গাজীপুরে সাদামাটাভাবে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের নবম মৃত্যুদিবস পালিত

36
Social Share

বৈশ্বিক করোনার এসময়ে এবার সীমিত পরিসরে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুুন আহমেদের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। দোয়া মাহফিল ও কবর জিয়ারতের মাধ্যমে  সীমাবদ্ধ আয়োজনে দিনটি উদযাপন করা হয়েছে। কিন্তু করোনা সংকটের কারণে হুমায়ূন ভক্তদের উপস্থিতি ছিল অন্যান্যবারের তুলনায় কম।

নুহাশপল্লীর ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, ‘লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন ও তার সন্তানরা ভোরে স্যারের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকা থেকে রওয়ানা হয়েছিলেন। কিন্তু প্রায় চার ঘন্টা অপেক্ষা পর মহাসড়কে তীব্র যানজটের কারনে বাসায় ফিরে যান বলে জানান।’

তিনি আরো বলেন, করোনা সংক্রমণের কারণে নুহাশপল্লীতে এবার স্যারের আয়োজন শিথিল করা হয়েছে। সীমাবদ্ধ আয়োজনে এবার তার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। প্রতি বছর নানা আয়োজনে কাঙ্গালীভোজের আয়োজন থাকলেও এবার ওইসবের অর্থ দু:স্থদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে আজ সোমবার সকাল থেকেই কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের নিজ হাতে গড়া নুহাশপল্লীতে ভক্তদের বরণ করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রয়াত লেখকের নুহাশপল্লীর ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বুলবুল হিমু পরিবহন ও হুমায়ূন ভক্তদের সাথে নিয়ে কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাত পরিচালনা করেন নুহাশ পল্লী মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. মুজিবুর রহমান। এসময় লেখকের আত্মার শান্তি কামনায় মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে মোনাজাত করা হয়।

বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেও হুমায়ূন ভক্তরা নূহাশ পল্লীতে আসেন তাদের প্রিয় লেখককে শ্রদ্ধা জানাতে। টঙ্গী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রাজন বলেন, ‘পাঠক ধরে রাখার অনন্য সাধারণ কৌশল রয়েছে হুমায়ূন আহমেদের লেখনীতে। যখন থেকে তার লেখা বই পড়া শুরু করেছি তখন থেকেই তার ভক্ত হয়ে গেছি। মন খারাপ হলেই হুমায়ূন স্যারের বই পড়ি।’

এদিকে, হিমু পরিবহন গাজীপুরের সদস্য সানজিদা সিমু বলেন, যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন হুমায়ূন স্যারের ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে চাই। স্যারের সকল লেখা পড়তে চাই।

তবে অন্বেষা প্রকাশনের স্বত্তাধিকারী মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন ও কাকলী প্রকাশনীর এ কে নাসির আহমেদ সেলিমসহ কয়েকজন প্রকাশক লেখকের কবরে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। অন্বেষা প্রকাশনের স্বত্তাধিকারী মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘তার সাহিত্য, নাটক, সিনেমা সব ক্ষেত্রেই অবদান ছিল। তাকে নিয়ে আরো অনেক গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। আর এ গবেষণা যত হবে তার সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম আরো বেশি জানতে পারবেন।’

প্রসঙ্গত, ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই ৬৪ বছর বয়সে আমেরিকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অসংখ্য ভক্তদের রেখে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন হুমায়ূন আহমেদ। পরে ২৪ জুলাই গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী গ্রামে স্বপ্নের নুহাশপল্লীর লিচুগাছ তলায় প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ দাফন করা হয়। ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।