গর্ভের সন্তান সহ প্রসূতির মৃত্যু : স্বজনদের হামলায় তালা হাসপাতালের ডাক্তার সহ আহত ৭

35
Social Share

বি. এম. জুলফিকার রায়হান, তালা: প্রসূতি মা ও গর্ভের সন্তানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২ জন ডাক্তার, ২জন সেবিকা এবং ৩জন স্টাফের উপর হামলা চালানো হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে মারা যাওয়া প্রসূতির স্বজনরা হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের সামনেই ডাক্তারদের উপর হামলা চালায়। এসময় ঘটনার সংভাদ পেয়ে তালা থানা পুলিশ তৎক্ষনাত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। ঘটনায় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে জিডি হয়েছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার সময় উপজেলার হাজরাকাঠি গ্রামের শাহাবুদ্দীন সরদারের প্রসূতি স্ত্রী দিনা বেগম (৩০) তালা হাসপাতালে ভর্তি হন। বিকালে সিজার করার সময় অপারেশন টেবিলে তার মৃত্যু হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দিনা বেগমের স্বজনরা ডাক্তার, নার্স ও স্টাফদের উপর হামলা চালায়। হামলায় ডাক্তার অতনু ঘোষ, ডাক্তার ফারাহ ফেরদৌস, নার্স জাহানারা বেগম, বৃষ্টি, স্যাকমো রায়হান ইসলাম, ওটি সহকারী রহমত হোসেন এবং আয়া আসমা বেগম আহত হন। প্রসূতির স্বজনরা জানান, সিজার করার আগে ডাক্তার অতিরিক্ত অবশ করার ইনজেকশনপুশ করায় দিনা বেগম মারা যান।
এব্যপারে তালা থানার ওসি মো. মেহেদী রাসেল বলেন, হামলার ঘটনার সংবাদ পেয়ে তৎক্ষনাত সেখানে যেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করা হয়। এঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি। তবে এব্যপারে ডা. অতনু ঘোষ একটি জিডি করেছেন।
এবিষয়ে ডাক্তার অতনু ঘোষ জানান, প্রসূতি দিনা বেগমের অবশ করার ইনজেকশন দেবার পর তার শরীরে অক্সিজেন কম হয়ে যায়। যেকারনে রোগীকে সিজার না করিয়ে দ্রুত খুলনা প্রেরন করার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু এরই মধ্যে রোগীর ৬/৭ স্বজন আকস্মিক ভাবে হামলা চালায়।
ডা. অতনু বলেন, প্রসূতি দিনা বেগম হার্টের রোগী ছিল। তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় এদিন সন্ধ্যায় মারা যান। অথচ রোগীর স্বজনরা অহেতুক আমাদেন লাঞ্চিত করে।
তিনি বলেন, রোগীর চিকিৎসায় আমাদের আন্তরিকতার কমতি ছিলনা। রোগীকে যখন খুলনা প্রেরন করা হয় সাথে ওটি সহকারী রহমতকে পাঠানো হয়েছিল। মূলত দীর্ঘ বছর পর হাসপাতালে ওটি বিভাগ চালু করায় ক্লিনিক ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হতে শুরু করে। তারাই উস্কানি দিয়ে হাসপাতালে হামলার ঘটনা এবং অপপ্রচার চালিয়েছে।
এদিকে, গর্ভের সন্তান সহ মারা যাওয়া প্রসূতি দিনা বেগমের মৃতদেহ এদিন রাতে হাজরাকাঠি গ্রামের বাড়িতে আনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।