ক্যাসিনো সেলিমের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন, ১৩ অক্টোবর শুনানী

অনলাইন ক্যাসিনোর মূল হোতা হিসেবে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান প্রধান গ্রুপের চেয়ারম্যান সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানি লন্ডারিং মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসীর আহসান চৌধুরীর আদালতে এ আবেদন করেন সিআইডি’র ইন্সপেক্টর শহীদুল ইসলাম। ক্যাসিনো সেলিমের রিমান্ড শুনানীর দিন ১৩ অক্টোবর ধার্য করেন আদালত।

এর আগে গতকাল সেলিম প্রধান ও তাঁর দুই সহযোগীকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মাসুদুর রহমান। গতকাল চার দিনের রিমান্ড শেষে সেলিম প্রধান ও তাঁর দুই সহযোগী আক্তারুজ্জামান ও রোমানকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম।

রিমান্ড প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারও রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কারাগারে আটক রাখার প্রার্থনা জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে জামিনের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে মহানগর হাকিম মাসুদুর রহমান আবেদন নামঞ্জুর করেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে ব্যাংকক যাওয়ার পথে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট থেকে সেলিম প্রধানকে নামিয়ে আনে র‌্যাব-১-এর একটি দল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গুলশান-২-এ তাঁর বাসা-কাম-অফিস মমতাজ ভিশনে র‌্যাব অভিযান চালায়। এ সময় তাঁর সহযোগী আক্তারুজ্জামান ও রোমানকে আটক করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ওই বাড়ি থেকে ৪০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এরপর সেলিমের অফিসের শয়নকক্ষ থেকে ও তাঁর ফ্ল্যাট থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা ও বিদেশি মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ৩১টি চেক বই উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের লেনদেনের হিসাবসংক্রান্ত কাগজপত্র, অনলাইন ক্যাসিনো খেলার প্রমাণ রয়েছে, এমন কম্পিউটারসামগ্রী জব্দ করা হয়। পরদিন বনানীর ২ নম্বর রোডের ২৬ নম্বর বাড়ির সাততলায় সেলিমের অফিসে অভিযান চালিয়ে ২১ লাখ ২০ হাজার টাকা ও বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই জব্দ করা হয়। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কম্পানির সঙ্গে লেনদেনের কাগজপত্র, কম্পিউটার মনিটর, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসেটসহ ক্যাসিনোসামগ্রী জব্দ করা হয়।

এ ঘটনায় গত ১ অক্টোবর র‌্যাবের নায়েব সুবেদার মো. দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে গুলশান থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও মানি লন্ডারিং আইনে দুটি মামলা করেন।