কে এই মাটির সন্তান দেশবাসী জানে : প্রধানমন্ত্রীকে রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কার সন্তান কোথায় আছেন, কোথায় বিয়ে করেছেন তা দেশবাসী ভালো করেই জানে। দেশের সন্তান কে, কারা এ মাটির সন্তান তা দেশবাসীর অজানা নয়। যাদের সন্তান দেশের বাইরে থাকেন, বাহিরেই বিয়ে করেছেন তারা হয়ে গেলেন দেশপ্রেমী।

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে আজ সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

রিজভী বলেন, শুধু কি গোপালগঞ্জই বাংলাদেশ। গোপালগঞ্জের মাটিই বাংলাদেশের মাটি? বগুড়ার মাটি কি বাংলাদেশের মাটি নয়? ফেনীর মাটি বাংলাদেশের মাটি নয়? রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, খুলনার মাটি বাংলাদেশের মাটি নয়?

তিনি বলেন, জিয়া এবং খালেদা জিয়াই সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। কেননা জিয়াউর রহমানই দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ থেকে রক্ষা করেছিলেন। বিপন্ন গণতন্ত্রকে উদ্ধারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অবিস্মরণীয়।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি রাখা হয়েছে। তাকে জেলের ভেতর হত্যার চেষ্টা চলছে।

দুই সিটি নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের নামে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের বিজয় দেখানো হয়েছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় আওয়ামী পান্ডারা দিনে-দুপুরে দস্যুবৃত্তির মাধ্যমে কারচুপির যত রকমের কৌশল আছে সব প্রয়োগ করেছে এই ভোটে। এই সরকার বাদে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও নগরবাসী এই কারচুপির ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে।

তিনি ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে বলেন, আমি মিস্টার ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বলব- আপনি ভোট কারচুপির এমনই মেকানিজম করেছিলেন যে, আপনি নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। আপনার সুস্থতা কামনা করি। বারবার অসুস্থ হওয়ার পরেও আপনি মিথ্যার ফেরিওয়ালাই থেকে যাচ্ছেন। সৃষ্টিকর্তার কথা বিবেচনা করে অন্ততপক্ষে কিছুটা সত্য কথা বলার চেষ্টা করুন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য মফিজুর রহমান, কৃষকদলের কেন্দ্রীয় নেতা মাইনুল ইসলাম ও কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।