ক্রিপ্টো কারেন্সিতে বেড়েছে ডিজিটাল হুন্ডি

45
Social Share

*জুয়া, হুন্ডি, চোরাচালান, সাইবার চাঁদাবাজিসহ অবৈধ লেনদেনও বেড়েছে। সবই হচ্ছে আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়েবসাইটে*

ক্রিপ্টো কারেন্সির মাধ্যমে দেশ থেকে পাচার হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। বিদেশে অর্থ পাচারের জন্য একশ্রেণির কালো টাকার মালিক ক্রিপ্টো কারেন্সির বিটকয়েনকে বেছে নিয়েছেন। এতে জুয়া, হুন্ডি, চোরাচালান, সাইবার চাঁদাবাজিসহ অবৈধ লেনদেনও বেড়েছে। সবই হচ্ছে আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়েবসাইটে। সাইবার বিশেষজ্ঞ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অর্থনীতিবিদদের মতে, হুন্ডির ধরন এখন বদলে গেছে। ডিজিটাল হুন্ডি হচ্ছে ক্রিপ্টো কারেন্সিতে। এর মধ্যে বিটকয়েন অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং মূল্যবান। এর বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইমের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মহিদুল ইসলাম জানান, ক্রিপ্টো কারেন্সি কিংবা বিটকয়েন কেনাবেচা অনেকটা শেয়ারবাজারের মতো। ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ২ হাজারের ওপরে ক্রিপ্টো কারেন্সি আছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিট কয়েন, ইথারিয়াম, বিন্স, গিফট কোড, রিপল ও লাইটকয়েন ইত্যাদি। অনেকে টাকা বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে ক্রিপ্টো কারেন্সির মাধ্যমে। এগুলো মোবাইলে গোপন পিন নম্বরে নেওয়া থাকে। যে দেশে বৈধ সেখানে ডলারে ভাঙিয়ে যে যার মতো করে খরচ করে।

চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুর দক্ষিণপাড়া থেকে রায়হান নামে এক বিটকয়েন চক্রের সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১। তার মোবাইলে অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করে এক মাসে ৩৫ হাজার ডলার লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। ১৯ ফেব্রুয়ারি মাহমুদুর রহমান জুয়েল নামে এক বিটকয়েন ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে ডিবির তেজগাঁও বিভাগ। ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল জানান, ফ্রান্সে থাকা এক স্বজনের মাধ্যমে ৭ হাজার ডলারে একটি বিটকয়েন কেনেন তিনি। সেটি পরে ২১ হাজার ডলারে বিক্রি করেন। মালয়েশিয়ায় থাকতে বিটকয়েন ব্যবসায় জড়ানোর পর ২০১৬ সালে দেশে ফিরে এটি কেনাবেচা করে আসছিলেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ক্রিপ্টো কারেন্সি কেনাবেচায় দৃশ্যমান কোনো উপায় নেই। পুরোটাই ভার্চুয়াল। এসব লেনদেন হয় ওয়েবসাইট, ফেসবুক গ্রুপ এবং কিছু গেমিং অ্যাপসে। যেসব ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে বিটকয়েন লেনদেন হয় এমনই একটি হলো ক্রাউড-১। এ ছাড়া ‘বিটকয়েন বাংলাদেশ’ নামে ফেসবুক গ্রুপ ও হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপও পাওয়া যায়। এই হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে তানিম শাহরিয়ার নামে একজনের খোঁজ মিলেছে। মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাইনিংয়ের মাধ্যমে বিটকয়েন ট্রানজেকশন হয়। এক বছর আগে ১ বিটকয়েনের দাম ছিল ১২ লাখ টাকা। এখন করোনার জন্য দাম কমে গিয়ে ৭/৮ লাখ টাকা হয়েছে। অ্যামাজন, অ্যাপলসহ বড় বড় ই-কমার্সে বিটকয়েনে লেনদেন করা যায়। এটা পেমেন্টের এমন এক ধরনের গেটওয়ে যে কে পেমেন্ট করছে কেউই জানতে পারবে না। তার পরিচিত কয়েকজনের বিট কয়েন আছে, চাইলে তিনি কিনে দিতে পারবেন। এদিকে ক্রাউড-১ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে যেটি জানা যায়, এখানে অ্যাকাউন্ট খুলতে কিছু প্যাকেজ কিনতে হয়। আর ওই প্যাকেজের টাকা জমা দিতে হবে বিটকয়েনে। আবার বিটকয়েনের টাকা কয়েনবেজের মাধ্যমে বিকাশ অথবা রকেটে ট্রান্সফারে ‘ক্রাউড-১’ এর রিওয়ার্ডধারী হতে হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ক্রাউড-১ বাংলাদেশ নামে একটি পাবলিক গ্রুপ রয়েছে। ক্রাউড-১ প্রথমে সুইডেনের একটি প্রতিষ্ঠান শুরু করে। ২০১৯ সালের ২৫ জানুয়ারি এটি রেজিস্ট্রেশন করে। আর ১ আগস্ট এর কার্যক্রম শুরু হয়। বাংলাদেশে ক্রাউড-১-এর সঙ্গে যুক্ত ডা. কিশোর নামে একজনের নাম পাওয়া যায়। তার বাড়ি বরিশালে। থাকেন খুলনায়। ইউটিউবে ছড়ানো ভিডিওতে ক্রাউড-১ সম্পর্কে মামুনুর রশিদ নামে একজন বলেন, আপনি প্রথম প্যাকেজ হোয়াইট প্যাকেজ নিয়ে কাজ শুরু করলে ছয় ধরনের আয় করতে পারবেন। এর মধ্যে দুই ধরনের আয় হলো নন ওয়ার্কিং আয় বা কাজ না করেও পাবেন ওনারশিপ বোনাস। অর্থাৎ আপনি রহিম, করিম, খালেক, মালেক এই চারজনকে জয়েন করিয়েছিলেন। এই চারজন যদি ১০০ ইউরো আয় করে সেখান থেকে ১০ শতাংশ বা ১০ ইউরো আপনার অ্যাকাউন্টে চলে আসবে।