কোভিড-১৯ এর প্রভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের জীবন-জীবিকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ব্র্যাক

69
Social Share

কোভিড-১৯ এর প্রভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের জীবন-জীবিকা। তাদের অনেকে কাজ হারিয়ে এখন বেকার। এ অবস্থায় কোভিড-১৯ এর প্রভাবে যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে এসেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। রানা প্লাজায় অধিকতর ক্ষতিগ্রস্ত এরকম ২৩ জন মানুষের হাতে চেক তুলে দেয়া হয়।

সম্প্রতি সাভারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই চেক প্রদান করা হয়। তাদের হাতে চেক তুলে দেন সাভার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাজহারুল ইসলাম। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির স্থানীয় এবং প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে মোঃ মাজহারুল ইসলাম বলেন, রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে ছিলো সরকার। আমি ব্র্যাককে ধন্যবাদ জানাই এইসব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্য।

ব্র্যাক হিউম্যানিটারিয়ান প্রোগ্রামের আওতায় একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এই সহায়তা দেওয়া হয়। চলমান এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন ১১০ জন। এদের মধ্য থেকে কোভিড-১৯ এর প্রভাবে যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন- এরকম ৭৫ জনকে অর্থ সহায়তার আওতায় আনা হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জীবিকার চ্যালেঞ্জ, জীবনমান উন্নয়ন, বিদ্যালয়গামী মেধাবী সন্তানদের শিক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা-এইসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এসব বেশি ক্ষতিগ্রস্তদেরকে এই সহায়তার জন্য নির্বাচন করা হয়। কোভিড-১৯ এ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উল্লিখিত ২৩ জনসহ ইতিমধ্যে মোট ৭০ জনকে এই সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বাকিদের পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত: ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর ৩৩ জেলার ৭৮৫ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জীবিকা সহায়তা দিয়েছে ব্র্যাক হিউম্যানিটারিয়ান প্রোগ্রাম। ১৬০ জন মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাসেবা এবং যাদের অঙ্গহানি হয়েছে তাদের কৃত্রিম অঙ্গ দেয়া হয়। পাশাপাশি ৭৩৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে দুর্ঘটনার মানসিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে দেয়া হয় মনোসামাজিক কাউন্সেলিং সেবা।

২০১৩ সালে ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধ্বসে প্রায় ১১০০ জন মানুষ মারা যান এবং প্রায় দুই হাজারের বেশি মানুষ আহত হন। ওই ঘটনার পর সরকারের পাশাপাশি আহত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ব্র্যাক।