কোভিড-১৯: মানবতার বিপর্যয়

Social Share

বর্তমান বিশ্ব করোনা ভাইরাস সংক্রমণে বিপর্যস্থ। এই সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ‘সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা’ এবং ‘স্বাস্থ্যবিধি’ অনুসরণ করার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বেশ গুরুত্ব দিয়েছে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় এর পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রচারণা করছে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য তাগিদ দিচ্ছে। বোখারী শরীফের ৩৪৭৩ নং হাদিসে হযরত উসামা ইবনে জায়েদ (রাঃ) বর্ননা করেছেন, নবী করীম হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এরশাদ করেছেন, “কোন জমিনে মহামারী দেখা দিলে, তুমি সেখানে যাইও না, তুমি যে জমিনে আছো সেখানে মহামারী দেখা দিলে সেই জমিন থেকে (পলায়নের উদ্দেশ্য) বাহির হইও না”।

সবকিছু বিবেচনা শেষে, আমরা মানুষ। করোনা’র বাস্তবতা মেনে নিয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা’ এবং ‘স্বাস্থ্যবিধি’ অনুসরণ করে ‘মানবতা’,  ‘সামাজিকতা’, সহানুভূতি, সহযোগিতা’ ইত্যাদি  গুনাগুন নিয়েই মানুষকে চলতে হবে।
 শুধু মানুষ কেন, পোষা প্রাণীর জীবনযাত্রায়ও এই ধরনের গুণাবলী লক্ষ করা যায়।
একটি দৈনিক অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে, সম্প্রতি করোনাভাইরাসের আঁতুরঘর চীনের উহানে ব্রিজ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন এক কুকুরের মনিব। সেই ঘটনা নিজের চোখেই দেখেছে কুকুরটি। সেই বন্ধু হারানোর ঘটনা দেখে যেন থমকে গেছে এই পোষা প্রাণীটি। মনিব আর ফিরবে না, কিন্তু পোষা কুকুরটি দিনের পর দিন ওই ব্রিজের উপরই বসে আছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কুকুরটির চোখে পানিও দেখেছেন তারা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা কুকুরটিকে বেশ কয়েকদিন বসে থাকতে দেখে তাকে খাবার-পানি দেয়। কিন্তু কুকুরটি তা ছুয়েও দেখেনি। এমনকি তাকে ওই বাসিন্দা বাড়ি নিয়ে গেলেও সেখানে থাকেনি। ফিরে এসেছে সেই ব্রিজের উপর। তাকিয়ে রয়েছে নদীর দিকে, যেখানে মনিবকে ঝাঁপ দিতে দেখেছে।
পৃথিবীজুড়ে দৈনন্দিন নানা কাকতালীয় ঘটনা ঘটে।
মিডিয়ার কল্যাণে জানা গেল, ৩০ সেকেন্ড দেরি হলে নিশ্চিত মৃত্যু, বিড়ালের জন্য বেঁচে গেলেন এক নারী।এই কাকতালীয় ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকায়। ফেইসবুক থেকে জানা গেছে, একজন নারী কম্পিউটারে কাজ করছিলেন। হঠাৎ একটি মা বিড়াল আর একটি বাচ্চা বিড়াল মহিলার স্কার্ট কামড়ে ধরে টানছিল। বিড়ালটি তাঁর পোষ্য নয়। আগেরদিন মাত্র বিড়ালগুলোকে কিছু বিস্কুট খেতে দিয়েছিলেন তিনি। মহিলাটি ভেবেছেন বিড়ালটির হয়তো ক্ষুধা লেগেছে, আবারও বিস্কুট খেতে চাচ্ছে, তাই টানছে। মহিলা চেয়ার থেকে উঠে এগিয়ে যেতেই বিকট শব্দ।  ওনার মাথার উপরে ঘুরতে থাকা ফ্যানটি নীচে পড়ে গেছে। উনি ভাবছেন, যদি বিড়ালগুলো উনাকে টেনে নিয়ে না যেত, তাহলে কি হতো?
ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার পর বেড়াল ২টি স্বাভাবিক। প্রায় এক মাস আগে এই মা বিড়ালটা ঐ রুমেই খাটের নীচে চারটি বাচ্চা জন্ম দেয়। এ মাসের শুরুর দিকে বাচ্চাগুলো হাঁটা শিখলে ঐ রুম থেকে বের হয়ে বারান্দায় পানির মেশিনের জালি ঘরে থাকে আর চলাফেরা করে। আজ হঠাৎ এই মা বিড়াল আর তার একটা বাচ্চা জানালা দিয়ে রুমে ঢুকে মহিলাটিকে বাঁচায়ে দিয়ে গেল। সৃষ্টিকর্তার কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া।
অথচ আমরা মানবজাতি। মহান আল্লাহর সৃষ্টিকুলের সেরা জীব। এই করোনা সংকটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের ঘোষিত বিধিনিষেধ অনেকেই মেনে চলছি, অনেকে উপেক্ষা করছি। আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমের কোনটাই বাদ যাচ্ছে না। করোনা’র অজুহাতে শুধু ভুলে যাচ্ছি বা এড়িয়ে যাচ্ছি ‘মানবতা’,  ‘সামাজিকতা’, সহানুভূতি, সহযোগীতা’। ফলে বিপর্যস্ত হচ্ছে মানবিক গুনাগুন।
নিম্মের কয়েকটা ছোট ছোট ঘটনা থেকে মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
১। গত  ১০ জুন ২০২০, “স্বজন ও পরিবারের কেউ এলেন না, স্বামীর মুখাগ্নি করলেন স্ত্রী, উমা দেবী” এই শিরোনামে ‘ফেইসবুক’একটি সংবাদ ভাইরাল হয়েছে, যা একটি বহুল প্রচারিত দৈনিক অনলাইনে পড়েছি।
ঢাকার ফকিরা গ্রুপের গার্মেন্টস সেক্টরের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান, সাভারের শিমুলিয়ার ডাঃ দেবাশীষ রায় ময়মনসিংহের এসকে হাসপাতালে মারা যান। মৃত্যুর পর তার করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। তাঁর একটি শিশুপুত্র রয়েছে। ডাঃ দেবাশীষের মুখাগ্নি করেছেন তার স্ত্রী, উমা দেবী, সিনিয়র সহকারী জজ। অসহায়দের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ব্রত নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ডাঃ দেবাশীষ। ফুটফুটে সন্তানটি নিয়ে ভালোই চলছিলো উমা-দেবাশীষের সংসার। হঠাৎ বিশ্বব্যাপী শুরু হলো সর্বনাশা করোনা’র আক্রমণ। মানব সেবা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হলেন ডাঃ দেবাশীষ। চিকিৎসক হয়েও হার মানলেন করোনা’র কাছে। স্বামীকে হারিয়ে উমা দেবী অসহায় হয়ে পড়লেন। চেনা জগৎটাই অচেনা হয়ে উঠলো। ঘরে আড়াই বছরের অবুঝ  সন্তান, অন্যদিকে হাসপাতালের মর্গে স্বামীর মরদেহ। কর্মজীবনে অসংখ্য মানুষের চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন তাঁর স্বামী।  চিকিৎসা সহযোগিতা দেওয়ার সুবাদে, ডাক্তারদের শুভাকাঙ্খীর সংখ্যা একটু বেশীই হয়। তেমনি ডাঃ দেবাশীষেরও ছিল অসংখ্য আপনজন, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পাড়াপ্রতিবেশী। কিন্তু তাঁর অন্তিম যাত্রায় কেউ এগিয়ে আসলেন না। উমাদেবী নতুনভাবে চিনলেন আপনজনকে, সমাজকে। একা এবং একাই আয়োজন করলেন স্বামীর শেষকৃত্য। শাস্ত্র্যমতে পুত্র সন্তানেরই যে দায়িত্ব পিতার মুখাগ্নিতে, তাই বাড়ি থেকে শিশু পুত্রের হাত ছুঁইয়ে পাটকাঠী সাথে নিয়ে আসলেন শহরের শশ্মান ঘাটে। একাই নিরবে নিথরে নির্জন শশ্মানভুমিতে অপেক্ষা করলেন উমাদেবী, কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃতদেহ আসলো শশ্মানে। সৎকারে এগিয়ে এসেছেন তিনজন মুসলিম ও দুজন সনাতন ধর্মাবলম্বীর মানুষ, তাদের সাহায্যেই স্বামীর সৎকারের কাজ শুরু করলেন। পুত্রসন্তানের হাতের ছোয়া কাঠিতে মুখাগ্নি করলেন স্বামীর। এরপর ঘন্টা তিনেক স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন জলন্ত চিতার দিকে। চিতার আগুনে স্বামীর দেহ ভস্মীভূত করে নিজেই নিজের কপালের সিঁদুর মুছলেন, নিজেই ভেঙ্গে ফেললেন নিজের হাতের মঙ্গল শাখা, বিধবা বেশে একাই রওনা দিলেন বাড়ির পথে। সে জানে, শুধু আড়াই বছরের সন্তান ছাড়া আজ বাড়িতে কেউ নেই।
২। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ না থাকার পরও একাধিক হাসপাতালে ঘুরে ভর্তি হতে না পেরে, অ্যাম্বুলেন্সেই মারা গেছেন চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম ছগীর।
১০ জুন সকাল সোয়া ১১টার দিকে বুকে ব্যথা নিয়ে জনাব ছগীর অ্যাম্বুলেন্সে করে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ঘুরেছেন। করোনা সন্দেহে আইসিইউ বন্ধ, চিকিৎসক নাই, ইত্যাদি  অজুহাতে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সর্বশেষ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মাননীয় মেয়র মহোদয়কে দিয়ে ফোন করিয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করলেও ততক্ষণে জনাব ছগীর বিনাচিকিৎসায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন।
জনাব ছগীর, তাঁনার রাজনৈতিক বর্নীল জীবনে নিশ্চয়ই অসংখ্য মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। অথচ করোনা আতংকে নিজেই চিকিৎসা বঞ্চিত হলেন।
৩। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বণিকবার্তার চবি প্রতিনিধি জোবায়ের চৌধুরীর বাবা, মোঃ জসিম উদ্দিন।
রাত আড়াইটার দিকে তার পিতার মাথার এক পাশে ব্যথা উঠ এবং ডান হাত অবশ যায়। তিনি তখনই ন্যাশনাল হাসপাতালের ল্যান্ড ফোনে কল করে তার বাবার পরিস্থিতি জানালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে, ‘আপনি রোগী নিয়ে আসেন’। জনাব জুবায়ের তাঁর বাবাকে নিয়ে সিএনজি অটোরিকশায় উঠেই, আবার কল করেন ন্যাশনাল হাসপাতালে। ওনারা তখন বলে, ‘আপনি একবার কল করেছিলেন না? রোগী নিয়ে আসেন। আমরা ভর্তি করাবো’। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছার পর, তারা রোগীকে গাড়ি থেকেই নামালো না। একজন কর্মচারী এসে অক্সিজেন সেচ্যুরেশন মেপে দেখলো। কর্তব্যরত  চিকিৎসককে জানালো, ‘স্যার, রোগীর অক্সিজেন সেচ্যুরেশন ৮৯। এখন কি করবো’। এরপরই ওই কর্মচারী জুবায়েরকে বললেন, ‘আমাদের ফ্লু কর্ণার খালি নেই। আপনারা অন্য হাসপাতালে রোগী নিয়ে যান”। প্রকৃতপক্ষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রচারনার আশ্রয় নিল। করোনা’র আতংকে ‘ফ্লু কর্নার খালি নাই’, অজুহাত দেখিয়ে রোগীকে বিদায় করে দিল।
অতঃপর সাংবাদিক জোবায়ের তাঁর বাবাকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে গেলেন। চমেকের এক কর্মচারী ইসিজি করে জানালেন, রোগী ইতিমধ্যেই মৃত্যুবরণ করেছেন।
সাংবাদিক জোবায়ের আক্ষেপ করে বললেন, “আমাদের যদি ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি করাবেনা বলে দিত, তাহলে আমরা আগেই অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারতাম বাবাকে। কিন্তু ন্যাশনাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রতারণাই করলো আমার বাবার জীবন নিয়ে”।
৩। প্রকাশিত সংবাদ “১৮ ঘন্টা চেষ্টা করেও আইসিইউ না পেয়ে মারা গেলেন ১০ মাসের প্রসূতি নারী”। অথচ এর মাত্র আটদিন আগে করোনার সময়ে সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে প্রসূতি মায়েদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনা পরীক্ষাসহ অন্যান্য সুচিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আগামী ১৮ জুন ডেলিভারীর সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারিত ছিল ঐ প্রসূতির। এরই মধ্যে শুরু হলো প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল থেকে ৩০ বছর বয়সী ওই গর্ভবতী নারীর জন্য তার স্বজনরা চট্টগ্রামের এমন কোনো হাসপাতাল বাদ রাখেননি, যেখানে তারা একটি আইসিইউ বেডের খোঁজে যাননি। কোথাও না পেয়ে উপায়হীন স্বজনরা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে একটি আইসিইউর জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন। টানা ১৮ ঘন্টা চেষ্টা করেও পুরো চট্টগ্রাম মহানগরে মেলেনি একটি আইসিইউ।
শেষে বিনা চিকিৎসাতেই রাত সাড়ে ৪ টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেলের করোনা ওয়ার্ডে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ১০ মাসের গর্ভবতী মুক্তা নামের ঐ নারী। মৃত্যুকালে ফৌজদারহাটের কবরস্থানে মায়ের সঙ্গী হল গর্ভের বাচ্চাটিও। এই বাচ্চার মৃত্যুর জন্য কে দায়ী? সুস্থ থেকেও পৃথিবীর মুখটি আর দেখা হল না তার। করোনা সন্দেহে এখানেও পরাজিত হলো মানবতা।
বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ সর্বপ্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। করোনা ভাইরাসটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে। করোনায় আক্রান্ত রোগীর হাঁচি ও কাঁশিতে ছড়ানো ড্রপলেট এর মাধ্যমে করোনা সংক্রমিত হয়। গণসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকারিভাবে ব্যাপক প্রচারনা চালানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং বার বার বলা হচ্ছে, করোনা আতংকের কিছু নয়। ব্যক্তিগত সচেতনতা ও মনোবল জরুরি। করোনায় আক্রান্ত মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে করোনা সংক্রমন হয় না। অথচ করোনায় সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে, সেই লাশ দাফনে বা সৎকারে কেউ এগিয়ে আসেন না, এমনকি আপনজনেরা। সামাজিক গণমাধ্যম, পত্র-পত্রিকায় প্রায়শই দেখা যায়, করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির লাশ গ্রামে ঢুকতে বা দাফন করতে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে পুলিশ ও প্রশাসন নিজ দায়িত্বে জানাজা দিচ্ছে, কবর খুড়ছে, দাফন করছে। অথচ মৃত ব্যক্তি হয়তো ঐ গ্রামেই জন্ম নিয়েছে। শৈশব, কৈশোর, যৌবনকাল কাটিয়েছে। তাঁর ছিল অনেক আপনজন, বন্ধুবান্ধব, শুভাকাঙ্খী। অজ্ঞতাবশত করোনা আতংকে অথবা কোন কিছু না বুঝেই অন্যের দেখাদেখি নিজ স্বজনদের লাশ দাফনে বাঁধা দিচ্ছে যা অত্যন্ত  অমানবিক ও ধর্মবিরোধী।
করোনা আতংকে আমাদের সমাজে ঘটে যাওয়া অসংখ্য ঘটনাবলীতে লক্ষণীয় যে, মানুষের ব্যবহারে, আচরণে ব্যাপক নেতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে, এতে পরাজিত হয়েছে মানবতা। পরিবার ও সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মানবিক গুণাবলী, সামাজিকতা, সহানুভূতি, সহযোগিতা, ইত্যাদি। আমাদের মনে রাখতে হবে সমাজে মানুষকে বেঁচে থাকতে হলে উল্লেখিত মানবিক গুণাবলীর চর্চা অপরিহার্য ।