গৃহবধূ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

39
Social Share

কাজল আর্য , টাঙ্গাইল প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের বাসাইলে গৃহবধূকে হত্যার করে ঘরে ঝুলিয়ে রাখার সাথে জড়িতদের ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন নিহতের স্বজনরা।

রবিবার টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে সদর উপজেলা ও বাসাইল উপজেলার জনসাধারণের আয়োজনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।

নিহত কনা আক্তার বাসাইল উপজেলার কাশিল পশ্চিমপাড়া এলাকার দুবাই প্রবাসী কবির হোসেনের স্ত্রী ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের দরুন গ্রামের জয়নাল মিয়ার মেয়ে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রবাসী কবির হোসেন ও তার বড় দুই বোন অর্থলোভী সালমা ও তাসলিমার ষড়যন্ত্র ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে পরিকল্পিতভাবে কনা আক্তারকে হত্যা করে লাশ ঘরের ধর্নার সাথে ঝুলিয়ে  রাখে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালানো হয়। আমরা এলাকাবাসী এই নির্মম হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের ফাঁসি চাই।

উল্লেখ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে জেলার বাসাইল উপজেলার কাশিল পশ্চিমপাড়া এলাকার বাবু মিয়ার দুবাই প্রবাসী ছেলে কবির মিয়ার সাথে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের দরুন গ্রামের জয়নাল মিয়ার মেয়ে কনা আক্তারের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক দাবিতে তার শাশুরী ও দুই নোনাশের (স্বামীর বোন) অত্যাচার শুরু হয়। এরপর তার শাশুরী কহিনূর বেগম ও স্বামী কবির মিয়া পুনরায় প্রবাসে পাড়ি জমান। ওই গৃহবধূ কনা আক্তার তার শিশু সন্তানকে নিয়ে বাকপ্রতিবন্ধী শশুরের সাথে বসবাস করেন। এরমধ্যে নোনাশ সালমা বেগমের স্বামী অন্যত্র বিবাহ করায় ও তাসলিমা বেগমের স্বামী প্রবাসে থাকায় তারা শশুরবাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতেই অবস্থান নেয়। এমতাবস্থায় গৃহবধূ কনার প্রবাসী স্বামী কবির ও শাশুরী কহিনূরের টাকা আত্মসাতের পায়তারা করে তার দুই নোনাশ। বিভিন্ন সময় যৌতুক দাবিতে নোনাশ সালমা ও তাসলিমা বেগম গৃহবধূ কনাকে মারধর করে আসছিল। সোমবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায়ও ওই গৃহবধূ কনাকে তার দুুই  নোনদ মিলে মারধর করে। পরে মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সকালে তার বসত ঘরের ধর্নার সাথে ঝুঁলন্ত অবস্থায় গৃহবধূ কনা আক্তারের লাশ পাওয়া যায়।