কোভিড ১৯ঃ নদী চরে নারীর যুদ্ধ ”করোনা থেকে বন্যা”

Social Share

এম বি আখতার

উন্নয়ন কর্মী ও বিশ্লেষক

”বার বার বন্যা আর করোনার প্রভাবে চরের বেশীর ভাগ পরিবার এখন আর তিন বেলা রান্না করি না, সকালে গরম ভাত খাই, দুপুরে কোন ভাবে পার করি আর সন্ধ্যায় হালকা পাতলা দিযে চালিয়ে নিই। না হলে আল্লাহ্্র গজব মোকাবেলা করা যাবে না” বলছিলেন ফুলছড়ি উপজেলার বাড়িয়াকান্দি চরের একজন নারী। করোনায় শহরাঞ্চলের দরিদ্রদের সমস্যা ও চিকিৎসা সংকটের কথা মূলধারা ও সামাজিক গণমাধ্যমে বিশদ আলোচনা হলেও চরের কথা অজানাই রয়েছে। কারণ নদী চরগুলি মূল ভুখন্ড থেকে বিছিন্ন, যাতায়াতের মাধ্যম হচ্ছে নৌকা ও পা হাটা পথ। বর্ষাকালে যাতায়াত কিছুটা সহজ, খড়া কিংবা শীত মৌসুমী নৌকা গ্রাম পর্যন্ত যায় না, মাইলের পর মাইল হেটেই চরে পৌছাতে হয়। যমুনা, বহ্মপুত্রর অববাহিকায় শত শত ছোট বড় চরে লক্ষ মানুষের বসবাস। নারীর জীবন শুরু এবং শেষ হয় এই চরের মধ্যেই যদিও পুরুষদের বাহিরে আসার সুযোগ রয়েছে অনেক। প্রতিনিয়তই চরের পরিবার গুলিকে মোকাবেলা করতে হয়, বন্যা, খড়া, ঝড়, নদী ভাঙ্গনের। জলবায়ূ পরিবর্তনের ফলে এই সমস্যার বাড়তি যা মোকাবেলার করার দক্ষতা, জ্ঞান ও অর্থনৈতিক সামর্থ কোনটাই নেই এই চরবাসীর। পরের জমিতে বসবাস, জোতদারদের কাছে লিজে জমি নিয়ে চাষাবাদ। চরের প্রায় ২০ ভাগের অধিক পরিবার হচ্ছে নারী প্রধান অর্থাৎ স্বামীর মৃত্যু হয়েছে অথবা স্বামী কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে শহরে গিয়ে বছরের পর বছর আর ফেরত আসেন নাই। ফলে নারীকেই পরিবারের সন্তানদের জীবন পরিচালনা ও খাদ্যের সংস্থানের জন্য মাঠে কাজ করতে হয়। লাল ও কাঁচা মরিচ, ভুট্টা, হলুদ, মাস-কালাইয়ের ডাল চরাঞ্চলে বেশী উৎপাদিত হয়, এই উৎপাদন ও বাজারজাত প্রক্রিয়ার সাথে নারীর অংশগ্রহন অনেক বেশী। গরু মোটাতাজা করণ, দেশী মুরগী উৎপাদনের সাথে চরের হাজার হাজার নারী সম্পৃক্ততা রয়েছে। চরের জমি ব্যবস্থাপনা, বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের কারণ সহ অন্যান্য চ্যালেঞ্জ গুলি নিয়ে আরেক দিন লিখবো আজকে শুধু করোনাকালীন সময়ে বন্যায় চরের নারীদের জীবন ও জীবিকা সম্পর্কে কিছু অভিজ্ঞতা তুলে ধরছি।

চরে নারীর আয়ের অন্যতম পথ হচ্ছে মরিচ ক্ষেতের পরিচর্যা ও মরিচ তোলার কাজে সম্পৃক্ততা। মরিচ ক্ষেতের পরিচর্যার সময় তাদের মুজুরী সাধারণত ১২৫-১৫০ টাকা হয়ে থাকে। এবং পরিপক্ক মরিচ তোলার সময় মুজুরী, এক বস্তা মরিচ বিপরীতে ৩-৪ কেজি মরিচ যা একজন নারী প্রতি ৪-৫ বস্তা মরিচ তুলতে সক্ষম। অথচ কোভিড ১৯ পরিস্থিতিতে এবারের ঘটনা হয়েছে ভিন্ন, কারণ ঢাকা বা অন্যান্য বড় শহরে কর্মরত প্রায় সকল পুরুষ চরে ফিরে এসেছে। তাদের কাজ নাই, বেকার, তাই তারাও এখন মরিচ তোলার মতো কাজে জড়িয়েছে। ফলে বস্তা প্রতি ৪ কেজি মরিচ মুজুরী হয়েছে বস্তাপ্রতি মাত্র ২ কেজি, কামলা (মুজুর) বেশী কাজ কম। অন্যান্য বছর একজন নারী শুধু এক মরিচের মৌসুমে ১২-১৪ হাজার টাকা আয় করতো সেখানে এবছর সেই আয় হয়েছে ৪-৫ হাজার টাকা মাত্র। আবার সেই টাকাও পরিবারের খাদ্যের পিছনে ইতিমধ্যেই ব্যয় হয়ে গেছে। একজন নারী বললেন, প্রতি বছর এই টাকা থেকে কখনও জমি লিজ নিয়ে আবাদ করি অথবা ছাগল, ভেড়া ক্রয় করে পালন করি কিন্তু এবারের টাকা স্বামীর হাতে দিয়ে দিতে হয়েছে পরিবার আর সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে। এই টাকা যদি স্বামীকে না দেই তাহলে তো পরিবারে অশান্তি শুরু হয়ে যাবে, গালাগাল হবে, সন্তানদের সামনে এগুলি সহ্য করা যায় না, তাই নিজের হাতে টাকা না রেখে স্বামীকে দিতে বাধ্য হয়েছি। স্বামীর হাতে টাকা না থাকলে তাদের মাথা ঠিক থাকে না, কি করবো।

কৃষিকাজ নির্ভর পরিবার গুলির অবস্থা স্বাভাবিক সময়ে ভালো ছিলো, মাঠে মুজুরীর দাম ছিলো, আবার অনেকেই দু’একটা গরু বর্গা নিয়ে পালন করতো কুরবাণী ঈদের সময়ে বেশী দামে বিক্রি করে কিছু লাভ আসতো। সেই জীবিকার পথ গুলিও এই করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেমন বরো ধান কাটার জন্য যেখানে বিঘা প্রতি মুজুরী ছিলো প্রায় ৩০০০-৩২০০ টাকা অথচ এবারে সেই মুজুরী নেমে আসে মাত্র ১২০০ টাকায় তাও আবার গৃহস্থ মুজুরী বাড়ানো নিয়ে আলোচনা করতে রাজী নয়। কারণ কাজ হারানো শহর থেকে আসা মানুষ গুলিও মাঠের কাজে মুজুরী দিয়ে জীবিকার পথ খুজেছে। একজন নারী তার কথা বলেন, ”গত অগ্রহান মাসে ৭৫,০০০ টাকা দাম ঠিক করে একটি গরু বর্গা নিয়েছিলাম। ভাবছিলাম কুরবানীর সময় বিক্রি হবে অন্তত ৯০,০০০ টাকায়। কিন্তু করোনার সময়ে গরুর খাবার ঠিক মতো দিতে পারি নাই তাই এখন সেই গরুর দাম বলছে মাত্র ৫৫,০০০ টাকায়। এরমধ্যে বন্যা শুরু হয়েছে এখন সেই গরুর দাম বলছে মাত্র ৪৫,০০০ টাকা” অথচ শহরের গরুর মাংসের দাম তো কমে নাই। অনেক নারী দেশী মুরগী পালন করলেও গত করোনা সংক্রান্ত সাধারণ ছুটির সময়ে কমদামে মুরগী বিক্রি করেছে। কুড়িগ্রাম অঞ্চলের চরের নারীরা স্বল্প পরিসরে দু’একটি গরু পালন করেন এবং উৎপাদিত দুধ স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে ছোট খাটো চাহিদা পূরন করেন। কিন্তু আশর্য্যর বিষয় হচ্ছে করোনা আতঙ্কে আর বন্যার কারণে গোয়ালারা চর থেকে ৩০ টাকা লিটারের উর্দ্ধে দুধ ক্রয়ে আগ্রহী হচ্ছে না ফলে উৎপাদিত দুধ নষ্ট হচ্ছে। অথচ কুড়িগ্রাম উপজেলা কিংবা ইউনিয়ন পর্যায়ের অনেক দোকানে ব্রান্ডের প্যাকটজাত দুধ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা লিটার।

নারীর কথা এই করোনা ও বার বার বন্যা আমাদের ঘরে বন্দী করেছে, অন্য সময়ে নিজেদের জমানো টাকা হাতে থাকতো শহরে গেলে নিজের পছন্দ মতো এটা সেটা কিনতাম কিন্তু আজকে জমানো টাকা হাত থেকে বেড় হয়েছে কিছুই করতে পারি নাই কারণ সন্তানের ক্ষুধার তো মায়েরা সহ্য করতে পারে না। অনেকেই কিছু কিছু ধার দেনাও করে ফেলেছে যা শোধ করার চিন্তায় অস্থির, আবার সব সময় মনে টেনশন থাকে স্বামীদের গালমন্দ কখন হয় ঠিক নাই। তাদের কথা, আজকে চরের কোন পরিবারে তিন বেলা রান্না হয়, খাবার বাঁচানোর জন্য পাশাপাশি বন্যার কারনে একবেলা রান্না করে দিনটা পার করি। এই কষ্টের কথা তো বাহিরে বলা যায় না তবুও বলছি কারণ দিন শেষে কষ্ট নারীর উপর দিয়ে যায়। লক্ষ কোটি টাকার সরকারী বাজেটের সামনে তাদের ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশী না তারপরেও তাদের জীবন জীবিকার জন্য এই ক্ষতি অনেক বেশী কারণ তা পুরনের জন্য তো কোন প্রকার প্রনোদনা হয়তো আসবে না।  একজন নারী বলেন ”এই ক্ষতির কথা তো কেউ শুনতে চায় না, কয়েক টাকার রিলিফ দিয়ে আমাদের এই ক্ষতি কি পোষাবে”? নারীর সেই প্রশ্নের উত্তর খুব সহজে দেয়ার ক্ষমতা হয়তো নীতি নির্ধারকদের রয়েছে তবে সেই উত্তর তাদের কাছে কখন পৌছাবে জানা নেই। মোবাইলের মাধ্যমে এই ধরনের পরিবার গুলিকে ২৫০০ টাকা দেয়ার কথা কিন্তু তাদের নাম লিষ্ট হলেও সেটি এখনো পৌচ্ছে নাই। ফুলছড়ি উপজেলার টেংড়াকান্দি চরের একজন বললেন আমাদের চরের ৩০০ পরিবারের মধ্যে মাত্র একজন এই সহায়তা পেয়েছে যেখানে অর্ধেক পরিবার এটি পাওয়ার কথা। স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিগণও তাদের উপর নাখোস কারন তারা সরাসরি স্থানীয় এনজিও গুলি থেকে রিলিফ পাচ্ছে, তাই সরকারী রিলিফ পেতে তাদের স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারদের নিকট থেকে কটু কথা শুনতে হচ্ছে। বড় উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীর সরকারী প্রনোদনা সহজে পৌছালেও, অথচ চরের নারীদেও সরকারী প্রনোদনার স্কিম কি হতে পাওে সেই বিষয়ে নীতিনির্ধারকের বা সুশীল সমাজের সময় কি হবে?

যে সকল পরিবারের পুরুষ শহরে রিক্সা/ভ্যান বা মুজুরী করে পরিবার চালিয়েছে সংসার চালালেও আজকে তাদের জীবন বিপর্যস্ত। প্রায় তিন মাস থেকে পুরুষরা বাড়ীতে, কাজ নাই, অনেকে সময় কাটানোর জন্য তাস ও জুয়া খেলায় আসক্ত হচ্ছে। পরিবারে আজকে অশান্তি বেশী কারণ স্বামীরা খাবার সময়ে বাড়ীতে এসে সঠিকভাবে খাবার না পেয়ে স্ত্রীর উপর নির্যাতন করছে, অশান্তি সহ্য করতে না পেওে নারী প্রতিবাদ করছে ফলে শারিরীক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। চরের নারী প্রধান পরিবার গুলির বর্তমান অবস্থা আরও করুন। মাঠে কাজ নেই, যা আছে সেগুলিও পুরুষরাই কম মুজুরীতে কাজ করছে, নারীদের কামলা নিতে গৃহস্থ আগ্রহী হচ্ছে না। এই নারীদের কষ্টের কথা স্থানীয় সরকারের চেয়ারম্যান মেম্বারদের কাছে পৌচ্ছাছে না। বিধবা ভাতা কিংবা অস্বচ্ছল তালাকপ্রাপ্ত নারীদের ভিজিডি কার্ড পাওয়ার জন্য বড় ধরনের খরচ হয় (চরের ভাষায় ওপেন সিক্রেট) সেই টাকা জোগাড় করতে না পারায় খুব সহজে তারা কার্ড পাচ্ছে না। এই করোনার সময়ে সরকারী ত্রান পেতে এই নারীদের অনেক ঝক্কি ঝামেলা পাহাতে হয়েছে। ফুলছড়ির দেলুবাড়ীয়া চরের এক নারী বললেন সরকার মোবাইলের মাধ্যমে ২৫০০ টাকা দরিদ্রদের দিয়েছে সেই খবর তাদের কাছে নেই । একটু অবস্থা সম্পন্ন পরিবার গুলির সহায়তা, স্থানীয় এনজিওদের সহায়তায়, অনেক গ্রামে এনজিওদেও তৈরী ফুড ব্যাংক রয়েছে তাদের সহযোগিতায় এই নারী প্রধান পরিবার গুলির জীবন টিকে আছে। কিন্তু করোনার পূর্বে এই নারীদের যে স্বতন্ত্র সামর্থ ছিলো, কাজ করে জীবন ধারনের সুযোগ গুলি আজেকে তা অনেক সীমিত হযেছে, তারা পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, ভবিষ্যতের ভাবনা করার মতো সক্ষমতাও যেন তারা হারিয়ে ফেলছে। পাশাপাশি বার বার বন্যা নারীদের কাছে মনে হয়েছে এক জীবনে কতো বিষ পান করবো ভগবান।

করোনার প্রদূর্ভাবের পাশাপাশি চরের মানুষের মধ্যে নতুন সংকট তৈরী হয়েছে নদী ভাঙ্গন, এবারের বর্ষার শুরুতেই অতিবৃষ্টি ও উজানের পানি প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধার অনেক চরে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি উজানের পানিতে ঘরবাসী ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বার বার, গরু হাঁস মুরগী আর বাড়ীতে রাখার কোন অবস্থা নেই। ভাঙ্গন কবলিত পরিবার গুলির অনেকেই স্থানীয় বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে, অনেকে বড় গৃহস্থের কাছে একটু উচু জমি নিয়ে নতুন বসত ভিটা করার চেষ্টা করছে। অনেকে ভাঙ্গনের আশংঙ্কায় ঘর বাড়ি সরিয়ে নেয়ার কথা ভাবছে সেটিও একটি নতুন ঝামেলা, কারণ ঘর ভাঙ্গার খরচ আছে আর অনেক নারী প্রধান পরিবার গুলোতে সামর্থ পুরুষ না থাকায় কামলা নিতে হচ্ছে, তাদের মুজুরী দেওয়া, নতুন জায়গা লিজ নেয়ার অর্থ না থাকায় হতাশ হয়ে পড়ছে। এবারের ভাঙ্গনের অভিজ্ঞতা হচ্ছে, পাড়া প্রতিবেশীর সহযোগিতা অনেক কম, অনেক আম, কাঠাল গাছের ফল সহ নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে কিন্তু গাছ গুলি কেটে দেয়ার মতো সহায়তা পাওয়া মুসকিল কারন করোনার ভয়ে মানুষ এগিয়ে আসছে না। চরের নারীদের কথায় জানা যায়, অনেক পরিবারে মৃত্যুতে মেয়েরা কোন ভাবেই পুরুষদেও ভয়ে কাঁদতে পারছে না, মৃত্যুর খবর কাউকে না জানিয়ে ২-৩ ঘন্টার মধ্যে সৎকারের ব্যবস্থা করছে। কোন মায়ের সন্তান প্রসবের ব্যাথা শুরু হলেও পুরুষরা স্থানীয় কোন চিকিৎসককে জানাতে চাচ্ছে না কারণ ঝামেলা হবে। প্রসবকালীন মাতৃ মৃত্যুর কোন তথ্যা পাওয়া যায় নাই তবে প্রবসজনিত জটিলতা অনেক বেশী হলেও হাসপাতালে না নেয়ায় প্রসবের সময়ে মায়ের অনেক কষ্ট হচ্ছে, অনেক শিশু জন্মদানের জটিলতায় মৃত্যু হয়েছে। স্কুল বন্ধ, ছাত্র/ছাত্রীরা বাড়ীতে, কোন ভাবে আর বইয়ের কাছে যাচ্ছে না, টেলিভশন নেই, ইলেট্রিসিটি নেই, যদিও অনেক বাড়ী এখন সোলার প্যানেলে বিদ্যুৎ চলছে কিন্তু তাতে টেলিভিশন চালানো যায় না ফলে টেলিভিশনে যে ক্লাশ চলছে তা থেকেও চরের ছাত্র/ছাত্রীরা বঞ্চিত। অনেক মায়েদের কথা, সব কিছু ভাল হলে হয়তো ছেলেরা স্কুলে ফিরবে কিন্তু পড়া লেখায় যে বাধা পড়েছে তাতে মেয়েরা আর ফিরতে পারবে কিনা সন্দেহ, হয়তো তাদের ভাগ্যে নির্ধারিত আছে বাল্যবিয়ের আশঙ্কা। এমতবস্থায় চরের মানুষ বিশেষ করে নারীদের কথা, ”আমাদের চরে কারও করোনা হয় নাই তবে বার বার বন্যা আর পেটের করোনায় আমাদের হয়তো মৃত্যু হবে কারন এই ক্ষতি আমরা আগামী ২-৩ বছরেও পুরণ করতে পারবো না। তাই সরকারী ও বেসরকারী উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় যে কাজ গুলি অতিস্বত্বও করা প্রয়োজন তা হচ্ছে,

১। চরের মানুষ গুলির মধ্যে করোনা নিয়ে কিছু অসেচতনতার জন্য যে আতঙ্ক বিরাজ করছে সে গুলি দূর করার জন্য স্বাস্থ্য বিধির উপর নিবিড় প্রচারাভিজানের প্রয়োজন রয়েছে।

২। গরু পালনে গুরুতর সমস্যা হচ্ছে গরুর চর্মরোগ, প্রাণী সম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকগণকে স্থানীয় সরকার এবং স্থানীয় এনজিওদের সাথে সমন্বয় করে চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করা জরুরী।

৩। চরের নারীদের কর্তৃক গৃহিত এনজিওদের ঋনের উপর প্রদেয় সুদ মওকুফ করে নতুন ঋন প্রদান করে পূর্বে গৃহিত ঋনের সমন্বয় করা, অন্যথায় মহাজনি ঋনে নারীরা জর্জরিত হতে বাধ্য।

৪। চরে বসবাসরত অন্তত ত্রিশ ভাগ নারী বিশেষ করে নারী প্রধান পরিবার গুলিকে এককালীন ৫,০০০ টাকা জীবন জীবিকার প্রনোদনা হিসেবে প্রদান করা এবং আগামী ২ বছর দক্ষতা ও কারিগরি সহযোগিতা করা যেন তাদের নিজস্ব সঞ্চয় অন্তত ১৫,০০০ টাকা তৈরী যা পরিবারের আপদকালীন তহবিল হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

৫। বন্যার পরপরই নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে রাস্তা ও নদী বাঁধ গুলিতে মাটি কাটার কাজ শুরু করা যেতে পারে ফলে নারীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে পাশাপাশি বন্যা থেকে বাড়ী ঘর রক্ষা পাবে।

৬। কৃষি বিভাগ থেকে চরের প্রতিটি পরিবারকে রবি শস্য চাষের জন্য আগাম সবজি বীজ সরবরাহ করা যেন দরিদ্র পরিবার গুলি প্রাথমিক বন্যার পর পরই আগাম শীতের সবজি আবাদ বাজারজাত করতে পারে।

৭। চরের নারীদের জন্য বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, গর্ভবতী মাতা’র ভাতা সহ ভিজিডি ও ভিজিএফ কার্ড বিতরনে স্বচ্ছতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশাসন সহ সুশীল সমাজের পরিবীক্ষণ ও প্রতিবেদন প্রকাশ জরুরী।