কোভিড ১৯: এর মাঝেও পাকিস্তানের রাজনৈতিক ধান্ধা

Social Share

এম বি আখতার
উন্নয়ন কর্মী ও বিশ্লেষক

গত ২২ জুলাই ২০২০ তারিখে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শেখ হাসিনার টেলিফোন সংলাপের পর পাকিস্তানের জনগন, সংবাদ মাধ্যম এবং সামাজিক গণমাধ্যমের মধ্যে খুশীর বন্যা বয়ে যাচ্ছে। তাদেও মূলধারার সংবাদ মাধ্যম ও ইফটিউবের আলোচনা ও ডক্যুমেন্টারী গুলি দেখলে মনে হচ্ছে এযেন নতুন বিজয়। মনে হচ্ছে ইমরান খানের পূর্বে এই ধরনের রাজনৈতিক বিজয় কোন পাকিস্তানের ইতিহাসে কোন সরকার প্রধান হয়তো অর্জন করেন নাই। এই বিজয়ের মধ্যে দিয়ে তাদেও জনগণের মধ্যে এশধরনের বার্তা পৌচ্ছানোর চেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে যে, তাদেও ১৯৭১ সনের পরাজয়ের প্রতিশোধ ভারতের বিরুদ্ধে নিতে পেরেছে এই ফোন কলের মাধ্যমে। আমি ভারতের কোন রাজনৈতিক ও পররাষ্ট্র নীতির সমর্থনে কোন কথা বলছি না, শুধু ভাবছি পাকিস্তানের সরকার ও জনগণের মধ্যে গত ৫০ বছরের ক্ষত এখনো বিদ্যমান রয়েছে তাইতো তাদেও শত্রুরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোন কল রিসিভ করেছেন তাতেই তাদেও ৫০ বছরের পরাজয়ের গ্লানি মুছে যেতে শুরু করেছে। ইমরান খান ও তার রাজনৈতিক ও সামরিক সহযোগীদেও দ্বিপাক্ষিক ফোনালাপ থেকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের পাশাপাশি উদ্দেশ্য ছিলো পাকিস্তানি সরকারের কোভিড ১৯ এর অতিমারী, অর্থনৈতিক মন্দা, দারিদ্রতা ও কর্মহীনতার মতো সমস্যা মোকাবেলায় সরকারের দূর্বলতা সম্পর্কে জনগনের দৃষ্টি সরিয়ে নেয়া। অথচ এই ফোনালাপ কে রাজনৈতিক রং না লাগিয়ে, ভারতের পরাজয় না ভেবে, চীনের জয় হয়েছে এমন ভাবনা উতলা না হয়ে উভয় দেশের জনগনের যে প্রকট সমস্যা গুলি রয়েছে তা সমাধানের দিকে নেয়ার জন্য আরও বৃহত্তর অর্থনৈতিক বাজার ও দারিদ্র বিমোচনের কাজে লাগানো যেতো। কিন্তু ইমরান খান ও পাকিস্তানের চিরচেনা অভ্যাস সবকিছুতেই বিজয় এবং নিজের শ্রেষ্ঠত¦ রাখান অপচিন্তা এই ফোনালাপের অপমৃত্যু নিশ্চিত করছে।

পাকিস্তানের টেলিভিশন টকশোতে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক. সামরিক ও ইতিহাস বিশ্লেষকগণ কে দেখেছি আলোচনা করছেন, Bangladesh and Pakistan actually ‘One National Two Country’, for the timebeing Bangladesh was emotionally backmailed by Indian politician and army but now they are realised that India is not their friend rather enemy of Islam’. পাকিস্তানী বিশ্লেষকগণের এই বিশ্লেষন আমাকে আশ্চর্যান্বিত করে নাই, কারণ তারা কি ১৯৪৭-১৯৭১ সন পর্যন্ত পাকিস্তানের পূর্ব বাংলায় সংগঠিত শোষন ও বঞ্চনার ইতিহাসকে সঠিক মনে করে কারন তা করা হয়েছিলো ইসলাম রক্ষার জন্য। তাই তো পাকিস্তান এষনও ধর্মেও দোহাই দিয়ে একুশ শতকের ১৭ কোটি বাংলাদেশীর আবেগ ও অনুভুতিকে নিয়ন্ত্রন কওে নতুনভাবে বোকা প্রত্যাশা মনে মনে লালন করছে। রাজনৈতিক কোন বিশ্লেষক হিসেবে নয়, একজন উন্নয়ন কর্মী ও বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক এবং মুক্তিসংগ্রামের বঙ্গবন্ধুর দর্শনের উপর বিশ্বাস করেই পাকিস্তানের মিডিয়ায় বাংলাদেশকে নিয়ে আলোচনার উপর ব্যক্তিগত অনুভুতি প্রকাশ করছি।

সাধারনত ব্যক্তিগত অথবা গোষ্ঠীগত ভাবে কেউ যখন কোন বিষয় নীতিকথা বলে এবং সেই নীতিকাথা গুলি যদি সেই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট বা তার ইতিহাসের সাথে অমিল হয় তখন সেই গোষ্ঠী বা ব্যক্তি কে বলে থাকি ”ভুতের মুখে রাম নাম”। অর্থাৎ খারাপ মানুষের মুখে ভাল কথা কষনও মানায় না। পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে ভ্রাতিত্ব হওয়ার মতো কোন প্রকার ঐতিহাসিক প্রেক্ষিত নেই, হ্যাঁ দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য হতে পাওে যেমন হচ্ছে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে। কুটনৈতিক সম্পর্ক অুঁট থাকতে পাওে, বৈশ্বিক অনেক বিষয় দুই দেশের মধ্যে মতের ঐক্য হতে পাওে কিন্তু শুধুমাত্র ধর্মেও কারনে একে অপরের নিকট বিলীন হয়ে যাবো এমন সম্পর্ক পাকিস্তানের সাথে? ইতিহাস বলছে কোন সম্ভনা নেই। তাদেও টেলিভিশন ও রাজনৈতিক বিশ্লেষনে সব সময় বলা হয় বাংলাদেশে তাদেও রক্তের ভাই হচ্ছে জামাত এবং রাজনৈতিক বন্ধু হচ্ছে বিএনপি যারা নিজেদেও জাতীয়তাবাদী শক্তি হিসেবে মনে করে। তাই তো চিরশত্রু শেখ হাসিনার সাথে টেলিফোনে পাকিস্তানী প্রধানমন্ত্রীর কথা হয়েছে তা তাদেও স্বপ্নের বাহিরে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ইতিপূর্বেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নিকট ফোন করেছেন, অনেক বিষয় সুপারিশ চেয়েছেন অতএব এই ফোনালাপ নতুন কিছু নয়। গত বছর জাতী সংঘের সাধারণ অধিবেশনে তিনি ভাষণ দিয়েছিলেন এবং ভেবেছিলেন তার বক্তব্য বাংলাদেশে অনেক প্রশংসিত হবে কারনে কথা বলেছিলেন জলবায়ূ পরিবর্তনের বিষয়। ভেবেছিলেন জলবায়ূ পরিবর্তনের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ গুলির মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম তাই হয়তো তার বক্তব্যকে বাংলাদেশ সমর্থন করবে কিন্তু তা হয় নাই। কারণ বাংলাদেশ খুব ভালো করেই জানে, পাকিস্তানের শাসক এবং সামন্ত গোষ্ঠীর কালো থাবায় বালুচিস্তানে যুগ যুগ ধওে অপরিকল্পিতভাবে খনিজ সম্পদ আহোরন কওে পরিবেশ ধংস করছে সেই দেশের সরকার প্রধান যখন জলবায়ূ নিয়ে জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা দেয় তখন সেটি ভুতের মুখে রাম নামের শামিল। তিনি দেশের অর্থ পাচার নিয়ে জ্ঞান দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন ভেবেছিলেন অন্তত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী উনার নিকট জানতে চাইবেন তিনি কিভাবে অর্থ পাচার রোধ করতে যাচ্ছেন? কিন্তু সেই আশায়ও গুড়ে বালি, কারন তার সরকাওে মধ্যে পাচারকারীদেও প্রতিনিধিত্ব বিদ্যমান। অতএব তিনি যতো কথাই বলুন না কেন নিজ দেশেই তার এই কথার কোন মূল্য নেই।

ইমারন খানের সাধারণ অধিবেশনের বক্তৃতার অনেকটা জুড়েই ছিলো আন্তর্জাতিক ভাবে চলমান ইসলামোফোবিয়া নিয়ে, ভেবেছিলেন মুসলিম বিশে^ তিনি নতুন পরিত্রানকর্তা হিসেবে অবতীর্ণ হয়ে যাবেন। গত ১০ মাসে কোন মুসলিম রাষ্ট্র তার এই বক্তৃতার জন্য কোন বাহবা দিয়েছে আমার জানা নেই, এখানেও তিনি ফ্লপ। কারণ তার নিজ দেশ পাকিস্তান সহ সমগ্র বিশ^ বিশদভাবে অবগত রয়েছে তার ব্যক্তিজীবনে উগ্রতায় পরিপূর্ন, তিনি কতটুকু দেশীয় সংস্কৃতির সাথে পরিচিত, ধর্মকে তিনি কতটুকু অন্তরের অন্তস্থল থেকে অনুসরন করেন? তার বক্তৃতায় অন্তত এইটুকু স্বীকার করা উচিত ছিলো তার দেশ পাকিস্তান ইসলামোফোবিয়া তৈরীতে কতটুকু অবদান রেখেছে। তবে তিনি এইটুকু স্বীকার করেছেন যে, আশির দশকের শেষ দিকে পাকিস্তান আমেরিকাকে সমর্থন কওে গঠন করেছিলো তালেবান, আশ্রয় দিয়েছিলো আল-কায়দা ও ওসামা-বিন-লাদেনকে কারণ তাদেও যুদ্ধ ছিলো তৎকালীন আফগানস্তানের কমিউনিষ্ট বারবাক কারমাল সরকারের বিরুদ্ধে। ১৯৭১ সনে তিনি তো নাবালক ছিলেনা, তার তো জানা আছে নিশ্চয়ই, পাকিস্তানী সেনাদেও জিঘাংসা চরিতার্থ করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধেও নয় মাসে বাংলাদেশের ৩০ লক্ষ নিরীহ জনগণকে হত্যা করেছে, ২ লক্ষ নারীর উপর পাশবিক নির্যাতন করেছে শুধু ইসলাম রক্ষা অৎুহাতে। সেই ব্যক্তি ইসলামের রক্ষক হতে চাইলে মুসলিম বিশ^ কিভাবে তাকে গ্রহন করবে।

বক্তৃতার শেষ অংশে ছিলো কাশ্মীর সংকট নিয়ে, তিনি বলেছিলেন ভারত আশি লক্ষ মুসলিমকে বন্দী কওে রেখেছে। ২২ জুলাই ২০২০ তারিখে ফোনালাপে তিনি বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট উপস্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু সমর্থন পান নাই। তিনি তার জাতি সংঘের বক্তৃতায় বলেন, ভারত গত ৩০ বছওে প্রায় নব্বই হাজার কাশ্মীরিকে হত্যা করা হয়েছে। তাকে মনে করিয়ে দিতে চাই, ১৯৭১ সনের ২৫ মার্চেও পূর্বে আপনার দেশের সেনাবাহিনী বাংলাদেশের জনগনকে শুধু বন্দী কওে রাখে নাই, সেই ২৫ মার্চেও এশরাত্রিতেই নৃশংসভাবে হত্যা করেছে এক লক্ষের অধিক নিরীহ ছাত্র জনতাকে অপারেশন সার্চ লাইটের মাধ্যমে। যখন পীর, সুফী বা সাধকের মতো করে কথা বলেন তখন আয়নায় নিজের চেহেরাটা দেখলে ভালো হয়। অন্তত আপনার বক্তৃতায় স্বীকার করতে পারতেন পাকিস্তানের বর্বও সেনাবাহিনী কিভাবে সবুজ বাংলাদেশ কে নরহত্যা কেন্দ্র তৈরী কওে দিয়েছিলো। বাংলাদেশের জনগনের বৃহৎ অংশ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী তথাপী কাশ্মীরের হিন্দু পন্ডিতদেও উপর সহিংসতার প্রতিবাদ কওে যেমনটি কওে কাশ্মীরের কোন নাগরিক যদি শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের কারনে অন্যায় ভাবে নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়।

আমরা সকলেই জানি ১৯৭১ সনের চিহ্নিত রাজাকার, হত্যা ও ধর্ষনকারী কাদেও মোল্লার বিচারের রায় কে কেন্দ্র গড়ে উঠা ২০১৩ সনে শাহবাগ আন্দোলন কে পাকিস্তানী গনমাধ্যমে কিভাবে সমালোচনা করেছিলো কারণ তাদের প্রিয় বন্ধুদের দোষ প্রমাণিত হতে যাচ্ছিলো। শেখ হাসিনা সরকার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অপরাধ আদালত, ও উচ্চ আদালতের প্রদেয় রায়ের উপর ভিত্তি সাজাপ্রাপ্ত মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদেও বিরুদ্ধে রায় কার্যকর করছিলো অথচ সরকারী মদদে পাকিস্তানের রাস্তায় মিছিল করেছিলো রাজনৈতিক কর্মীরা পাকিস্তানী বন্ধুদের প্রান রক্ষার জন্য। সেই দিন পাকিস্তানের পার্লামেন্ট ঘৃনা প্রকাশ করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রেজুলেশন পাশ করেছিলো। সেই পার্লামেন্টে রেজুলেশন পাশের সময় আপনি ইমরান খান কি বক্তৃতা দিয়েছিলেন, নিশ্চয় ভুলে যাবেন না। অনেকে পার্লামেন্ট সদস্য বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করার আহবান জানিয়েছিলেন। সেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বা রাজনীতিবিদ এবং বিশ্লেষকগণ কিভাবে মনে করছেনর শেখ হাসিনার সরকার এক টেলিফোনেই আপনাদেও হৃদয় থেকে গ্রহন কওে নিয়েছেন এবং ভাবছেন ‘One National Two Country’|

আলোচনার অন্য দিকটি হচ্ছে ভারত, এই ফোনালাপের পর মনে হয়েছে পার্শবর্তী পোষ্যরাষ্ট্র (?) টি হয়তো হাতছাড়া হয়ে গেল। কেন হাতছাড়া হবে, কেনই বা মনে করা হয় বাংলাদেশ ভারতের হাতের মধ্যে অবস্থা করা রাষ্ট্র। তাহলে তো পাকিস্তানের সমালোচনা Bangladehs is the Extention of India’ টি সত্যি প্রমাণিত হচ্ছে। গনমাধ্যমের বিতর্কে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ কে নেপালের বর্তমান অবস্থানের সাথে তুলনা কওে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। জুলাই ২২, ২০২০ এর পরপরই পত্রিকা গুলি বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করতে শুরু করলো, কেন বাংলাদেশ চীন বা পাকিস্তানমুখী হয়ে পড়ছে। প্রথমত প্রশ্ন হচ্ছে, ভারতীয় বিশ্লেষক কিংবা রাজনৈতিক আলোচকদেও ভাবনায় কি নেই বাংলাদেশ এশটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। পাকিস্তানী শাসন ও শোষন থেকে মুক্তির জন্য বাংলাদেশের জনগনের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান, তাদেও জনগণ ও সশস্ত্রবাহিনীর যে ত্যাগ নিশ্চয়ই কোন দিন শোধ হবে না। সেই কারনে রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও জনগন ভারতের নিকট চির কৃতজ্ঞ। কিন্তু বন্ধুত্বেও মধ্যে বিশ্বাস থাকা চাই, বাংলাদেশ যদি নিজ দেশের স্বার্থে অন্য কোন রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক তৈরী কওে সেখানে অকৃতজ্ঞ হওয়ার তো কোন আবহ সৃষ্টি হয় না কিংবা অন্য কোন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে তুলনা করা উচিত হবে না। বাংলাদেশের সরকার ও জনগনের মধ্যে ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতি ও গতিবিধির অনেক বেশী প্রভাব রয়েছে যা পাকিস্তানের কোন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতি করতে পাওে না। তাই বন্ধুপ্রতিম দেশ গুলি যখন নিজ দেশের কোন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহন কওে তখন পাশর্^বর্তী রাষ্ট্রগুলির সরকার ও জনগনের আবেগ অনুভুতিকে অবশ্যই বিশ্লেষন করতে হবে।

সবশেষ, পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর (শুধু রাজনৈতিক নয়) নিজ দেশে আচার আচরন এবং ১৯৭১ সনের পূর্বে এদেশের জনগন দেখেছে এবং অভিজ্ঞতা পেয়েছে। সেই চারিত্রীক বৈশিষ্টের কিছু কিছু এক্সটেশন যে এষনও বাংলাদেশে নেই তা বলা যাবে না। ’ধামরা হবো তালেবান, বাংলা হবে আফগান’ এমন স্লোগানের পৃষ্ঠপোষকতা এষনও হয়। অতএব ভারত বাংলাদেশের জনগন ও সরকারের মধ্যে মৈত্রী বন্ধন তৈরীতে ধর্মীয় উগ্রতাকে স্থান দিলে তা অবশ্যই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে উভয় দেশ ক্ষতিগ্রস্থ হবে। আমাদেও এই অঞ্চলের অনেক সমস্য রয়েছে যেমন দরিদ্রতা, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, কর্মহীন জনগোষ্ঠী, দুর্নীতি, গনতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গুলির দক্ষতা বৃদ্ধি ইত্যাদি যা দুই দেশ একসাথে সমাধানের প্রচেষ্টা করতে হবে। সেখানে মৌলবাদী ও পাকিস্তানী চিন্তা চেতনায় প্রভাবিত প্রোপাগান্ডার পিছনে না গিয়ে দু’দেশের নিয়মিত আলোচনা, জনগনের অবাধ যাতায়াত, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ভাব বিনিময় অনেক বড় বড় সমস্যা ও জনগনের মধ্যে অবেগীয় চিন্তার অবসান করতে সক্ষম হবে।