খালেদা জিয়ার মুক্তি: এখন প্যারোলেও রাজি পরিবার

Social Share

 

বাংলাদেশে কারাবন্দী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন তার ভাই-বোনেরা।

বিদেশে পাঠানোর জন্য মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ চেয়ে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এই প্রথম লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

এই আবেদন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে। মিসেস জিয়া এই বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে এমন আবেদন করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মেডিকেল বোর্ড যেন বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে সরকারকে সুপারিশ করে সেজন্য তাদের এই আবেদন।

মঙ্গলবার এই আবেদন করার পর তাঁর পরিবারের সদস্যরা খালেদা জিয়াকে দেখতে গিয়েছিলেন। এরপর তাঁর বোন সেলিমা ইসলাম জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার শারিরীক অবস্থা প্রতিনিয়ত খারাপ হচ্ছে এবং সেজন্য তারা বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে হলেও তাঁর মুক্তি চান ।

সেলিমা ইসলাম বিবিসিকে বলেন, “আমরা চাচ্ছি সরকার বিবেচনা করুক। যেভাবেই হোক, তাকে বিদেশে নেয়ার জন্য আমাদের পারমিশন দিক। প্যারোলে দিলেও দিতে পারে। কারণ তাঁর অবস্থা খুবই খারাপ।”

তবে একইসাথে তিনি বলেন, “আবেদনে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চেয়েছি। আর বলেছি যে, উনাকে নি:শর্ত মুক্তি দিতে। কারণ এটা মিথ্যা মামলা। সেজন্য আমরা নি:শর্ত মুক্তির জন্য বলেছি।”

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে এই প্রথম তার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন করা হলো।

তাঁর ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার আবেদনটি করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যারয়ের উপাচার্যের কাছে।

মি: ইস্কান্দার আবেদনে লিখেছেন, খালেদা জিয়ার দ্রুত অবনতিশীল স্বাস্থ্যের পরিপ্রেক্ষিতে যেকোন অপূরণীয় ক্ষতি এড়াতে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত বিদেশী হাসপাতালে চিকিৎসা প্রয়োজন।

খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে ব্যয় বহন করে এবং তাদের দায়িত্বে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে এই আবেদনে।

সেলিমা ইসলাম বিবিসিকে বলেছেন, তাদের আবেদন বিবেচনা করা হবে বলে তারা আশা করছেন।

জিয়া অরফানেজ এবং চ্যারিটেবল ট্রাস্ট—দু’টি দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়া ১৭ বছরের সাজা নিয়ে জেল খাটার দুই বছর পুরো হয়েছে গত ৮ই ফেব্রুয়ারি।এরমাঝে প্রায় ১০ মাস ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

কিছুদিন আগে সুপ্রিমকোর্ট থেকে তাঁর জামিন আবেদন নাকচ হয়েছে। তার মুক্তি না পাওয়ার বিষয়কে আইনগত বলে সরকার বলে আসছে।

কিন্তু বিভিন্ন সময় যখন বিদেশে চিকিৎসার কথা এসেছে, তখন খালেদা জিয়া নিজে তা চান কিনা-সেই প্রশ্নও উঠেছে।

এ ব্যাপারে সেলিমা ইসলাম বলেন, “উনার সম্মতি থাকবে। উনার অবস্থা এতই খারাপ হয়ে গিয়েছে যে, পাঁচ মিনিটও দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। বাম হাত সম্পূর্ণ বেঁকে গেছে। ডান হাতেরও খারাপ অবস্থা। তাঁর চোখ দিয়েও অনবরত পানি পড়ছে। পায়ে কোনো সাপোর্ট রাখতে পারছে না। এই অবস্থায় একটা মানুষতো চিকিৎসার জন্য যেখানেই হোক যেতে চাইবে।”

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, তিনি আবেদনটি মেডিকেল বোর্ডে কাছে পাঠিয়ে দেবেন।

“ইতিপূর্বে মেডিকেল বোর্ড বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার কোনো সুপারিশ করে নি। উনাদের (খালেদা পরিবারের) আবেদন মেডিকেল বোর্ডকে দেব। বোর্ড পরীক্ষা করে কি সাজেশন দেয়, সেটা আমরা পরে জানাবো।”

এদিকে মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, খালেদা জিয়ার শারিরীক অবস্থা স্থিতিশীল আছে বলে তারা মনে করছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ৎ
বিবিসি বাংলা