ক্যালোরি গুনে খাওয়া বা জিম নয়, সুস্থ থাকতে প্রতিদিনের পাঁচ অভ্যাসই যথেষ্ট

তানজিনা হাসান মৌ

বিশেষ ফিচার –

ভিনিউজ : সুস্থ থাকতে হলে প্রতিদিন ক্যালোরি হিসাব করে খাবার খেতে হবে, জিমে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যায়াম করতে হবে কিংবা ভোরে ঘুম থেকে উঠে দীর্ঘ সময় হাঁটতে হবে, এমন ধারণা অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য সব সময় কঠোর খাদ্যতালিকা বা জটিল ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় কয়েকটি ছোট পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থতার মূল চাবিকাঠি হলো নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা। পর্যাপ্ত পানি পান, খাবারের পর কিছুক্ষণ হাঁটা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম এবং পরিমিত আহার, এই পাঁচটি অভ্যাস দৈনন্দিন জীবনে যুক্ত করতে পারলে সুস্থ থাকার পথ অনেকটাই সহজ হতে পারে।

সম্প্রতি মুম্বাইয়ের পুষ্টিবিদ নিকিতা গর্গ সহজ জীবনযাপনের মাধ্যমে সুস্থ থাকার পাঁচটি অভ্যাসের কথা তুলে ধরেছেন। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনাতেও এসব অভ্যাসের গুরুত্ব উঠে এসেছে।

প্রথমত, পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম, হজম, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বর্জ্য নিষ্কাশনে পানির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম ও শারীরিক পরিশ্রমের কারণে শরীরে পানির চাহিদা বাড়তে পারে। তাই তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করা ভালো। সাধারণ পানির পাশাপাশি চিনি ছাড়া লেবুপানি, ডাবের পানি কিংবা ঘোলও পানীয় হিসেবে রাখা যেতে পারে। তবে মিষ্টি পানীয় ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত এড়িয়ে চলা উচিত।

দ্বিতীয়ত, প্রতিবার খাবারের পর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটুন। দুপুর কিংবা রাতের খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়ার অভ্যাস পরিহার করুন। বাড়ির ভেতরে বা আশপাশে স্বাভাবিক গতিতে কিছুক্ষণ হাঁটলেই উপকার পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের পর হাঁটাহাঁটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন, এমন ব্যক্তিদের জন্য এই অভ্যাস উপকারী।

তৃতীয়ত, প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিনের পরিমাণ ও বৈচিত্র্যের দিকে নজর দিন। শুধু ভাত, রুটি কিংবা শর্করাজাতীয় খাবারের ওপর নির্ভর না করে খাদ্যতালিকায় মাছ, ডিম, দুধ, ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। প্রোটিন পেশি গঠন ও শরীরের বিভিন্ন কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। পেট ভরা রাখতেও এর ভূমিকা রয়েছে। এজন্য দামি প্রোটিন পাউডার বা বিশেষ খাবারের প্রয়োজন নেই। দেশীয় ও সহজলভ্য খাবার থেকেই শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া সম্ভব।

চতুর্থত, ঘুমের বিষয়ে সচেতন হোন। সুস্থ থাকার জন্য শুধু খাবার ও শরীরচর্চা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুমও। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে মুঠোফোন, টেলিভিশন ও অন্যান্য পর্দা থেকে দূরে থাকুন। এতে ঘুমের মান ভালো হতে পারে।

পঞ্চমত, খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার চেয়ে পরিমাণের দিকে গুরুত্ব দিন। উৎসব, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা সামাজিক আয়োজনে পছন্দের খাবার একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ধীরে ধীরে খাবার চিবিয়ে খাওয়া, খাবারের স্বাদ উপভোগ করা এবং পেট ভরে গেলে খাওয়া বন্ধ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক পুষ্টি বিভাগও সচেতনভাবে খাবার গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সুষম খাদ্য, নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।

মনে রাখতে হবে, সুস্থ থাকা মানে নিজের জীবনকে কঠিন নিয়মের মধ্যে আটকে ফেলা নয়। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট পরিবর্তন নিয়মিত অনুসরণ করাই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার অন্যতম উপায়। তবে এসব অভ্যাস কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়। যাদের ডায়াবেটিস, কিডনি বা হৃদ্‌রোগ রয়েছে, তাঁদের খাদ্যাভ্যাস ও পানীয় গ্রহণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি।

পূর্বের খবরসার্বিয়া : ছাত্র আন্দোলনে ভেঙে পড়ল ভুচিচের ১৪ বছরের রাজনৈতিক আধিপত্য
পরবর্তি খবরভুয়ো তথ্য ও অনলাইন হেনস্থার অভিযোগে সাইবার অপরাধ দমন শাখার দ্বারস্থ বিজয়-রশ্মিকা
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

RSS
Follow by Email
Copy link
URL has been copied successfully!