খেতাব প্রত্যাহারের বহু নজির আছে : মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

13
Social Share

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আলহাজ্ব অ্যাড. আ. ক. ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত যারা তাদের ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতের রায় ঘোষণা হয়েছে। তাদের যে সনদ সম্মাননা যেটা, সেটা বাতিল হয়েছে। একই মিটিংয়ে খন্দকার মোশতাক, জিয়াউর রহমানসহ আরো অনেকের নাম এসেছে, যারা কিনা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। এর দালিলিক প্রমাণসহ আমাদের কাছে নাম এসেছে। সে জন্য আমরা একটি উপ-কমিটি করেছি, যা আগামী মিটিংয়ে জিয়া রহমানের কি ভূমিকা ছিল সে দালিলিক প্রমাণ পেশ করে তাদের সম্মানসূচক পদবি বাতিল করা হবে।

তিনি আজ বুধবার দুপুরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার চন্দ্রা এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্টজনের নামে রাস্তা নামকরণের শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নেত্তরে এসব এসব কথা বলেন।

কালিয়াকৈর উপজেলা মুক্তিযুদ্ধা কমান্ড সংসদের সাবেক কমান্ডার ডা. সাহাবুদ্দিন আহসানের সভাপত্বিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র মজিবুর রহমান, কালিয়াকৈর পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাব প্রমুখ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী হাফিজুল আমিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুরাদ কবীর, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাসেল, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সিকদার মোশারফ হোসেন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি সরকার মোশারফ হোসেন জয়, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার, পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল আলম তালুকদারসহ উপজেলা ও পৌর প্রশাসন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

তিনি আরো বলেন, যে উপ-কমিটি করা হয়েছে সে কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে এ সমস্ত প্রতিবেদন দেবে। যেমন প্রমাণসহ যে সমস্ত বিষয় ধ্রবিত হয়েছিল যে তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের চলে যাওয়াতে সহযোগিতা করেছিল উচ্চপদে পদায়ন করেছেন। দেশের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার আশীর্বাদ দিয়েছেন এবং তিনি যে মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন যেমন শাহ আজিজ, আব্দুল আলীমসহ অথ্যাৎ প্রত্যেক স্বাধীনতাবিরোধী লোকদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন। সংবিধান বাতিল করেছিলেন। সে সমস্ত কারণেই এখানে আলোচনায় আসছে যে, তারা তো শাস্তি পাননি খন্দকার মোস্তাক, জিয়াউর রহমান। দেশের আইন এবং সমস্ত দুনিয়াতে আছে যে, একটা লোক যদি মৃত্যুবরণ করে তখন আদালতের তার বিরুদ্ধে রায় ঘোষিত হয় না। সে হিসেবে আদালত তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন নাই। কিন্তু মুখে বললে হবে না, কি কি দালিলিক প্রমাণ আছে সেসব নিয়ে আগামী মিটিংয়ে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে এমন বহু নজির আছে, যে তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য সম্মানসূচক খেতাব প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সে জন্য আমরা জিয়াউর রহমান, মোস্তাক, মাহবুব আলম চাষি এ রকম অনেকের নাম নিয়েই কথা হয়েছে। তাদের কার কি ভূমিকা? বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ততাটা কি? সেটা দালিলিক প্রমাণসহ পরবর্তী সভায় প্রস্তাবিত হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মুক্তিযোদ্ধাদের নামে রাস্তার নামকরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এই বীর মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশ স্বাধীন করেছে বলেই আজকে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। যাঁদের কারণে দেশ স্বাধীন হয়েছে, তাঁদের স্বীকৃতি হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করে তাদের সম্মানিত করা হয়েছে। তাঁদের সম্মানিত করলে আমরাও সম্মানিত হবো, দেশও সম্মানিত হবে।

এর আগে মন্ত্রী তার নিজের নামে আ. ক. ম মোজাম্মেল হক সড়কসহ পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাসমুহ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্টজনের নামে নামকরণের ফলক উম্মোচন করেন। পরে উপজেলা চত্ত্বরে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) এর কালিয়াকৈর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসারের কার্যালয়ের পল্লী ভবন উদ্বোধন করেন।