গুলশান থেকে ২০ মিনিটে যেতেন বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে

61
Social Share

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে আলাপে বসে ঢাকায় ছাত্রজীবনের কথা স্মরণ করেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং। বিশেষভাবে তিনি উল্লেখ করেন প্রতিদিন সকালে গুলশান থেকে মোটরসাইকেলে চড়ে মাত্র ২০ মিনিটে শাহবাগে বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে পৌঁছে যাওয়ার দিনগুলোর কথা। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি (লোতে শেরিং) তো আমাদের ছেলে।

এখানে (বাংলাদেশে) তিনি পড়াশোনা করেছেন। তিনি বলছিলেন, গুলশানে থাকতেন। আসতেন বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে। হোন্ডায় চড়ে, যাতে ২০ মিনিটে চলে আসা যায়। তা-ও সকালবেলা রওনা দিয়ে। ৯টার দিকে রওনা দিলে অনেকক্ষণ লাগত। তাই তিনি সকালবেলা চলে আসতেন। তাতে খুব কম সময় লাগত হোন্ডায় চড়ে।’

প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং ঢাকায় মোটেও নতুন নন। প্রধানমন্ত্রী হয়ে দুই বছর আগে পহেলা বৈশাখে বাংলাদেশ সফরের সময় ছুটে গিয়েছিলেন তাঁর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে। বিদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে একসময় বাংলাদেশে পড়ালেখা করা লোতে শেরিং এখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাচ্ছেন ভিভিআইপি প্রটোকল। লোটে শেরিং গতকাল সকালে ঢাকায় এসে পৌঁছার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

লোটে শেরিং ঢাকায় পৌঁছার পরপরই ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ফেসবুক পেজ ও টুইটার বার্তায় বলা হয়েছে, “তিনি আবারও সেই ভূমিতে ফিরে এসেছেন। এটি কার্যত তাঁর ‘সেকেন্ড হোম’ (দ্বিতীয় ঠিকানা)। এখানেই তিনি একজন চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন আঁকড়ে ধরেছিলেন। তবে এবার তিনি একজন দূত হিসেবে ভুটানের মহামান্য রাজার বিশেষ প্রার্থনা ও ভুটানের জনগণের ভালোবাসা নিয়ে এসেছেন (বাংলাদেশের জন্য)।”

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দর থেকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান। সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর ঢাকায় ফিরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। বিকেলে তাঁর সঙ্গে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সাক্ষাতের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও কানেক্টিভিটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ দেশের নৌপথগুলো ব্যবহারের বিষয়ে তাঁদের আগ্রহ আছে।

মানুষে-মানুষে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়ে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষে-মানুষে যোগাযোগ বাড়াচ্ছি। আমরা চিন্তা করছি, ঢাকা-থিম্পু সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে পারি। তারা (ভুটান) রেলওয়ে পছন্দ করে। হলদিবাড়ী টু চিলাহাটি নিয়ে আমাদের একটু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।’

কভিড মহামারির মধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বাংলাদেশে আসার বিষয়টিকে বিশাল ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, কভিড মোকাবেলায় ভুটানে বেশ কড়াকড়ি। সেখানে কভিডে মৃত্যুর সংখ্যা নেই বললেই চলে। এ জন্য তারা পুরস্কারও পেয়েছে। এই কড়াকড়ির মধ্যেও বাংলাদেশের উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁরা ফ্লাইট নিয়ে চলে এসেছেন। ফেরার পর প্রধানমন্ত্রীসহ প্রতিনিধিদলের সবাইকে বাধ্যতামূলক ২১ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। বন্ধু রাষ্ট্রের জন্য এ এক বিশাল ত্যাগ।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী গতকাল প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত নৈশ ভোজেও অংশ নেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী আজ বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন। বিকেলে তিনি বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তিনি জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত ‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। সেখানে তিনি বক্তব্যও দেবেন। সফর শেষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ভুটানে ফিরে যাবেন।