ঘুরে আসুন পাহাড় অরণ্য আর সমুদ্র মেঘলা চট্টলা

31
Social Share

লিয়াকত হোসেন খান: নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপরূপ শোভা নিয়ে গড়ে ওঠা চট্টগ্রাম ‘প্রাচ্যের রানী’ হিসেবে খ্যাত। পাহাড়, সমুদ্র, উপত্যাকা, অরণ্য এখানের অন্যতম আকর্ষণ। প্রকৃতির লীলানিকেতন এই চট্টগ্রামে বেড়াতে যেতে পারেন বছরের যে কোনো সময়। চট্টগ্রামের এদিক-ওদিকে ছোট ছোট টিলা দেখে মনে হবে এ যেন নীল পাহাড় সবুজ উপত্যাকা। বারো আউলিয়ার পুণ্যভূমি চট্টগ্রামের প্রাচীন নাম ‘ইসলামাবাদ’। চীনের রাজকীয় দলিলে চট্টগ্রামকে বলা হয়েছে ‘চাটিকার’। খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের শেষদিকে চীনা পর্যটক ইচিং বৌদ্ধধর্মীয় জ্ঞান আহরনের জন্য চট্টগ্রামে আসার পর হতেই চট্টগ্রাম হিসেবে পরিচিতি পেতে থাক। এই জেরার কৃতিসন্তান হলেন মাস্টারদা সূর্যসেন, অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা, আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ, আবুল ফজল।
কর্ণফুলী, সাংগু ও হালদা নদী বয়ে গেছে এই জেলার ভেতর দিয়ে। ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য খ্যাত এই জায়গা।
চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য ঢাকা হতে সরাসরির আন্তঃনগর ট্রেন রয়েছে। সড়কপথে বাসও চলে। বাসে যেতে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে। রাত যাপন করার জন্য চট্টগ্রামে অসংখ্য হোটেল রয়েছে। র্যটনের মোটেলও আচে।
প্রকৃতিঘেরা চট্টগ্রাম নগরীটি অত্যন্ত আকর্ষণীয়। শহরের মধ্যে দুই পাহাড়ের মাঝ থেকে ছুটে যাওয়অ টাইগার পাস। পোলো গ্রাউন্ড লাগোয়া পাহাড় ঘেঁষা দোতলা পথটিও বেশ সুন্দর। এখানের রেলওয়ের হেডকোয়ার্টারের সামনে সাত রাস্তার মোড়ে প্রকৃতির মনোরম খেলা আনার দুচোখ জুড়িয়ে দেবে।
শহরের মধ্যেই আছে ২৮০ ফুট উঁচু পাহাড় ‘বাটালি হিল’। বাটালি হিলের চূড়ায় উটলে পুরো শহর দেখা যায়। দূরে কর্ণফুলী নদী, এখানে রয়েছে জাহাজ আর জাহাজ। ঝাউতলায় আছে পাহাড় আর জঙ্গলের আরেক মুগ্ধতা। ফয়স’ লেক শহরের অভ্যন্তরে। পতেঙ্গার পথে যেতে দেখা যায় জাহাজের পর জাহাজ। প্রাণচঞ্চল এ বন্দর এলাকাটি হল চট্টগ্রামের আরেক রূপ।
বন্দর এলাকার শেষে পুরনো পথ ধরে এগিয়ে যেতে নেভেল হেডকোয়ার্টারের সামনে নদীতে নৌবাহিনীর জাহাজও দেখতে পাবেন। কর্মব্যস্ত কর্ণফুলী নদীতে অসংখ্য সাম্পানের আনাগোনা, নোঙর-করা বড় বড় জাহাজও আছে। এসব ঘুরে দেখার সময় প্রবল আনন্দ পাবেন।
চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় দেখবেন জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর। ভাটিয়ারিতে গলফ ক্লাবের কাছেই কৃত্রিম হৃদ। পাহাড়ের চড়াই-উৎরাই বেয়ে হাটহাজারির সঙ্গে ট্রাঙ্ক রোডের সংযোগ-সড়কটি প্রকৃতিতে মনের মাধুরী মিশিয়ে সাজানো ছবি বলে মনে হবে। এখানের চট্টেশ্বরী দেবীর মন্দিরও দেখবার মতো।
সমুদ্রপথে পাথরের আসীন হয়ে হযরত বদর শাহ চট্টগ্রামে এসেছিলেন। তিনি পাঁচটি বাতি জ্বেলে চট্টগ্রাম শহরের গোড়াপত্তন করেন। চেরাগী পাহাড় আছে এখানে। চন্দনপুরা মসজিদ, কর্ণফুলী সেতু দেখার পরে শহরে কিছু সময় কাটান।
টাইগার পাসে যাবেন। অনেককাল আগে এখানে বাঘের আনাগোনা ছিল। আজ আর নেই। চেরাগী পাহাড় ঘুরে দেখুন। চেরাগী পাহাড় নামকরণ করা হয়েছে বদর শাহ নামক একজন সুফীসাধকের চেরাগ থেকে। চট্টগ্রামে কিছু উল্লেখযোগ্য দরশা শরিফ আছে, তা ঘুরে দেখুন। হযরত বায়েজিত বোস্তামি, হযরত শাহ আমানত শাহ (রহ.) হযরত মোহসেন আউলিয়া (রহ.), পীর বদরউদ্দিন বদর-ই আলম আর মাইজভান্ডার শরিফ দেখতে গিয়ে মনটা পবিত্রতায় ভরে উঠবে।

জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর
এশিয়া মহাদেশ জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘর আছে মাত্র দুটি। একটি জাপানের টোকিওতে আর অপরটি চট্টগ্রাম নগরীতে। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে বাদামতলী চার রাস্তার মোড় হতে একটু পূর্বে জাতিতাত্ত্বিক জাদুঘরের অবস্থান। এই জাদুঘরে চারটি গ্যালারি ও একটি বিশাল হলঘর আছে। এখানে দেখতে পারেন দেশের ২৩টি উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর জীবনধারা। এছাড়াও আছে ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়াসহ অথবা কিছু দেশের উপজাতির জীবনচরিত্র। বার্লিন প্রাচীরের ভগ্নাবশেষও এখানে রয়েছে।

ফয়স লেক
১৯২৭ সালে চট্টগামের পাহাড়তলীতে পাহাড়ের মাঝে বাঁধ দিযে কৃত্রিম কে করা হয়। লেলওয়ের তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী মি. ফয়স-এর পরিকল্পনায় এটা করা হয়েছিল বলেই এর নাম হয়ে যায় ফয়স লেক। বর্তমানে এটি এদেশের অন্যতম সেরা একটি বিনোদনকেন্দ্র। চট্টগ্রামে এসেই প্রথম ঢুঁ মারুন ফয়স লেকে। সবুজ গাছগাছালি, পাহাড়, আঁকাবাঁকা লেক দিয়ে প্রকৃতির নানারূপ নান্দনিক সৌন্দর্য আর ব্যঞ্জনা সাজানো চিরহরিৎ ফয়স লেক। এটির অবস্থান চট্টগ্রামে সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর পাহাড়তলী ওয়ার্ডে। ৩৬০.৬১ একর জায়গাা জুড়ে ফয়েস লেক বিস্তৃত। এর মধ্যে ৪৮.৭৫ একর হ্রদ এবং ৩১১.৮৬ একর সবুজ গিরি ও বনানী শোভিত এলাকা। পাশেই গড়ে উঠেছে চিড়িয়াখানা ও আধুনিক পার্ক। এখানে দর্শনীর বিনিময়ে প্রবেশ করতে হয়। লেকে প্রবেশের পর সার্কাস ট্রেনে, বাম্পার বোটে, বিবা বোটে, পাডেল বোটে চড়া যায়। এছাড়াও এখানে বিনোদনের জন্য রয়েছে নানান সামগ্রী। শিশু বিনোদনের জন্য পর্যন্ত খেলার সামগ্রী রয়েছে এখানে।
ফয়স লেকে এলে আপনার দুচোখ কী যেন এক আনন্দের পরশ খুঁজে পাবে। মনে হবেÑআহা, কী নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অনিন্দ্য অরূপ আধার এই ফয়স লেক। প্রকৃতির অকৃপণ দান এই ফয়স লেকে এসে অপরূপ মনোহারিণী দৃশ্য খুঁজে পাবেন। তখন হৃদয়তন্ত্রীতে বেজে উঠবে সুরের মূর্ছনা।
উঁচুনিচু অসংখ্য সুবজ টিলা, পাহাড় হ্রদ এলাকার হয়েছে ফয়স লেক ঘিরে। ছায়াঢাকা পাখিডাকা খোলামেলা বৈচিত্র্য সাজে সজ্জিত এ হ্রদে বোটে বেড়ানোর সময় প্রকৃতিপ্রেমিক মাত্রই ভাবাবেগে আপ্লুত হওয়ে ওঠেন।
এখানের পাহাড়ের পাদদেশে লেকসমৃদ্ধ বিনোদনকেন্দ্রটি পর্যটক আর দর্শনার্থীদেরকে কিছুটা হলেও বিনোদন-চাহিদা পূরণ করে থাকে। এখানে অ্যাডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ডে রয়েছে বিভিন্ন গেম। এখানে অংশ নিয়ে দর্শকদের ব্যাপক আনন্দ অনুভব করার সুযোগও আছে এখন। চট্টগামের অন্যতম পর্যটন স্থান ফয়স লেককে অত্যাধুনিক সাজে সুসজ্জিত করে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয় ২০০৪ সালের শেষদিকে। এরপর টুরিস্টরা এখানে এসে দারুণ এনজয় করার সুযোগ পাচ্ছেন। ফয়স লেকে প্রবেশমূল্য ৬০ টাক। লেকে প্রবেশের পর সার্কাস টেনে জনপ্রতি ১০ টাকা, বাম্পার বোটেচড়তে জনপ্রতি ৩০ টাকা, বাম্পার ারে জনপ্রতি ৪০ টাকা, বিহাবোটে জনপ্রতি ২০ ট্রকা, স্পিডবোট রিজার্ভ ২০০ টাকা এবং রিডেমশন গেমসে ২০ টাকা করে ভাড়া উন্মুক্ত। এছাড়াও এখানে রয়েছে রোলার কোস্টার, রেল, সান্তামারিয়া, ফেরিস হুইল, থিয়েটার, সার্কাস, সুইং লেজার শো, এক্সাইটিং স্লাইড, মার্চেডাইস শপ, ফ্লোটিং রেস্টুরেন্ট, রিডাকশন গেইম বিনোদনের জন্য আরো রয়েছেÑ বেইলি ব্রিজ, ভাসমান স্টেজ, হানিমুন শ্যালে, মোটেল, রিসোর্ট ও অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা-সংবলিত ক্যাবল কার।

বায়েজিদ বোস্তামির মাজার
চট্টগ্রাম শহরের দুই নম্বর গেইট থেকে অক্সিজেন যাবার পথেই দেখতে পাবেন বায়েজিদ বোস্তামির (রহ.) মাজার। তার নামেই পুরো এলাকার নামও বায়েজিত বোস্তাজিদ বোস্তামি হয়ে গেছে। আপনিও এখানে আসুন। মাজার জেয়ারত করে নিন। শবেকদর ও শবেবরাতের সময় এই মাজারে যেন জনতার ঢাল নামে। এই মাজারের সম্মুখস্থ পুকুরে দেখবেন কাছিম। কথিত আছে হযরত বায়েজিত বোস্তামির (র.) কিছু জিনকে কাছিম বানিয়ে এই পুকুরে আটকে রাখেন।

নানক গুরু দুয়ারা
চট্টগ্রামে শিখদের অন্যতম আকর্ষণ হল নানক গুরু দুয়ারা। এটি চকবাজারের জয়নগরে অবস্থিত। গুরু দুয়ারাটি এখনও আকর্ষণীয়। আপনি যদি এটি দেখতে চান তবে চকবাজার আলী খাঁ মসজিদ ছাড়িয়ে একটু এগোলোই দেখতে পাবেন। সুন্দর সিং-এর বংশধরেরা এটি দেখাশোনা করে। তবে ভারত থেকেই এর পরিচালনা কাজ চলে।

পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত
চট্টগ্রামের অন্যতম পর্যটন স্পট হল পতেঙ্গা সৈকত। দীর্ঘ তিন থেকে চার কিলোমিটার রাস্তার দুইপাশে লাগানো হয়েছে সারি সারি ঝাউগাছ। চট্টগ্রাম শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের অবস্থান। বড় বড় পাথর দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের তীর। এখানে দেখবেন অনেকগুলো ঝিনুকের দোকান। ‘কর্ণফুলী’ এবং ‘কিছুক্ষণ’ নামে একটি রেস্টুরেন্ট আছে এখানে।

ওয়ার সিমেট্রি
চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে বাদশা মিয়া রোডের পাশে ওয়ার সিমেট্রি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈনিকদের অনেককে এখানে সমাহিত করা হয়। এই ওয়ার সিমেট্রিতে রয়েছে বাহারি ফুলের বাগান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে চট্টগ্রাম থেকে বার্মা ফ্রন্টে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, ভারত, অফ্রিকা, নেদারল্যান্ড ও জাপানের যেসব সৈনিক নিহত হন তাদের মধ্যে এখানে ৭৫৫ জনের সমাধি আছে। সাত একর জায়গা জুড়ে প্রতিষ্টিত এই ওয়ার সিমেট্রি কোলাহলহীন নির্মল পরিবেশে অবস্থিত। সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এই ওয়ার সিমেট্রি ঘুরে দেখা যায়।

চন্দনপুরা হামিদিয়া তাজ মসজিদ
চট্টগ্রামের চন্দনপুরা সিরাজউদ্দৌলা রোডের পাশে চন্দনপুরা হামিদিয়অ তাজ মসজিদ। অষ্টাদশ শতাব্দীতে মসজিদটি স্থাপিত হয়। এর স্থাপত্যকলা দেখে যে কেউ মুগ্ধ হয়ে পড়েন। মসজিদটির ঊর্ধ্বাংশ রয়েছে পিতলের তৈরি ১৫টি গম্বুজ। লক্ষেèৗ থেকে আনা কারিগর দ্বারা এই মসজিটি তৈরি করা হয়। এখানের সবচেয়ে বড় গম্বুজটি করতে পিতলের প্রয়োজন পড়েছিল ১০ টন।

কৈবল্যধান
চট্টগ্রাম শহরেই রয়েছে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে পুরনো ও বড় তীর্থস্থান কৈবল্যধান। প্রায় ১৮ একর পাহাড়ি জমির উপর গড়ে উঠেছে এই ধাম। শ্রীশ্রী রামঠাকুরের কৃপালাভের আশায় প্রতিদিন এখানে পুণ্যার্তীদের আগমন ঘটে। এটি ১৮১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কৈবল্যধামে আছে গয়াঘর, কৈবল্যশক্তি, শিবশক্তি, শিবকাম শ্রীকু-, কৈবল্যকুন্ড নামের পৃথক পৃথক তীর্থস্থান।

পারকি সৈকত
চট্টগ্রাম শহর থেকে কর্ণফুলী ব্রিজ হযে ১২ কিলোমিটার দূরে গেলে দেখা যাবে পারকি সমুদ্র্যসৈকত। এটি আনোয়ারা উপজেলায় পড়েছে। ঝাউবন দিয়ে ঘেরা এই সমুদ্রসৈকতে বিকেলে বেড়াতে আসতে পারেন।

লালদিঘি
চট্টগ্রামের লালদিঘি দেখবার জন্য যেতে পারেন। জানা যায়, ইংরেজ আমলে চট্টগ্রামের মুসলিম হাই স্কুল পীর বদর শাহ-এর দরগাহ পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিমে কোনাকুনি টিলার উপর একটি লাল রঙের পাকা ভবন ছিল। ভবনের দেয়ালের রং লাল ছিল বলে এর নাম ছিল ‘লালকুঠি’। এর উত্তরকোণে একটি জেলখানা নির্মাণ করা হয়। এটির দেয়ালেও লাল রং দেয়অ হয়েছিল বলে এর নাম হয়ে যায় লালঘর। পরে এই এলাকার নাম হয়ে যায় লালদীঘি। বহু ঐতিহ্যের সাক্ষী এই লালদিঘি ও চারপাশ এখন সাজে সজ্জিত।

চেরাগী পাহাড়-বাটালি হিল
চট্টগ্রামের নামকরণের ইতিহাসের সাথেও জড়িত রয়েছে চেরাগী পাহাড়। চেরাগের স্থানীয় নাম চাটি। এই চাটি থেকেই এই শহরের নাম হয়েছে চাটিগ্রাম। এবং পরবর্তীতে তা রূপান্তরিত হয়ে চট্টগ্রাম নাম ধারণ করে। এই চেরাগী পাহাড়েই এসেছিলন বদর আউলিয়া। তিনি ইসলামধর্মী প্রচারের জন্য এখানে এসেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর প্রচেষ্টায় পুরো শহরে ইসলামধর্ম ছড়িয়ে পড়ে। পুরো চট্টগ্রাম শহর দেখতে চাইলে বাটালি হিলে উঠুন। পাহাড়চূড়ায় উঠে একনজরে উপভোগ করতে পারবেন পুরো চট্টগ্রাম। এ যেন চট্টগ্রাম শহর ধেকার জন্য প্রকৃতির তৈরি টাওয়ার।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
এখানের ক্যাম্পাস জুড়ে রয়েছে পাহাড়ি সবুজ পরিবেশ। বৌদ্ধ বিহার, হ্যালিপ্যাড, বোটানিক্যাল গার্ডেনও এখানে দেখতে পাবেন।
চট্টগ্রামে ৪ থেকে ৫ দিন সময় হাতে নিয়ে যাবেন। এখানের পাহাড়, অরণ্য আর সমুদ্র আপনার মনে এক দোলা লাগিয়ে দেবে।
বিভিন্ন তথ্য : চট্টগ্রাম জেলার উপজেলা ১৪টি। এগুলো হলোÑমীরেশ্বরাই, ফটিকছকি, হাটহাজারি, চন্দনাইশ, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, সন্দ্বীপ, সীতাকু-, আনোয়ারা, বাঁশখালী, বোয়াখালী, লোহাগাড়া, পটিয়া আর সাতকানিয়া। উল্লেখযোগ্য থানা হলোÑ কোতোয়ালি, বন্দর, চান্দগাঁও, ডবিলমুরিং, পাহাড়তলী, পাঁচলাইশ, কর্ণফুলী, পতেঙ্গা, বাকুলিয়া। এই জেলার আয়তন প্রায় ৫,২৮৩ বর্গকিলোমিটার। চট্টগ্রাম জেলায় রয়েছে মুসাখাঁ মসজিদ (১৬৫৮), কদম মোবারক মসজিদ, আন্দরকিল্লা মসজিদ, ওয়ালি খাঁ মসজিদ। মুসা খাঁ মসজিদ সন্দ্বীপে অবস্থিত।


যাতায়াতের খবরাখবর : ঢাকা থেকে আন্তঃনগর ট্রেন মহানগর প্রভাতী, মহানগর গোধূলি, সুবর্ণ এক্সপ্রেস, তূর্ণা নিশীথায় চট্টগ্রাম যাওয়া যায়। মতিঝিল কমলাপুর, সোবহানবাগ, কলাবাগান, কাকরাইল, সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল এলাকা থেকে শীতাতপ ও চেয়ার পরিবহন কিছুক্ষণ পরপর চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এস আলম, হানিফ, সৌদি, ইউনিক, টোকিও লাইন, গ্রীনলাইন, সোহাগ পরিবহনে যেতে পারেন।
হোটেলের খবর : রাত কাটানোর জন্য চট্টগ্রামে রয়েছে হোটেলের ছড়াছড়ি। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হোটেল হলোÑ আগ্রাবাদ, সেন্ট মার্টিন, গোল্ডেন ইন, ম্যানিলা, মায়ামী, রাজধানী, মিসকা, সাজেদা, আলাউদ্দিন, কর্ণফুলী ইন্টারন্যাশনাল, চিম্বুক, সাফিনা, শাজাহান, ব্রডওয়ে প্রভৃতি।


আশপাশে : চট্টগ্রাম জেলার অভ্যন্তরে সীতাকু-, ফৌজদারহাট, সন্দ্বীপ জায়গা থেকেও একই সঙ্গে ঘুরে আসুন। সীতাকু-ে গেলে পাহাড়ের পর পাহাড় দেখবেন। ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান এই সীতাকুন্ড। এখানে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের শীর্ষে রয়েছে চন্দ্রনাথ মন্দির। চট্টগ্রাম থেকে ৩৭ কিলোমিটার উত্তরে সীতাকু- অবস্থিত। কৃষি, শিল্প, মৎস্য ও বনজসম্পদে সমৃদ্ধ সীতাকু- উপজেলার দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক এ লীলাভূমির একদিকে রয়েছে গিরি-পর্বত, অন্যপ্রান্তে বিশাল সমুদ্র, মধ্যখানে বিস্তৃত উর্বর সমতল ভূমি। উপজেলার উত্তরে মহাসড়কের দুপাশে রয়েছে ভারী রাষ্ট্রীয় শিল্পকারখানা। আবার নতুন করে গড়ে উঠছে একাধিক ব্যক্তিমালিকানধীন ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড।

বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক
বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক বন্দরনগরী চট্টগ্রামের উত্তরেই সীতাকু- উপজেলায় অবস্থিত। এখানে সুউচ্চ পাহাড়ের উপর একটি শিবমন্দির। আর এই অনিন্দ্যসুন্দর মন্দিরের পাশেই গড়ে উঠেছে সীতাকু- বোটানিক্যাল গার্ডে ও ইকোপার্ক। পার্ক অসংখ্য উঁচুনিচু পাহাড়ের সমন্বয়ে গঠিত। চন্দ্রনাথ পাহাড়ের এক হাজার একর নবাঞ্চল নিয়ে এখানের বোটানিক্যাল গার্ডেটি। ইকো পার্কের আয়তন ৯৯৬ একর। এখানে গিয়ে দেখা যাবেÑ গর্জন, ধারমরা, ঢেউটা, হলু, গুটাগুটিয়াসহ হরেক রকমের বিচিত্র গাছগাছালি। নানান প্রজাতির পশুপাখি আছে এখানে, যেমনÑ হরিণ, ভালুক, হনুমান, বানর, শালিক, টিয়া, ময়না। শ্যামার কিচির-মিচিরে মুখরিত থাকে এই পার্ক। এখানে সারিসারিভাবে লাগানো আছে জায়তুন, লাগালিঙ্গম, বাঁশপাতা, তমাল, তেজপাতাসহ নানান জাতের গাছপালা। আঁকাবাঁকা পাহাড়িয়া পথ ধরে এগোলোই দেখবেন পাহাড়ি ঝরনা। তখন শুধু তাকিয়ে থাকবেন।
সীতাকুন্ডের নামকরণের সত্যতা সম্পর্কে জোরালোভাবে কোনো তথ্য পাওা যায়নি। রামায়ণে বর্ণিত রাম-সীতা চন্দ্রনাথ পাহাড়ের পাদদেশে এসেছিলেন। এখানে সীতার জন্য রাম একটি কু- খনন করেন। সীতা সেই কু-েই স্নান করতেন। অনেকের ধারণা, সীতার এ আগমন থেকে সীতাকু- নামকরণ হয়েছে।

সন্দ্বীপ
চট্টগ্রামের সদরঘাট থেকে প্রতিদিন সকাল ৯টায় স্টিমার ছাড়ে সন্দ্বীপের উদ্দেশ্যে। সন্দ্বীপ যাওয়ার পথে বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলরাশি দেখতে পাবেন। সীতাকুন্ডের কুমিরা থেকেও লঞ্চে সন্দ্বীপ যাওয়া যায়। সময় লাগে ২ ঘণ্টা। রাত যাপন করার জন্য আবাসিক হোটেল পাবেন। সন্দ্বীপে বড় বড় দীঘি রয়েছে। উত্তর-দক্ষিণে এর আয়তন ২০ মাইল। পূর্ব-পশ্চিমে ৮ থেকে ১০ মা্িল এই দ্বীপের বিস্তৃতি। প্রায় বাড়িতে দেখবেন পান গাছের ছড়াছড়ি। নয়তো নারকেল গাছ। বেশি দূরে নয় উড়িরচর। এখানেও যেতে পারেন। বিকেলে ভেড়িবাঁধ এলাকায় গেলে দারুণ আনন্দ পাবেন। দখিনা বাতাস এসে যথন বুকে ঠেকবে তখন পুলকিত হবেন। সন্দ্বীপের কালাপানিয়া, পূর্ব মগধরা, সারিঘাট প্রভৃতি চরাঞ্চলে যাবেন। মুসাবিবিরি দীঘিটি দেখতে গিয়ে অতীত যুগে ফিরে যাবেন। দীঘল রাজার আমলে এটি তৈরি হয়। তখন বাংলায় ছির শায়েস্তা খাঁর আমল। সন্দ্বীপ পিঠার জন্যে বিখ্যাত। এখানে প্রায় দোকানে তৈরি করা হয় নানা ধরনের পিঠা।