গণপরিবহন এড়িয়ে চলার পরামর্শ আইইডিসিআরের

Social Share

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে গণপরিবহন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন সরকারের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) কর্মকর্তারা।

শনিবার করোনা নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন নতুন দেশ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে এখনও এই ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া না গেলেও উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এ অবস্থায় সতর্কতা অবলম্বন করা ছাড়া বিকল্প নেই। এরই অংশ হিসেবে সম্ভব হলে গণপরিবহন এড়িয়ে চলতে হবে।

পরিচালক আরও বলেন, বিদেশ থেকে কেউ এলেই করোনা সংক্রমিত ধারণা করা সঠিক নয়। তবে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। তাই বিদেশ থেকে এলে নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার এবং গাড়ির জানালা খুলে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিকে এগিয়ে আনতে পরিবার কিংবা স্বজনদের বিমানবন্দরে না যাওয়াই ভালো। এতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়িয়ে চলা যাবে।

সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইতালিতে আক্রান্ত বাংলাদেশিদের বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত পাঁচ বাংলাদেশির মধ্যে তিনজন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে আইসিইউতে থাকা ব্যক্তির অবস্থা অপরিবর্তিত। এর বাইরে সিঙ্গাপুরে নতুন করে কোনো বাংলাদেশি আক্রান্ত হননি। ইতালিতে আক্রান্ত ব্যক্তি হোম আইসোলেশনে আছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাস সার্বক্ষণিক তাদের বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. ফ্লোরা বলেন, দেশটিতে প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এটি অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগের। এ ছাড়া চীনের বাইরে আক্রান্ত দেশ ও রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান ও ইতালির পরিস্থিতি উদ্বেগজনক এবং প্রতিদিন এসব দেশে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে করোনা নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পরিচালক বলেন, এ নিয়ে গুজবে কান না দিয়ে আইইডিসিআরের তথ্যে ভরসা রাখুন। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ১১১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে কারও শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া যায়নি।

বিদেশের আক্রান্ত অঞ্চল থেকে আগত ব্যক্তিদের জ্বর, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট থাকলে তাদের আইইডিসিআরের হটলাইনে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এসএম আলমগীরসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।