কোভিড মহামারীর মধ্যে দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদুল আজহা উদযাপিত

46
Social Share

ভিনিউজ- ঊর্ধ্বমুখী কোভিড মহামারীর মধ্যে বাংলাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আজ মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে।

অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কার মধ্যেই এবারের ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ঈদকে ঘিরে যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস থাকার কথা তা এবারও ম্লান করে দিয়েছে মহামারি কোভিড-১৯।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ তাঁর পরিবারের সদস্য এবং কয়েকজন সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে বঙ্গভবনের দরবার হলে পবিত্র ঈদুল আজহা’র নামাজ আদায় করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাসভবন গণভবনে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যগণকে ঈদ শুভেচ্ছা জানান এবং রাজধানীর মোহাম্মদপুরস্থ গজনবী রোডের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন কেন্দ্র (মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১) এ বসবাসরত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাগণকে ফলমূল ও মিষ্টান্ন প্রেরণ করেন। সকালে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু, উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার এবং সহকারী প্রেস সচিব এবিএম সরওয়ার-ই-আলম সরকার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এগুলো পৌঁছে দেন।

অদৃশ্য শত্রু মহামারি কভিড-১৯ এর কারণে এবারও ঢাকার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। শত বছরের ঐতিহ্য ঐতিহাসিক কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ময়দানেও ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ঈদের ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের প্রধান জামাত এবার বায়তুল মোকাররম মসজিদেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করা হয়। পাশাপাশি বৈশ্বিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও নিহতদের জন্য দোয়া করা হয়েছে। করোনা থেকে মুক্তির জন্য মুসল্লিরা আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেন।

তবে ঈদের নামাজ শেষে চির পরিচিত দৃশ্য মুসল্লিদের হাত মেলানো ও কোলাকুলির দৃশ্য এবার চোখে পড়েনি। করোনার সংক্রমণ রোধকল্পে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ থেকে বিরত থাকেন মুসল্লিরা।
করোনা মোকাবিলায় ও সংক্রমণ বিস্তার রোধকল্পে সরকারের নির্দেশনায় এবার খোলা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। সারাদেশের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় মসজিদের ভেতরে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে।
আজ সকাল ৭টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে। এতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মো. মিজানুর রহমান। মুকাব্বির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বায়তুল মুকাররম মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আতাউর রহমান।

রাজধানীতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমে পবিত্র ঈদ-উল-আজহা’র জামাতে নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ । মন্ত্রী মহামারিকে পেছনে ফেলে দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছাতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন । তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধারা যে স্বপ্নে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন, দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে আমরা যেন দেশকে সেই স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছাতে পারি।’


অপরদিকে দেশে ১৫ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউনের পর সাতদিন লকডাউন শিথিল করে সবকিছু খুলে দেয়ায় রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রামমূখী মানুষের বাড়ী ফিরতে বাসষ্ট্যান্ড ও লঞ্চঘাট এবং ফেরিঘাটে ছিল উপচে পড়া ভিড়। স্বাস্থ্যবিধি মানার কোন বালাই ছিল না। মাইলের পর মাইল গাড়ীর সারি ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় ছিলো। অনেকে দুরপাল্লার বাসের টিকিট না পেয়ে রাজধানী ঢাকা সিটির যাত্রীবাহী মিনি বাস ভাড়া করেও গ্রামে যেতে দেখা গেছে। এ দৃশ্য গতকাল পর্যন্ত চোখে পড়ার মতো।
অপরদিকে মানুষ ঈদ উৎসবে রাজধানী ছাড়ার কারণে আজ ঢাকার সমস্ত রাস্তাই ফাঁকা দেখা গেছে, কোথাও কোন যানজট বা গণমানুষের কালাহল নেই। তবে যারা এই সাতদিনে বাস, ট্রেন কিংবা লঞ্চের টিকিট পায়নি অথবা কোন কারণে যেতে পারেনি তাদের মধ্যে কিছু কিছু যাত্রীকে আজও ঈদের দিন গ্রামে যেতে দেখা গেছে। তবে সংখ্যাটা খুবেই কম।

এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ দুরপল্লার সড়ক, মহাসড়কও ছিল অনেকটাই ফাঁকা। দুই একটি প্রাইভেটকার, সিএনজি, রিক্সা ছাড়া যাত্রী বাহী কোন বাস ছেড়ে যায়নি।

আর আগামী ২৩ তারিখ থেকে ১৪ দিন কঠোর লকডাউনের ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে দেশ। এ কারণেও শহুরের খেটে খাওয়া মানুষগুলো আয়ের অভাবে, বাড়ী ভাড়া দিতে না পারার কারণেও অনেকে গ্রামে ফিরে গিয়েছে।

অন্যদিকে রাজনীতিবিদদের এবারের ঈদ কেটেছে একেবারে ভিন্নভাবে। প্রতিবছর তারা গ্রামে নিজ নিজ এলাকায় আত্মীয়স্বজন ও জনগণের সাথে ঈদ উদযাপন করেন। কিন্তু এবার মহামারীর কারণে যাতে করোনাভাইরাস না ছড়ায় এজন্য জনগণের কথা চিন্তা করে গ্রামে ফিরে যাননি। তারা রাজধানী ঢাকাতেই যার যার বাসভবন কিংবা স্থানীয় মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। এদিকে ঈদের আগেই তার এলাকায় ঈদ উপহার পাঠিয়ে দিয়েছে ।