গয়েবলস্ এর নব্য সংস্করন বাংলাদেশের হেফাজত ও দোসরগণ

56
Social Share

এ বি এম আখতার হোসেন: পল জসেফ গয়েবলস্ (জন্ম ২৯ অক্টোবর ১৮৯৭ এবং মৃত্যু য ১ মে ১৯৪৫)।তিনি ছিলেন স্বৈরাচারী আডল্ফ হিটলারের প্রচারযন্ত্রের মন্ত্রী।তাকে বলা হতো উগ্রবাদী চিন্তার ধারক, প্রচারক এবং গুরু কারন তিনি হিটলারের নাৎসী বাহিনীর কর্মকান্ডগুলিকে জার্মান জনগনের কাছে মিথ্যা ও রং লাগিয়ে এমনভাবে প্রচার করতেন যেন মানুষ বিশ্বাস করে। শত শত নিরিহ জনগণকে হত্যা করে প্রচার ও প্রমান করতেন দেশ ও জার্মানদের গৌরব রক্ষা করার জন্য এই কাজগুলি করতেই হবে।এই কারনে হিটলারের আত্মহত্যার পর জনরোষে পরার আগে মাত্র একদিনের জন্য জার্মানের চ্যান্সেলর হয়েছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি, স্ত্রী ও ছয় সন্তানসহ বিষ খেয়ে আত্ম হত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এই কারনে যখন কোন ব্যক্তি বা সরকার বা গোষ্ঠি একটি মিথ্যাকে রং লাগিয়ে, বার বার প্রচারযন্ত্র ও জনগণকে ভুল বুঝিয়ে মানুষের মাঝে মিথ্যা বিষয়গুলিকে সত্যে পরিনত বা বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে তখন তাকে আমরা প্রবাদ হিসেবে বলে থাকি গায়েবলীয় কায়দায় মিথ্যাকে সত্যে পরিনত করা।

গত ৩ এপ্রিল বিকেল ৪ টার পর থেকে মামুনুল হকের নারীঘটিত ঘটনা থেকে পরবর্তী দুই সপ্তাহে বাংলাদেশে চরম একটি অনৈতিক ঘটনাকে মৌলবাদী গোষ্ঠি তাদের ধর্মীয় শক্তি, পেশী শক্তি ও সামাজিক গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে মিথ্যা প্রমানের চেষ্টা চালিয়েছে এবং প্রমান করতে চেষ্টা করেছে যা ঘটেছে তা ছিল ধর্মীয়ভাবে জায়েজ। সেই নারী কেলেংকারী ঘটনাটি বাংলাদেশের ধর্মভীরু জনগনের মধ্যে মিথ্যা হিসেবে অনেকাংশে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যেমনটি করেছিল ৫ই মে ২০১৩ সালে হাজার হাজার হেফজতি কর্মীর মৃত্যুর মিথ্যা তথ্য দিয়ে। সত্য ঘটনাকে বার বার ধর্মীয় আলেম, সহযোগীদের দ্বারা প্রচার করছে যার ফলে সরল ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে এবং সাধারণ মানুষ ভাবতে শুরু করেছে এটি একটি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের যড়যন্ত্র। পাশাপাশি বিষয়টি জেহাদের পর্যায়ে নিয়ে যেতে চেয়েছিল, এবং সামাজিক গণমাধ্যমগুলিতে জঘন্যভাবে মিথ্যাচার করে জনগণকে বোঝাতে চেয়েছে সরকারের এজেন্সিগুলি ঘটনা ঘটিয়েছে একজন মানুষ আলেমকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য কারন তিনি বাংলাদেশের ঈমান, আকিদা ও ধর্ম রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন। তাদের ধারনা ছিলো সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে মাঠে নামবে সরকার বিরোধী আন্দোলন ও জ্বালাও পোড়াও করবে, প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলিও তাদের পক্ষে বিবৃতি দিয়ে ‘মমিনুলের বিরুদ্ধে অন্যায় হচ্ছে, মজলুমের বিরুদ্ধে অন্যায় হচ্ছে, অনেক বাম নেতারাও হয়তো আওয়াজ দিবে সরকার জনগণের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করছে।সরকার নত হবে এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠির অনৈতিক কাজটি সবার কাছে বৈধতা পেয়ে যাবে এবং যারা ধর্ম নিয়ে খেলছে তাদের রাস্তা পরিস্কার হয়ে যাবে।কিন্তু মামুনুলের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে তা আর সম্ভব হয় নাই কিন্তু প্রতিক্রিয়াশীল চক্র ঘরে বসে নেই, বিভিন্নভাবে উস্কানি চলছেই এবং মূলধারার রাজনৈতিক দল বিএনপি তাদের সমর্থন করছে।