গণতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জালিয়াতির স্বাক্ষী হতে যাচ্ছি : নেতানিয়াহু

39
Social Share

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আট দলের অংশগ্রহণে জোট গঠনকে জালিয়াতি বলে অভিযোগ করেছেন। গতকাল রবিবার নিজ দল লিকুদ পার্টি থেকে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে নির্বাচিত সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই মন্তব্য করেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে, আমার মতে যে কোনো গণতন্ত্রের ইতিহাসে আমরা সবচেয়ে বড় নির্বাচনী জালিয়াতির স্বাক্ষী হতে যাচ্ছি।’

নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে বলেন, শুধু তার বিরুদ্ধে শত্রুতার কারণেই পরস্পরবিরোধী এই দলগুলো জোটবদ্ধ হয়েছে। এর আগে গত শনিবার ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা সিন বেতের প্রধান নাদাভ আরগামান এক বিবৃতিতে সহিংসতা সৃষ্টি ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে সতর্কতা দেন। তিনি বলেন, ‘এই বক্তব্য নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির কাছে অবৈধ সহিংসতার বার্তা দিতে পারে যাতে প্রাণহানী ঘটতে পারে।’

সিন বেতের এক মুখপাত্রের কাছে আরগামানের নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির বিষয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি প্রশ্ন করলে তাতে কোনো মন্তব্য না করে তিনি বলেন, এই সতর্কতা চলমান সার্বজনীন পরিবেশ সম্পর্কেই দেওয়া হয়েছে যার অবসান হওয়া প্রয়োজন। তবে নেতানিয়াহুর বিরোধী দলীয় রাজনীতিক ও কিছু স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, সিন বেত প্রধানের সতর্কতা বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করেই দেওয়া।

দলীয় নেসেট সদস্যদের বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ‘রাজনৈতিক সমালোচনা ও সহিংসতায় উস্কানির মধ্যে ক্ষীণ পার্থক্য রয়েছে। আমরা কখনোই ডানপক্ষ থেকে আসা সমালোচনাকে সহিংসতায় উস্কানি এবং বামপক্ষ থেকে আসা সমালোচনাকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা বলতে পারি না।’ এদিকে নেতানিয়াহুর সমর্থকরা তাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে আন্দোলন করছেন। কেউ কেউ দীর্ঘকালীন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এককালীন মিত্র নাফতালি বেনেত ও তার ইয়ামিনা দলীয় নেসেট সদস্যদের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করছেন। সরকার গঠনের সিদ্ধান্তে সদস্যদের আস্থা ভোটের জন্য আগামী বুধবার বা পরের সপ্তাহের সোমবার নেসেটের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইসরায়েলে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় গত ২৩ মার্চ দুই বছরের মধ্যে চতুর্থ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই নির্বাচনেও কোনো দল বা জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়। দেশটিতে সরকার গঠনের জন্য ১২০ আসনবিশিষ্ট আইন পরিষদ নেসেটের ৬১ সদস্যের সমর্থনের প্রয়োজন হয়। প্রথম দফা আলোচনার পর নেসেটের ৫২ সদস্য প্রধানমন্ত্রী পদে নেতানিয়াহুর সুপারিশ করায় এপ্রিলের শুরুতে তাকে সরকার গঠনের জন্য প্রথম মনোনয়ন দেন রিভলিন। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জিত না হলেও ওই সময় এটিই ছিল সর্বোচ্চ মনোনয়ন।

কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন করা জিউনিস্ট পার্টি কোনো আরব দলের সঙ্গে সরকার গঠনের অস্বীকৃতি জানানোয় তিনি সরকার গঠনে ব্যর্থ হন। নেতানিয়াহুর ব্যর্থতার পর ৫ মে নতুন করে নেসেট সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট রিভলিন। নতুন আলোচনায় রক্ষণশীল ইয়ামিনা পার্টির প্রধান নাফতালি বেনেতের সাথে ক্ষমতা ভাগাভাগির এক প্রস্তাবনার পরিপ্রেক্ষিতে মোট ৫৬ সদস্যের সুপারিশ পান লাপিদ। সমঝোতা অনুসারে ইসরায়েলের নতুন গঠিত হতে যাওয়া সরকারের প্রথম দফায় বেনেত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। পরে ইয়ায়ির লাপিদ তার কাছ থেকে সরকারের নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

এর আগে ২ জুন সরকার গঠনে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার সামান্য আগে ইয়েশ আতিদ দলের প্রধান ইয়ায়ির লাপিদ সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। রক্ষণশীল ইয়ামিনা দলের প্রধান নাফতালি বেনেত ও অন্য আরো ছয়টি দলের প্রধানের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন সরকার গঠনের এই ঘোষণা দেন তিনি।

সূত্র : আলজাজিরা।