি শুনলে মনের মধ্যে ভেসে ওঠে রহস্যঘেরা এক রোমাঞ্চকর দ্বীপভূমি। এখানে সমুদ্রে স্পিডবোটে ভেসে বেড়াচ্ছে রোমান্সপ্রিয় মানুষ। কক্সবাজারে রয়েছে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত। এই সৈকত একবার দুবার ঘুরে দেখার পরও মনের আশা পূরণ হবে না। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত মানেই এই দুর্নিবার রহস্য-রোমান্সের হাতছানি। মনে শুধু হয় উড়–উড়–। কখনও সমুদ্রসৈকতে, আবার কখনও বা কস্তুরিঘাটে। বিশ্বসেরা এই সোনালিসৈকতে স্বপ্নের মতো কাটবে কয়েকদিন।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ছাড়াও তার আশপাশের রামু, মহেশখালী, সোনাদিয়া, ইনানী, হিমছড়ি, টেকনাফ আর সেন্টমার্টিন দেখার মতো সুন্দর জায়গা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কক্সবাজার হয়ে ওঠে ব্রিটিশ ব্রিতিশ তথা মিত্রবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সামরিক ঘাঁটি। আজাদ হিন্দ ফৌজের সঙ্গে লড়াই করার জন্য ব্রিটিশ বাহিনী বার্মা সীমান্তের এই ঘাঁটিটি ব্যবহার করে।
বিভিন্ন তথ্য : বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে কক্সবাজার জেলা। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ১৫৪ কিলোমিটার। কক্সবাজারের আবহাওয়া খুব চমৎকার। ঐতিহাসিকদের মতে সপ্তদশ শতকে কক্সবাজারের নাম ছিল ‘পালংকি’। সে সময়ে বর্মীরা আরাকান দখল করে নিলে বর্মী সেনারা আরাকানিদের ওপর অমানুষিক অত্যাচার, নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ চালায়। এতে অতিষ্ঠ হয়ে আরাকানি মগরা দলে দলে পালিয়ে এসে পার্শ্ববর্তী পালংকি অঞ্চলে আশ্রয় নেয়। আগত এসব উদ্বাস্তুর পুনর্বাসনের জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স নামে এক ইংরেজ সেনানায়কের পালংকি অঞ্চলের সুপারিন্টেডেন্ট নিয়োগ করে। ক্যাপ্টেন কক্স বঙ্গোপসাগরের অর্থাৎ বর্তমান কক্সবাজার শহরে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে হিরাম কক্সের নামানুসারে এ জেলাটির নাম হয় ‘কক্সবাজার’।
কক্সবাজার জেলার উত্তরে চট্টগ্রাম জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে বান্দরবান জেলা এবং পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। নাফ নদী বয়ে গেছে কক্সবাজার জেলার অভ্যন্তর থেকে। কক্সবাজার মোট ৭টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। এগুলো হলোÑ কক্সবাজার সদর, মহেশখালী, চকোরিয়া, কুতুবদিয়া, রামু, পেকুয়া, উখিয়া আর টেকনাফ। এই জেলায় আয়তন প্রায় ২,৪৯২ বর্গকিলোমিটার।
যেখানে থাকবেন : কক্সবাজারে রাত্রি যাপন করার জন্য অসংখ্য আবাসিক হোটেল রয়েছে। যেমনÑ আল হেরা ইন্টারন্যাশনাল, ড্রিমল্যান্ড, আল আমিন, ডায়মন্ড প্যালেস, গেস্ট হাউস, গ্রিন কটেজ, হক গেস্ট ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল হলিডে, হোটেল কক্সবাজার, হোটেল পানওয়া, হোটেল সি কুইন, উর্মি গেস্ট হাউস, আল সালমান হোটেল, দ্যা গ্র্যান্ড হোটেল, হোটেল পালংকি, হোটেল সাগরগাঁও, হোটেল বানু প্লাজা, হোটেল নিরিবিলি, হোটেল সানমুন, হোটেল গার্ডেন, হোটেল কল্লোল, হোটেল বনানী, হোটেল বিচ প্রভৃতি। পর্যটনের মোটেল রয়েছে বেশ কয়েকটি, যেমন শৈবাল, প্রবাল, উপল।
যেভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে কক্সবাজারে সরাসরি বাস যায়। এগুলো হলো সোহাগ, গ্রীনল্যান্ড, সৌদিয়া, এস আলম, টোকিও লাইন, গ্রীনলাইন, শ্যামলী প্রভৃতি।
কক্সবাজারের যা দেখবেন : এখানের প্রধান আকর্ষণ সমুদ্রসৈকত। সকালে-বিকেলে সমুদ্রতীরে বেড়াতে মন চাইবে। কক্সবাজারে গেলে এমনটিই হয়।
কক্সবাজার শহরের মাঝখানে রয়েছে এই এক প্রাচীন বৌদ্ধমঠ ও বিহার। নাম খিয়াং বৌদ্ধবিহার। বুদ্ধের এক বিশাল ধাবত মূর্তি রয়েছে বৌদ্ধমন্দিরে। মঠের এলাকা বিশাল। রয়েছে বৌদ্ধ পুরোহিতদের সমাধি। অন্যান্য অনেক বৌদ্ধকৃষ্টির নিদর্শনও আছে এই মঠ এলাকায় খিয়াং বৌদ্ধমঠের পাশেই দেখবেন একটি পাহাড়ি ঢিলা। এখানে রয়েছে একটি সুন্দর স্তম্ভ। ঝকঝকে সাদা স্তম্ভটি বেশ আকর্ষণীয়।
এখানের পাহাড়শীর্ষে উঠে সারা কক্সবাজার শহরটি একনজরে দেখা যায়। শহরের বিখ্যাত বাজার বার্মিজ বাজার। বার্মা ও চীনের তৈরি জিনিসপত্র এখানে পাবেন। এ বাজারের বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার দোকানগুলোতে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করে বার্মিজ মেয়েরা। কোনো পুরুষ দোকানদার নেই। মারমা মেয়েরা বেশ সেজেগুজ দোকানে বসে খুব বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে দোকান চালায়।
উল্লেখযোগ্য স্পট : কক্সবাজারের কাছে পিঠে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে রামা এক আকর্ষণীয় জায়গা। রামুতে পাহাড়ের উপর সম্রাট অশোক নির্মিত ২ হাজার বছরের প্রাচীন বুদ্ধমূর্তি দেখতে পাবেন। এছাড়া দেখবেন থোয়াইথা চৌধুরীর বৌদ্ধবিহার, লামাপাড়ার বৌদ্ধবিহার, রামকুঠ তীর্থধামের মন্দির। এাড়াও এ জেলায় রয়েছে শাহ উমরের মাজার (চকোরিয়া), সাতগম্বুজ মসজিদ (মানিকপুর), রামবোট হিন্দু মন্দির, রামপোট বৌদ্ধ কেয়াং, লামারপাড়া বৌদ্ধথ কেয়াং (উখিয়া), তাতাবাড়ি বৌদ্ধ কেয়াং, বালাবাজার সুড়ঙ্গ।

সেন্টমার্টিন দ্বীপ
সেন্টমার্টিন দেখবেন প্রবাল পাথরের ছড়াছড়ি। অসংখ্য নারকেল গাছ চোখে পড়বে। একদা আরবীয় বণিকরা ব্যবসা-বাণিজ্য করতে এসে এখানে কিছু সময়ের জন্য বিশ্রাম নিতেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে বাংলা, আরাকান ও বার্মা চলে আসার পর জনৈক ইংরেজ মি. মার্টিন-এর নামানুসারে এ দ্বীপের নামকরণ করা হয় সেন্টমার্টিন। সেন্টমার্টিন দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গমাইল। টেকনাফ সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে উত্তাল সাগরের বুকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ। এই দ্বীপে বেড়াতে দারুণ আনন্দ। বারবার বসে থাকতে ইচ্ছে হবে সমুদ্রসৈকতে। জলরাশি এসে যখন পদযুগল ভিজিয়ে দেবে তখন বিমুগ্ধ হয়ে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকবেন।
কীভাবে যাবেন : টেকনাফ থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় সেন্টমার্টিন যাবেন। ইঞ্জিনচালিত নৌকা নাফ নদী হয়ে সমুদ্রে পড়ার পর কিছুটা ভয় ভয় লাগবে। নাফ নদী অতিক্রম করতে প্রায় ১০ মিনিট সময় লেগে যাবে। সমুদ্র থেকে যখন নৌকো হেলে দুলে চলতে তখন সম্মুখে দেখবেন বিশাল জলরাশি। উপরে নীল আকাশ। কেয়ারি সিন্দাবাদ এবং ঈগল নামে ২টি জাহাজে সেন্টমার্টিনে যাওয়া যায়। সময় লাগে ২ ঘণ্টা। আসা-যাওয়া ভাড়া ৭৫০ টাকা।
কোথায় থাকবেন : টেকনাফের যে কোনো হোটেলে রাত কাটিয়ে পরদিন সেন্টমার্টিন যাবেন। আবার বিকেলেই ফিরে আসুন। সেন্টমার্টিনে রাত যাপন করার জন্য বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে।
কী কী দেখবেন : সেন্টমার্টিনের অন্যতম আকর্ষণ সমুদ্রসৈকত ও প্রবাল পাথর। এসব দেখে ভীষণ মুগ্ধ হবেন। প্রবাল পাথরের উপর দাঁড়িয়ে ছবির পর ছবি তুলতে ইচ্ছে হবে। প্রচুর নারকেল গাছও দেখবেন এখানে। প্রচুর কেয়াগাছ চোখে পড়বে। এগুলোতে রয়েছে আনারসের মতো ফল। এখানে অধিকাংশ লোক মাৎস্যশিকারের সঙ্গে জড়িত। দেখবেন এরা ইঞ্জিনচালিত নৌকো নিয়ে সমুদ্রে যাচ্ছে। আপনিও ওদের সঙ্গে আলাপ জমিয়ে সমুদ্র থেকে বেড়িয়ে আসতে পারেন। সমুদ্রতীরে যখন বেড়াবেন তখন এক প্রবাল থেকে আরেক প্রবাল হয়ে সমুদ্রের অনেক দূরে যেতে পারবেন। জোয়ারের সময় কিন্তু যাবেন না। ভাটার সময় যাবেন। দেখবেন শামুক, ঝিনুক, চুনাপাতর, শৈবাল আর মুক্তার ছড়াছড়ি।
জেলেদের ঘরের সম্মুখে রয়েছে বিভিন্ন মাছ। এসব শুকনো হচ্ছে। ফিরবার পথে কয়েক কেজি রূপচান্দা মাছ কিনে নিয়ে আসতে পারেন। সমুদ্রের কাছে বেড়ানোর সময় মাছধরা স্বচক্ষে দেখতে পাবেন, এটাও কিন্তু একধরনের আনন্দ।
গাছগাছালিতে দেখবেন অসংখ্য নাম-না-জানা পাখি। আবার পাখিরা সৈকত হয়ে অনেক দূরে উড়ে যাচ্ছে। এসব দৃশ্য দেখে দেখে তন্ময় হয়ে তাকিয়ে থাকবেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই দ্বীপকে ‘জিনজিরা’ নাম বলতেই বেশি আনন্দ পায়। সমুদ্রতীরে দেখবেন একটি বাজার। কয়েকটি দোকান আছে। এখানে রয়েছে ঝিনুকের মালা। এছাড়া বিভিন্ন সামগ্রী। পছন্দ হলে কিনে নিতে পারেন। সরকারি খাদ্য গুদাম, ইউনিয়ন পরিষদ অফিস, বিডিআর ক্যাম্প, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা এসবও সেন্টমার্টিনে দেখবেন। সুউচ্চ টাওয়ারটি অবশ্যই দেখে নেবেন। টাওয়ারের মাথায় রয়েছে সার্চলাইটের ঘূর্ণায়মান বাতি। এটি একবার দেখলে বারবার দেখতে ইচ্ছে করবে।

টেকনাফ : নাফ নদীর মোহনায়
এই বাংলার সর্বদক্ষিণ নয়নজুড়ানো জায়গা ‘টেকনাফ’। বাংলাদেশ-বার্মা সীমান্তে অবস্থিত টেকনাফ অপরূপ সৌন্দর্য এবং সম্পদে ভরা। টেকনাফ নিয়ে শুনেছেন অনেক গল্প কিন্তু কখনও দেখেননি হয়তো। যদি টেকনাফ যান তাহলে ফিরে আসতে মন চায় না। নায়ক ধীরাজ ভট্টাচার্য আর মাথিনের প্রেমকাহিনীর জন্যও টেকনাফের খ্যাতি আছে। টেকনাফের থানা এলাকার একটি কূপ আছে। এই কূপের নাম ‘মাথিনের কূপ’। এখানে গিয়ে প্রেমের করুণ কাহিনীও জানা যায়।
ঢাকা থেকে টেকনাফের দূরত্ব ৪৯০ কিলোমিটার। আর কক্সবাজার থেকে দূরত্ব মাত্র ৮৫ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে বাসে কিংবা ট্রেনে চট্টগ্রাম গিয়ে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনালে নামুন। বাস টার্মিনাল থেকে চেয়ারকোচ, বাস যাচ্ছে টেকনাফে। ঢাকা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত যায় এস আলম পরিবহন। সময় লাগে ১১ ঘণ্টা। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার বাসে যেতে প্রায় ৪ ঘণ্টা সময় লাগে। কক্সবাজার থেকে ৮৫ কিলোমিটার দূরে টেকনাফ। বাংলাদেশের কিনারায় টেকনাফ। কক্সবাজারের বিখ্যাত সমুদ্রসৈকত বিমানবন্দর থেকে শুরু হয়ে শেষ হয়েছে টেকনাফে এসে।
কক্সবাজার থেকে টেকনাফে যাওয়ার সময় দেখা যায় অনেকগুলো পাহাড়ি জায়গা। এগুলোর প্রত্যেকটিই সুন্দর। কক্সবাজা থেকে সারাদিন বাস চেয়ারকোচ যাতায়াত করে টেকনাফে। বাসে সময় লাগে ৩ ঘণ্টা। কক্সবাজার থেকে ট্যাক্সি নিয়ে একদিনেই টেকনাফ দেখে আসা যায়।
যা যা দেখবেন : টেকনাফে দেখবেন নাফ নদীর মোহনা, সোনালি, বেলাভূমি, ঘন জঙ্গল, মাথিনের কূপ। নানারকমের ট্রলার-নৌকা আসে মিয়ানমার থেকে টেকনাফের ঘাটে। নৌকায় ওপারে মিয়ানমারের কাছাকাছি যেতে পারেন। এখানে সবচেয়ে সুন্দর লাগে নাফ নদীর মোহনার দৃশ্য। বিস্তীর্ণ নীল জল রয়েছে এখানে। তাতে ভিড় করে অজস্র নৌকা-ট্রলার। বহুদূরের বার্মার পাহাড়ের ধোঁয়াটে রেখা, অরণ্যের সবুজাভ বিস্তার ইত্যাদি দেখে অভিভূত হবেন। এ অঞ্চলের অরণ্যে হাতি, হরিণ, সম্বর ও নানা জাতের পাখিও রয়েছে। বিকেলে নাফ নদীতে ভ্রমণ এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। মনে হবে, এখানে সূর্য উঠে সমুদ্র থেকে, সূর্য অস্তও যায় সমুদ্রের নীল জলে।
টেকনাফ থানা এলাকায় দেখবেন মাথিনের কূপ। জানা যায়, বিশের দশকের শেষদিকের কথা। টেকনাফ থানায় পুলিশ অফিসার হয়ে আসেন ধীরাজ ভট্টাচার্য। তিনি দেখতে খুবই সুন্দর। ১৪ বছর বয়সী মাথিন থানার সামনের কূপে জল নিতে আসে। প্রথমে পরিচয় থেকে দুজনার মধ্যে মন দেয়া-নেয়া চলে। দুজনার মধ্যে হয় প্রেম। সমাজ বাধা দেয় ‘ভিন্নধর্মাবলম্বী’ এই দুই প্রেমিক-প্রেমিকার মিলনে। হঠাৎ করে প্রেমিক বাড়ি থেকে দুঃসংবাদ পেয়ে টেকনাফ থেকে চলে যায় কলকাতায়। বহুদিন ফিরতে পারে না টেকনাফে। এদিকে সবাই বলতে থাকে, ধীরাজ তাকে ঠকিয়েছে। ক্ষোভে দুঃখে মাথিন এই কূপে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। ধীরাজ পরে টেকনাফ এসে প্রেমিকাকে ফিরে পায় না। মাথিনের প্রেমের নিদর্শন হয়ে আছে ‘মাথিনের কূপ’। এটি দেখতে গিয়ে আপনার দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়তে পারে।
টেকনাফের নামকরণ নিয়ে আছে বিভিন্ন অভিমত। অনেকের মতে, নাফ নদীর টেক-এ বাঁক অবস্থিত বলে টেকনাফ নামকরণ করা হয়েছে। টেকনাফের সমুদ্রতীরে প্রচুর সোনালি বালি। বীর কমলার দীঘি দেখবেন এই টেকনাফে।
টেকনাফে ৩ থেকে ৪ দিন বেড়িয়ে প্রবল আনন্দ পাবেন। বারবার মনে হবে ‘সত্যিই অতুলনীয় টেকনাফ’। টেকনাফ এমনই সুন্দর জায়গা যে, এখানে বাংলার সব সৌন্দর্য এসে ঠেকেছে।
কক্সবাজার বাইরে অন্যান্য স্পটে আবাসিক হোটেলের খোঁজখবর : টেকনাফে রয়েছে হোটেল নেটাং, হোটেল হিল টপ, হোটেল নিরিবিলি, নাফ ইন্টারন্যাশনাল, নাফ কুইন। সেন্টমার্টিন দ্বীপে আছে হোটেল নিঝুম, শেরাটন হোটেল।
শাহপরীর দ্বীপ : টেকনাফ উপজেলার সররাং ইউনিয়নের এক বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শাহ পরীর দ্বীপ। লোককথা অনুসারে এই দ্বীপটিতে এক সময় নাকি পরীরা বাস করত, তাই এই দ্বীপের নাম হয় ‘পরীর দ্বীপ’। টেকনাফ থেকে সড়ক পথে জিপে শাহপরীর দ্বীপ যেতে ৩০ মিনিট সময় লাগে।

সোনাদিয়া দ্বীপ
বক্সবাজার ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে ছোট্ট দ্বীপ সোনাদিয়া। এই দ্বীপে রয়েছে যাযাবর পাখিদের মেলা। কক্সবাজার থেকে স্পিডবোটে বা ইঞ্জিনচালিত বোটে এখানে যাওয়া যায়। সময় লাগে ১৫ থেকে ২০ মিনিটি।
বঙ্গোসাগরের বুকে ভেসে উঠা এমনি আকর্ষণীয় দ্বীপের নাম ‘সোনাদিয়া’। এখান থেকে বেড়িয়ে আসুন। দেখবেন সৈকতে পড়ে আছে ঝিনুক আর মুক্তো। দ্বীপের পাড়ায় পাড়ায় হরেক রকম শুঁটকি মাছ।
কক্সবাজারের কস্তুরিঘাট থেকে স্পিডবোট ভাড়া করে সোনাদিয়া দ্বীপে যাওয়া যায়। সময় লাগে মাত্র দশ থেকে বারো মিনিট। শীতমৌসুমে সাগর শান্ত থাকে। থাকে না ঢেউয়ের দাপট। তাই পরিবারের কয়েকজন একত্রে মিলে সোনাদিয়া দ্বীপে ভ্রমণ করে প্রবল আনন্দ পাবেন। সাগরের বুক থেকে স্পিডবোট যখন দ্রুতগতিতে চলবে তখন দারুণ পুলকিত হবেন। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিও দেখবেন। স্পিডবোটে ১০ থেকে ১২ জন ওঠানো হয়।


কী কী দেখবেন : সাগরপাড়ে জেলেদের বড় বড় নৌকা দেখবেন। বাজারে সর্বত্র শুঁটকিমাছের ছড়াছড়ি। বনাঞ্চল রয়েছে সোনাদিয়া দ্বীপে। এখানে বসে সমুদ্র দেখায় প্রবল আনন্দ আছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত এখানে থাকবেন। দারুণ ভালো লাগবে। গোধূলিলগ্নে সূর্য যখন পশ্চিমআকাশে হেলে পড়বে, তখন সাগরের পানি নীলরঙে চিকচিক করবে। এ দৃশ্য দেখে সমুদ্রতীরে দাঁড়িয়ে আপনারও ছবি তুলতে ইচ্ছে হবে। রূপচান্দা মাছ খেতে ইচ্ছে করবে। ২০ টাকায় আস্ত বড় একটা রূপচান্দা মাছ পাওয়া যায়।
সোনাদিয়া দ্বীপ সম্পর্কে জানবেন, একটি ডুবন্ত জাহাজে পলি আর রাশি রাশি বালি জমাট বেঁধে এ দ্বীপের সৃষ্টি হয়। পর্তুগিজ জলদস্যুরা সোনাদানা আর অন্য সব পণ্য লুট করার জন্য একটি জাহাজ আক্রমণ করে। জাহাজিয়া মরণপণ লড়াই করেন। কিছুতেই কিছু হল না। এক পর্যায়ে জাহাজটি ডুবে যায়। পরে জাহাজটিতে বালি আর পলি জমে জমে গড়ে ওঠে সোনাদিয়া দ্বীপ। একথা অনেকের কাছে কিন্তু রূপকথার মতো। অনেকে বলেন, মহেশখালী প্রণালী এক বাঁকখালী নদীর স্রোতো ধারার সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ের আঘাতে বালিরাশি দক্ষিণ-পশ্চিম কোনায় এসে জমাট বাঁধে। এভাবে বালি জমতে জমতে একদিন সোনাদিয়া দ্বীপে পরিণত হয়। সোনার মোহরের জন্য এই দ্বীপের নাম সোনাদিয়া হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। সে এই দ্বীপের আয়তন ৪,৬৩ বর্গমাইল।
সোনাদিয়া দ্বীপে বেড়াতে গিয়ে আরো দেখবেন বিভিন্ন সবজির বাগান। সুপারি আর নারকেল গাছও আছে সাগরের তীরে বারবার ছুটে যেতে ইচ্ছে হবে আপনারও। সাগরের জলধারা এসে আপনার পদযুগল যখন ভিজিয়ে দেবে তখন খুব ভালো লাগবে। সাগরের তীরে ঘুরে ঘুরে ঝিনুক, মুক্তা, শামুকও কুড়াতে পারেন। সারাদিন সোনাদিয়া দ্বীপে অবস্থান করে সন্ধ্যার পরপরই কক্সবাজারে ফিরে আসুন। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত স্পিডবোট ও নৌকো পাবেন সোনাদিয়া দ্বীপ থেকে কক্সবাজার আসার জন্য।

ইনানী সৈকত
কক্সবাজার থেকে টেকনাফ অবধি বিস্তৃত সৈকতেরই একাংশ ইনানী সৈকত। কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলায় এই ইনানী সৈকতের অবস্থান। হিমছড়ি থেকে ৬৪ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকতের পথ ধরে জিপে করে এখানে আসতে পারেন।

দুলাহাজারী সাফারি পার্ক
এখানে বাঘ-সিংহ অবাধে ঘুরে বেড়ায়। এক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নেয়ার জন্যই দুলাহাজারী সাফারি পার্কে যাবেন। কক্সবাজার জেরার চকোরিয়ায় ৯ হেক্টর অরণ্য নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে দুলাহাজারী সাফারি পার্ক।
চট্টগ্রাম নগরী থেকে কক্সবাজার সড়কে ১০৭ কিলোমিটার গেলে চকোরিয়া উপজেলা সদর। এই জায়গা থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে গেলে দুলাহাজারী সাফারি পার্ক দেখতে পাবেন। প্রাইভেটকার নিয়ে সরাসরি এখানে আসা যায়। তবে কক্সবাজার রুটের গাড়িতে চকোরিয়ায় নেেম এখানে যেত পারেন।
সাফারি পার্কের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর স্থান বাঘশালা ও সিংহশালা। ৭০ হেক্টর ঘনবনে আচ্ছাদিত জমি নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই বিশেষ জোন। জোনে অবাধে ঘুরছে ডোরাকাটা বাঘ, কেশর ফেলানো সিংহ। এই পার্কে ঢুকলে আরও দেখা যায় হাতি, ভাল্লুক, হরিণ। নানা প্রজাতির পাখিও রয়েছে। আছে কৃত্রিম হৃদ, ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম।
রাত্রি যাপনের জন্য দুলাহাজারি সাফারি পার্কে বিশ্রামাগার ও ডরমিটরি পার্ক দেখতে যাবেন তাদের জন্য কিছু আচরণবিধিও আছে। যেমন- বাঘ ও সিংহের বেষ্টনীতে ভ্রমণের সময় চলন্ত গাড়ি থেকে না-নামা, প্রাণীদের ঢিল না ছোড়া, প্রাণীদের খাঁচার নিরাপত্তার বেষ্টনীতে প্রবেশ না করা ইত্যাদি। এখানে দর্শনাথী ফি আছে।

কুতুবদিয়া বন্ধুর বাড়ি…
বঙ্গোপসাগরের বুকে অনেকগুলো দ্বীপ রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অতুলনীয় এমনি দুটি দ্বীপ হলো মহেশখালী আর কুতুবদিয়া। কক্সবাজার জেলার অভ্যন্তরে এই দুই দ্বীপে যেতে হয় সাগর পাড়ি দিয়ে চারদিকে শুধু অথৈ জলরাশি। নীল জলরাশির বিরাট বিস্তৃতি এই দুই দ্বীপের চারদিকে। ‘কুতুবদিয়া বন্ধুর বাড়ি… বিচ্ছেদ জ্বালা সইতে না পারি… ওরে সাম্পানওয়ালা তুই আমারে করলি দিওয়ানা, বাহার মারি যায়রে সাম্পান, কিবা ভাটি কিবা উজান, ঝড় তুফানে পরোয়া করে নারে সাম্পানওয়ালা…’ কুতুবদিয়া যাওয়ার পথে শেফালী ঘোষের গাওয়া গানের এই কথাগুলো বারবার মনে পড়বে।
ঢাকা থেকে সরাসরি এখন বাস যায় মহেশখালী দ্বীপে। কুতুবদিয়া দ্বীপে এখন যাওয়ার সহজ পথ হল চট্টগ্রাম থেকে পেকুয়া হয়ে মগানমাঘাট পর্যন্ত এস আলমসহ কয়েকটি পরিবহন চলে, সময় লাগে সাড়ে ৩ ঘণ্টা। মগনামা থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় মাত্র ৩০ মিনিটে কুতুবদিয়া যাওয়া যায়। সর্বমোট সময়ল লাগে ৯ ঘণ্টা। কক্সবাজারের কস্তুরিঘাট হতে মহেশখালী দ্বীপে ও কুতুবদিয়ায় যাওয়ার জন্য ইঞ্জিনচালিত নৌকা পাবেন। আবার চট্টগ্রাম হতে স্টিমারে কুতুবদিয়া দ্বীপে যাওয়া যায়। স্টিমারে সময় লাগে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা। বড় বড় সাম্পানে কুতুবদিয়া যাওয়া সে এক আনন্দের ব্যাপার।

মহেশখালী : কক্সবাজার থেকে উত্তর-পশ্চিমে মহেশখালী দ্বীপ। এখানের পাহাড়-অরণ্য নদীতট দিয়েছে নৈসর্গিক শোভা। সমুদ্রতীরবর্তী স্বাস্থ্যনিবাস হিসেবে মহেশখালীর খ্যাতি আছে। এখানকার বেশিরভাগ লোক মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। হিন্দু ও বৌদ্ধদের বেশকিছু স্থাপত্যশিল্প আছে এখানে।
মহেশখালী দ্বীপ সম্পর্কে তথ্য : সমুদ্রের রোমাঞ্চ উপভোগ করতে চাইলে কক্সবাজারের কস্তুরিঘাট থেকে মহেশখালী ঘুরে আসতে পারেন। সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত স্পিডবোট ভাড়া পাওয়া যায়। কিছুটা ধীরে যেতে চাইলে ইঞ্জিনচালিত নৌকাতেও যেতে পারেন।
মহেশখালীর প্রধান আকর্ষণ আদিনাথের মন্দির। এটি বঙ্গোপসাগরের মোহনার কাছে মৈনাক পাহাড়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় কয়েকশো বছর আগে। সমতল ভূমি হতে ৬৯টি সোপান অতিক্রম করে আদিনাথের মন্দিরে যাওয়া যায়। এটিকে শিবমন্দিরও বলা হয়। এখানে আদিনাথ মহাদেশ ও অষ্টভুজা দুর্গাগতি প্রতিষ্ঠিত। প্রতিবছর শিবরাত্রির আগে-পরে আদিনাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে মেলা বসে। এই মেলা ৭ থেকে৮ দিন ধরে চলে। এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হলেন মহেশখালীর জমিদার প্রভাবতী ঠাকুরানী।
মহেশখালীর পাহাড় আর অরণ্যে বেড়াতে দারুন আনন্দ। অরণ্যে রয়েছে অসংখ্য বন্যপ্রাণী। পাখির কলকাকলিতে মুখরিত এর সর্বত্রই। দেখে দেখে চোখ আর মন এক হয়ে যায়। জেলেদের পাড়ায় শুঁটকি মাছের ছড়াছড়ি। চিংড়ি, রূপচান্দা, লইট্যা, পোয়া, মাইট্যা, আরো কত কী সব মাছ সাজানো রয়েছে। সমুদ্রতীর মহেশখালীকে দিয়েছে প্রকৃতি উজাড় করে। জেলেদের নৌকো চলে যায় সমুদ্রবক্ষ হয়ে অনেক দূর…। তখন দূরে দেখবেন কালো বিন্দুর মতো কী যেন। মৎস্যশিকারে যারা যায় সমুদ্রে, তাদের সঙ্গে আলাপ জমিয়ে অনেকদূর থেকে ঘুরে আসার আছে প্রবল আনন্দ। এটা একটু অ্যাডভেঞ্চার। একটু থ্রিল।
সমুদ্রতীর আরো আছে শামুক আর ঝিনুকের ছড়াছড়ি। নিকটস্থ দোকানগুলোতে ঝিনুক ও শামুকের বিভিন্ন দ্রব্যাদি বিক্রি হয়। চোখে লাগে এমন সামগ্রী কিনেতে পারেন। এখানে পাহাড়ের উপরে উঠে সমুদ্রদর্শনের আছে আরো বেশি আনন্দ। চোখে ভাসবে শুধু অথৈ সাগরের জলরাশি। বন্যপ্রাণীর ডাক শুনে মুগ্ধ হয়ে যাবেন। মহেশখালীতে গেলে ঠিক এমনটিই হয়। মহেশখালী দ্বীপের আদিনাথ বাজার, মাতারবাড়ি, পশ্চিমপাড়া, জেমঘাট, জয়েরখাতা, হরিয়ারচরা-এসব জায়গাও মোহনীয়। মাছ, লবণ, পান, ধান-মহেশখালীর মূল্যবান অর্থনৈতিক সম্পদ।
মহেশখালী দ্বীপে রাত যাপন করার জন্য আবাসিক হোটেল রয়েছে। তাই মহেশখালীতে গিয়ে কোনো সমস্যায় পড়বেন না। যে ক’দিন এখানে থাকবেন প্রবল আনন্দে দিনগুলি কাটবে। এখানে সমুদ্রে বেড়ানোর জন্য স্পিডবোট পাবেন। তা ভাড়া করে ঘুরে দেখুন।

কুতুবদিয়া
কুতুবদিযা দ্বীপে রাত যাপন করার জন্য প্রাইভেট হোটেল সাগরিকা ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন বিভাগের রেস্ট হাউজ রয়েছে। জেলা পরিষদের ডাকবাংলোও আছে। চট্টগ্রাম থেকে প্রায় একশো মাইল পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের বুকে অবস্থিত কুতুবদিয়া দ্বীপে দেখবেন নতুন বাতিঘর, শাহ আবদুল মালেক মহিউদ্দিনের দরগা শরীফ, সাগর থেকে ভেসে ওঠে প্রাকৃতিক পাথর, সবুজ লতায় ঢাকা বালির টিলা, হরেকরকম শামুক-ঝিনুক, জামে মসজিদ, লবণ ফ্যাক্টরি আর রূপালি সৈকত।
কুতুবদিয়া থানা ভবনের সামনের দীঘি দেখে মুগ্ধ হবেন। এর চারদিকে নারকেলসহ বিভিন্ন গাছগাছালি রয়েছে। শুধু তাকিয়ে থাকা-সে এক আনন্দের ব্যাপার। কুতুবদিয়ার রাজাখালী, তাকপাড়া, লেমনখালী, কিল্লাপাড়া জায়গাও দেখার মতো। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য এখানে এসে যেন উছলে পড়েছে। এর চারদিকে রয়েছে বঙ্গোপসাগরের জলরাশি। কুতুবদিয়ায় গিয়ে অতীতের সেই বাতিঘরটির কথা মনে পড়বে। একদা দূরের যাত্রীদের পত দেখাত বাতিঘরটি। ১৮২৮ সালে সেটি নির্মিত হয়েছিল। ঐতিহ্যবাহী বাতিঘরটি ১৯৭৮ সালে সমুদ্র বিলীন হয়ে যায়। তবুও সেই বাতিঘরের কথা এখনও অনেকে ভুলতে পারেননি।
কুতুব আউলিয়ার নামানুসারে এই দ্বীপের নামকরণ করা হয় ‘কুতুবদিয়া’। ষোলো শ শতকের শেষদিকে এখানে গড়ে ওঠে জনবসতি। স্বাস্থ্যকর স্থান হিসেবে অন্যতম জায়গা এই কুতুবদিয়া। তাই এখানে পর্যটনের মোটেল ও আধুনিক আবাসিক হোটেল স্থাপিত হলে এই দ্বীপে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন বেড়ে যাবে। এতে করে সরকারি রাজস্ব খাতে আয়ও বাড়বে।
এই দ্বীপবাসীর জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন হলোÑধান, লবণ আর মাছ। লবণের দিক দিয়ে কুতুবদিয়া খুবই স্বয়ংসম্পূর্ণ। কুতুবদিয়া দ্বীপে বসে সূর্য উদয় আর সূর্যাস্ত দেখায় প্রবল আনন্দ আছে। এই দ্বীপের যে দিকেই সৌন্দর্য দেখে এতই মুগ্ধ হয়ে পড়েবেন যে, যা কোনোদিনই ভোলা যায় না।
কুতুবদিয়া সম্পর্কে তথ্য : ঢাকা থেকে সড়কপথে প্রথমে আসুন চট্টগ্রামে। সৌদিয়া, এস আলম, চ্যালেঞ্জার, সোহাগ, গ্রিনল্যান্ড, টোকিও লাইনের যে কোনো একটি পরিবহন বেছে নিতে পারেন। প্রায় ৬ ঘণ্টা লাগবে। চট্টগ্রাম পৌঁছাত। এরপরে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট থেকে এস আলম পরিবহনে মগনামাঘাটে নামবেন। সময় লাগে সাড়ে ৩ ঘণ্টা মগনামার ওপারে কুতুবদিয়া দ্বীপ। স্পিডবোটে যেতে ১৫ মিনিট সময় লাগে। ইঞ্জিনচালিত নৌকায় কুতুবদিয়ায় যেতে ৩০ মিনিট সময় লাগে। দেখবেন ঝড়-তুফান পরোয়া না করে সাম্পান, নৌকা আর স্পিডবোট এক সময়ে কুতুবদিয়া দ্বীপে এসে পৌঁছে যায়।