খ্রিস্ট ধর্ম মিশনারিদের মাধ্যমে যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে খ্রিস্টানদের ধর্ম

68
খ্রিস্ট
Social Share

মসলা আর ভারতীয় মসলিনের খোঁজে ইউরোপ থেকে ১৪৯৮ সালে তাদের সঙ্গে ভারতে আসে খ্রীস্ট ধর্ম ও। আসার পথ আবিষ্কার করেছিলেন পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা। এরপর দলে দলে ইউরোপীয়রা এই উপমহাদেশে আসতে শুরু করে।

সেই শুরুর দিকে ভারতের পশ্চিম উপকূলে গোয়ায় বসতি স্থাপন করেছিল ইউরোপীয়রা – আর সেখান থেকে তারা ছড়িয়ে পড়তে থাকে পুরো ভারতবর্ষ জুড়ে।

Read more:

Facebook Secretly Tracks Your iPhone. 

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলে পর্তুগিজরা পঞ্চদশ শতকে এলেও তখন তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এসব ব্যবসায়ীরা ধর্ম বিস্তারের দিকে খুব একটা নজর দেয়নি।

এই অঞ্চলে খ্রিষ্ট ধর্মের বিস্তার শুরু হয় মূলত মিশনারিদের হাত ধরে।

‘বাংলাদেশে খ্রিষ্টমণ্ডলীর ইতিহাস’ বইতে ফাদার মাইকেল ডি’রোজারিও লিখেছেন, ”১৫০০ সাল থেকে বিভিন্ন যাজক সম্প্রদায়-ফ্রান্সিকান, ডমিনিকান, অগাস্টিনিয়ান প্রভৃতি ব্যবসায়ীদের সাথে পর্তুগাল থেকে ভারতে এসে পর্তুগীজ শাসিত সমুদ্রোপকূলীয় জেলাগুলোতে গির্জা নির্মাণ করতে লাগলেন।”

তিনি লিখেছেন, ১৫১৭ সাল থেকেই পর্তুগীজরা নিয়মিতভাবে জলপথে বাংলা দেশে যাতায়াত শুরু করে। ১৫৩৭ সালে তারা চট্টগ্রাম এবং হুগলীর কাছে সাতগাঁয়ে উপনিবেশ স্থাপন করে। জুলিয়ানো পেরেরা নামের একজন ফাদার ছিলেন সাতগাঁয়ের (হুগলির কাছে) গির্জার দায়িত্বে।
বিডিখ্রীস্টিয়াননিউজ ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক এলড্রিক বিশ্বাস বিবিসি বাংলাকে জানান যে ‘১৫৭৭ সালে মুঘল সম্রাট আকবর পর্তুগীজদের তৎকালীন বঙ্গদেশে স্থায়ী বসতি স্থাপন ও গির্জা নির্মাণের অনুমতি দেন।

“পর্তুগীজ বসবাসকারীরাই হলেন বাংলার প্রথম খ্রিস্টান, দেশীয় খ্রিস্টানরা হলেন তাদের বংশধর। পরবর্তীতে খ্রিস্ট ধর্মবিশ্বাসের বিস্তার লাভের মাধ্যমে খ্রিস্টান জনগণের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।”

ফাদার মাইকেল ডি’রোজারিও তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে ১৫৭৬ সালে আন্তোনিও ভাজ এবং পেদ্রো দিয়াস নামক দুইজন ফাদার বাংলাদেশে বাস করতেন। কিন্তু তখনও নিয়মিত গির্জা নির্মাণ বা প্রচারণার তেমন কোন ব্যবস্থা ছিল না।

”১৫৯৮ সালে ফাদার ফ্রান্সিসকো এবং ফাদার দমিঙ্গো ডি’সুজা হুগলীতে পৌঁছেন। তার আগে ১৫৮০ সালে পর্তুগিজরা হুগলীতে বসতি স্থাপন করেছিল। তারা পৌঁছে সেখানে তৈরি হওয়া গির্জার দায়িত্ব নিয়ে একটি স্কুল ও হাসপাতাল নির্মাণ করেন।

পরে ১৫৯৯ সালে মেলখিয়র দ্যা ফনসেকা ও আন্দ্রে বভেস নামের দুইজন ফাদার হুগলীতে আসেন এবং চারজনেই চট্টগ্রামে চলে যান।”
সেই সময় চট্টগ্রাম আরাকান রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত থাকলেও ওই এলাকা সত্যিকার অর্থে ছিল পর্তুগিজদের নিয়ন্ত্রণে। আরাকান রাজ খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকদের রাজ্যে ধর্ম প্রচারের অনুমতি দেন। এমনকি তিনি ব্যক্তিগত অর্থে চট্টগ্রামে একটি চ্যাপেলও তৈরি করে দেন।

হুগলী থেকে আসা চারজন ধর্মপ্রচারক তখনকার বঙ্গদেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে যান।

যেমন ফাদার ফার্নান্দেজ চট্টগ্রামে একটি গির্জা ও বাসভবন তৈরি করেন। ফাদার মেলখিয়র বাখরগঞ্জ জেলার (বর্তমানের বরিশাল) বাকলা এলাকায় ধর্ম প্রচার করেন। বাখরগঞ্জের তখনকার হিন্দু রাজা তাদের ধর্মপ্রচার এবং গির্জা স্থাপনের অনুমতি দিয়েছিলেন। এরপর ফাদার ফনসেকা একটি গির্জা নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

এলড্রিক বিশ্বাস বলছেন, বাংলাদেশের বর্তমান সাতক্ষীরা জেলার চান্দিকান বা ইশ্বরীপুরে ১৫৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রথম একটি ক্যাথলিক গির্জা নির্মিত হয়, যার নাম ছিল ‘হলি নেম অফ জিসাস’। ১৬০০ খ্রিস্টাব্দের ২৪শে জুন দ্বিতীয় গির্জাটি নির্মিত হয় চট্টগ্রামে – যার নাম ‘সেইন্ট জন দ্যা ব্যাপ্টিস্ট চার্চ’।

এক বছর পরেই, ১৬০১ সালে চট্টগ্রামে জন ব্যাপ্টিস্টের গির্জা নির্মাণ করেন ফাদার ফার্নান্দেজ এবং ফাদার বভেজ।

কিন্তু পূর্বে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকলেও সেই সময় পর্তুগিজদের শায়েস্তা করার জন্য আরাকানের রাজা চট্টগ্রামে হামলা করেন।

আরাকান সৈন্যদের হাতে ফাদার ফার্নান্দেজ বন্দী হন এবং কারাগারে মারা যান। ফাদার বভেজকেও বন্দী করা হয়।

আরও পড়ুনঃ

আজকের ক্রিসমাস ক্যারল যেভাবে এল

সেই সময় বাংলা অঞ্চলে কর্মরত সকল যাজককে কর্তৃপক্ষ দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

তবে কয়েক বছর পরে আবার বাংলায় ফিরে আসতে শুরু করেন যাজকেরা। এবার অবশ্য তারা হুগলীতে বসতি স্থাপন করেন এবং সেখান থেকেই তারা ধর্মপ্রচার করতে শুরু করেন।

ভিনিউজ/তাসনিম