‘গ্যারান্টি’ না পেলে উপসাগরীয় অঞ্চল স্থিতিশীল হবে না: ইরান

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থায়ী নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আর কোনো হামলা চালানো হবে না এমন ‘বিশ্বাসযোগ্য গ্যারান্টি’ চেয়েছে ইরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদের এক অধিবেশনে এই শর্ত তুলে ধরেছেন। 

অন্যদিকে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অবস্থানরত ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওয়াশিংটনের ‘অতিরিক্ত দাবি’র কারণে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের এই নাজুক পরিস্থিতিতে মস্কো তেহরানকে সংঘাত অবসানে সর্বাত্মক সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

জাতিসংঘের অধিবেশনে আমির সাইদ ইরাভানি তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, পারস্য উপসাগর এবং বৃহত্তর অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা কেবল তখনই সম্ভব, যখন ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা হবে না এমন নির্ভরযোগ্য নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের সার্বভৌম অধিকার ও স্বার্থের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। ইরাভানি মনে করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তেহরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হচ্ছে, ততক্ষণ এই অঞ্চলের জলসীমা এবং জ্বালানি সরবরাহের পথগুলো নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে না।

এদিকে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে সফররত ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার অভিযোগ করেছেন, শান্তি আলোচনা যথেষ্ট অগ্রসর হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের অনড় অবস্থানের কারণে তা লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই সফরে আরাগচিকে আশ্বস্ত করেছেন, যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়া তেহরানের পাশে থাকবে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরান যদি আলোচনা করতে চায় তবে ‘তারা আমাদের ফোন করতে পারে’। গত সপ্তাহান্তে পাকিস্তানে প্রতিনিধি না পাঠানোর সিদ্ধান্তকে তিনি শত্রুতার নতুন সংকেত হিসেবে দেখতে বারণ করেছেন।

অন্যদিকে লেবানন সীমান্তে যুদ্ধবিরতি থাকলেও সেখানে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছেন, হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন ইসরায়েলের জন্য প্রধান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা মোকাবিলায় সামরিক অভিযান সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

লেবাননের কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির কথা থাকলেও সোমবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। সংঘাতের এই নতুন বিস্তার মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং বিশ্বজুড়ে নতুন করে মানবিক সংকটের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

পূর্বের খবরহামের টিকা পেয়েছে ৯৪ লাখ ২৪ হাজার শিশু: তথ্য উপদেষ্টা
পরবর্তি খবরজুলাই অভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা ‘অন্যায়’, জামায়াত প্রসঙ্গে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে সংসদে উত্তেজনা