কৌশলগত তেলের মজুদ পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি কোম্পানির অধীনে ছেড়ে দিচ্ছে ভারত

64
Social Share

নতুন দুটি ভূগর্ভস্থ অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণাগার পরিচালনার দায়িত্ব একটি বেসরকারি কোম্পানির অধীনে ছেড়ে দিচ্ছে ভারত সরকার। উড়িষ্যা ও কর্ণাটকের ওই ভূগর্ভস্থ অপরিশোধিত তেলের ভাণ্ডার দুটি নির্মাণের কথা ছিল দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভস রেস্ট্রিক্টেড (আইএসপিআরএল) এর। কিন্তু দেশটির সরকার সেই পরিকল্পনা বাতিল করে তা একটি বেসরকারি কোম্পানির অধীনে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দেশের কৌশলগত অপরিশোধিত তেলের মজুদকে দ্বিগুণের চেয়েও বেশি করার পরিকল্পনা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার।

বর্তমানে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুদ ৫.৩৩ মিলিয়ন টন। তা বাড়িয়ে ১১.৮৩ টন করতে চায় ভারত সরকার। জরুরি প্রয়োজনে তেলের ঘাটতি পূরণে অপরিশোধিত তেলের এই মজুদ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। উড়িষ্যা ও কর্ণাটকের কৌশলগত এই দুই সংরক্ষণাগারের ৪৭.৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে।

বেসরকারি ওই কোম্পানির সঙ্গে ৬০ বছরের চুক্তিতে যেতে পারে ভারত সরকার। এই সময়ের জন্য অপরিশোধিত এই তেলের মজুদের বাণিজ্যিকীকরণ এবং সেখান থেকে উপার্জনের ক্ষেত্রে ওই কোম্পানিকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে পারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।

অপরিশোধিত ওই সংরক্ষণাগার থেকে তেল কেনাবেচার ক্ষেত্রে বেসরকারি ওই কোম্পানির কার্যক্রমে যাতে কোনও ধরনের প্রতিবন্ধকতা না থাকে সে ব্যবস্থাও করতে পারে ভারত সরকার।

প্রকল্পটি সিসিইএ দ্বারা শিগগিরই অনুমোদন দেওয়া হবে। দুটি তেল শোধানাগারে আটটি সেক্টর থাকবে অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণের জন্য, যা বাজারের তুলনায় বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সুবিধা বেশি দিতে পারবে। প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপের সুবিধা হল সরকার তার প্রয়োজনের সময় অর্থাৎ তেলের যদি ঘাটতি হয় সেক্ষেত্রে ওই তেল ব্যবহার করতে পারবে আর এতে করে লাভবান হবে বেসরকারি পক্ষ।  প্রকল্পটির মোট ব্যয়ের ৬০ শতাংশ দেবে সরকার।

বর্তমানে ভারতে সামগ্রিক কৌশলগত তেলের মজুদ (তেল কর্পোরেশনগুলোর রিজার্ভসহ) রয়েছে ৭৪ দিন। এই দুই সংরক্ষণাগারের উন্নয়ন সম্পন্ন হলে ১২ দিন বেড়ে ৮৬ দিনে উন্নীত হবে।

বর্তমানে ভারতের বিশাখাপত্তনম, মঙ্গলুরু এবং পাদুরের কৌশলগত অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণাগার ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ইন্ডিয়ান স্ট্র্যাটিজেক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ রেস্ট্রিক্টেড (আইএসপিআরআর), যা দেশটির পেট্রোলিয়াম ও পিওর ফুয়েল মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ওয়েল বিজনেস গ্রোথ বোর্ড এর সম্পূরক প্রতিষ্ঠান।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জুনে উড়িষ্যা ও কর্নাটক অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণাগার সম্প্রসারণের প্রকৌশলগত, আহরণ ও সার্বিক উন্নয়ন বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় কাপবোর্ড কমিটি অন ফিন্যান্সিয়াল অ্যাফেয়ার্স (সিসিইএ)।

এই সম্প্রসারণ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে উড়িষ্যার চান্দিখোলে ৯,৯৫২ কোটি রুপি ব্যয়ে অপরিশোধিত তেল বহন করার জন্য একটি ৪ মিলিয়ন টন সক্ষমতার ভূগর্ভস্থ ভাণ্ডার নির্মাণ এবং ৬,৯৮৬ রুপি ব্যয়ে কর্ণাটকের উদুপির নিকটবর্তী পাদুরে ২.৫ মিলিয়ন টন ধারণক্ষমতা রিজার্ভ ভাণ্ডার তৈরি। সূত্র: দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন